বিশ্বের কিছু ফুটবল ক্লাব তাদের স্টেডিয়ামকে বিমানবন্দরের খুব কাছেই স্থাপন করেছে। কিছু ক্ষেত্রে দৌড়ের শেষ লাইন থেকে রানওয়ের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত দূরত্ব কয়েকশো মিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই নিবন্ধে আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, গিব্রাল্টার এবং যুক্তরাজ্যের কিছু ক্লাবের অবস্থান ও দূরত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
স্ট মিরেনের সেলটিকের ওপর জয়লাভের পর অনেক পাঠক জিজ্ঞাসা করেন, কোন দলটি বিমানবন্দরের সবচেয়ে নিকটে? উত্তরটি পাওয়া যায় পেইস্লিতে, যেখানে গ্লাসগো বিমানবন্দর অবস্থিত, এবং স্ট মিরেনের ঘাঁটি ঠিক সেই বিমানবন্দরের পাশে। একইভাবে, বেলফাস্টের গ্লেন্টোরান ক্লাবটি বেলফাস্ট সিটি বিমানবন্দরের সীমানার ঠিক পাশে, আর ইস্টলেই হ্যাম্পশায়ার বিমানবন্দরের প্রান্তে অবস্থিত, যা সাউথহ্যাম্পটন বিমানবন্দরের সঙ্গে সীমানা ভাগ করে। চার্লটন অ্যাথলেটিকের ক্ষেত্রে কিছু ভ্রমণকারী ভাস্কর্যকে পানিতে পার হতে পারে, কারণ তার ঘাঁটি বিমানবন্দরের পার্শ্ববর্তী জলের কাছাকাছি।
আইসল্যান্ডের রাজধানী রেইকিয়াভিকের ভ্যালুর ক্লাবটি সবচেয়ে কাছের উদাহরণগুলোর একটি। গুগল ম্যাপের মাধ্যমে মাপা হলে, বিমানবন্দরের বেড়ার এবং ভ্যালুর স্টেডিয়ামের বেড়ার মধ্যে প্রায় ১৫০ মিটার পার্থক্য দেখা যায়। প্রশিক্ষণ মাঠ থেকে বিমানবন্দরের টার্কের নিকটতম অংশ পর্যন্ত দূরত্ব ২৩০ মিটার, আর কোণার পতাকার থেকে রানওয়ের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত ৩৮০ মিটার। এই মাপগুলো দেখায় যে ভ্যালুরের খেলোয়াড়রা প্রায়ই উড়ন্ত জেটের শব্দের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন।
আইসল্যান্ডের এই উদাহরণটি থেকে বোঝা যায়, বিমানবন্দরের নিকটে অবস্থিত স্টেডিয়ামগুলোতে গেমের সময় শোরগোল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিশেষ দিক বিবেচনা করতে হয়। ভ্যালুরের ক্ষেত্রে, বিমানবন্দরের টার্কের নিকটবর্তী অংশে কোনো বড় আকারের বিমান না ওঠা পর্যন্ত গেমের সময় শোরগোল তুলনামূলকভাবে কম থাকে। তবে, রানওয়ের শেষ প্রান্তের কাছাকাছি হওয়ায় হঠাৎ কোনো জরুরি অবস্থা ঘটলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।
আয়ারল্যান্ডের কক শহরে দুটি ক্লাব বিমানবন্দরের সীমানার সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত। মুনস্টার সিনিয়র লিগের এভারটন এএফসি, ডেনিস ইরউইনের প্রাক্তন দল, কক বিমানবন্দরের সীমানার ঠিক পাশে অবস্থিত। মাঠের পার্শ্বে থাকা বেড়া প্রায়ই ফুটবলকে আকাশে উড়িয়ে দেয়, ফলে কখনও কখনও বলটি বিমানবন্দরের তীরের ওপর দিয়ে যায়। একই রাস্তায় অবস্থিত এএলএসএ পার্ক, যেখানে গ্রীনউড নামের সানডে লিগের দল খেলে, সেটিও রানওয়ের দিকে মুখ করে, ফলে উড়ন্ত বলের ঝুঁকি বাড়ে।
কক বিমানবন্দরের কাছাকাছি এই দুই ক্লাবের ক্ষেত্রে, গেমের সময় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য অতিরিক্ত সীমানা রক্ষাকারী ও নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ করা হয়। মাঠের চারপাশে উচ্চ বেড়া ও নেট স্থাপন করা হয়েছে, যাতে বলটি বিমানবন্দরের তীরের ওপর দিয়ে না যায়। তবুও, কখনও কখনও বলটি বেড়া ভেদ করে উড়ে যায়, যা দর্শকদের মধ্যে হাস্যকর মুহূর্ত তৈরি করে।
গিব্রাল্টার দ্বীপের সব ১২টি ফুটবল দল একই স্টেডিয়ামে খেলে, যা ভিক্টোরিয়া স্টেডিয়াম নামে পরিচিত। এই স্টেডিয়ামটি গিব্রাল্টার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের খুব কাছাকাছি, ফলে প্রতিটি ম্যাচের পর বিমানবন্দরের টার্কের শব্দ শোনা যায়। সব দলই একই মাঠে খেলে, তাই স্টেডিয়ামের অবস্থান ও বিমানবন্দরের নিকটতা সব দলের জন্য সমান।
এই তথ্যগুলো পাঠকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত বহু উত্তরের ভিত্তিতে সংগ্রহ করা হয়েছে। পাঠকরা বিভিন্ন দেশের ক্লাবের নাম ও তাদের বিমানবন্দরের সঙ্গে নিকটতা উল্লেখ করেছেন, যা এই তালিকাকে সমৃদ্ধ করেছে। বিশেষ করে আইসল্যান্ডের ভ্যালুর, আয়ারল্যান্ডের কক ক্লাব এবং গিব্রাল্টারের ভিক্টোরিয়া স্টেডিয়ামকে সবচেয়ে নিকটবর্তী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিমানবন্দরের নিকটে অবস্থিত স্টেডিয়ামগুলোতে গেমের সময় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। বিমানবন্দরের টার্কের নিকটবর্তী অংশে কোনো বড় আকারের বিমান না ওঠা পর্যন্ত গেমের সময় শোরগোল তুলনামূলকভাবে কম থাকে। তবে, রানওয়ের শেষ প্রান্তের কাছাকাছি হওয়ায় হঠাৎ কোনো জরুরি অবস্থা ঘটলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।
এই ক্লাবগুলো তাদের অনন্য অবস্থানের জন্য কিছু সুবিধা ও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়। বিমানবন্দরের নিকটে থাকা মানে ভ্রমণকারী ভক্তদের জন্য সহজে পৌঁছানো, তবে একই সঙ্গে গেমের সময় শোরগোল ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে। কিছু ক্লাবের ক্ষেত্রে, বিমানবন্দরের টার্কের আলো ও সিগন্যাল গেমের সময় দৃশ্যমানতা প্রভাবিত করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, বিশ্বব্যাপী বেশ কয়েকটি ফুটবল ক্লাব তাদের স্টেডিয়ামকে বিমানবন্দরের খুব কাছেই স্থাপন করেছে। আইসল্যান্ডের ভ্যালুর, আয়ারল্যান্ডের কক ক্লাব এবং গিব্রাল্টারের ভিক্টোরিয়া স্টেডিয়াম এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে। এই ক্লাবগুলো গেমের সময় নিরাপত্তা, শব্দ ও ভ্রমণ সুবিধা ইত্যাদি দিক থেকে বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন।
ভবিষ্যতে আরও ক্লাব যদি বিমানবন্দরের নিকটে তাদের ঘাঁটি স্থাপন করে, তবে এই ধরণের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ হবে। পাঠকদের কাছ থেকে নতুন উত্তর পাওয়া গেলে তা আবার এই তালিকায় যুক্ত করা হবে।



