সিটি ফুটবল গ্রুপ (সিএফজি) ২০২৫ সালের শেষ সপ্তাহে মুম্বাই সিটি এফসি-তে তার ৬৫% শেয়ার বিক্রি করে ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম বড় মাল্টিক্লাব নেটওয়ার্ককে ১৩ থেকে ১২টি ক্লাবে কমিয়ে দেয়। এই সিদ্ধান্তের পেছনে সিএফজি একটি বিস্তৃত বাণিজ্যিক পর্যালোচনা এবং ভারতের সুপার লিগ (আইএসএল) এর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা উল্লেখ করেছে।
আইএসএল ২০২৫‑২৬ মৌসুমের সূচনা সেপ্টেম্বর মাসে হওয়ার কথা ছিল, তবে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ) ও তার বাণিজ্যিক অংশীদারের মধ্যে ১৫ বছরের মাস্টার রাইট চুক্তি ডিসেম্বর মাসে শেষ হয়ে যাওয়ার পর নতুন কোনো চুক্তি বা অংশীদার না থাকায় মৌসুমটি কখনই শুরু হয়নি। প্রথমে এটি স্বল্পমেয়াদী দেরি হিসেবে ধারণা করা হয়েছিল, কিন্তু ২০২৬ সালের বর্তমান পর্যন্ত কোনো ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি।
দিল্লিতে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে আইএসএলের নতুন সূচি নির্ধারণের চেষ্টা করা হয় এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা উত্থাপিত হয়। তবে মুম্বাই সিটি এফসির শেষ আইএসএল ম্যাচের এক বছর পরেও এই তারিখটি বাস্তবায়িত হবে কিনা এখনও অনিশ্চিত।
দেরি চলাকালীন রেফারি সমিতি এআইএফএফকে চিঠি লিখে তাদের আয় নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা জানায়, বিদেশি খেলোয়াড়দের বেশিরভাগই দেশে ফিরে এসেছে এবং খেলোয়াড়রা নতুন বছরের শুরুতে সমাধানের জন্য আবেদন করে। নর্থইস্ট ইউনাইটেডের মালিক ও বোলিভুডের অভিনেতা জন আব্রাহাম তার ৩.২ মিলিয়ন অনুসারীর কাছে একটি ভিডিও শেয়ার করে খেলোয়াড়দের হতাশা ও ফিফার হস্তক্ষেপের আহ্বান প্রকাশ করেন।
আইএসএল ক্লাব এফসি গোর মালিক রবি পুসকুরও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানিয়ে দেন যে গোর প্রথম দল সোমবার থেকে কার্যক্রম স্থগিত করেছে এবং সিএফজি’র প্রস্থানকে বর্তমান প্রশাসনের ব্যর্থতার স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তিনি যোগ করেন যে ক্রিকেটের আধিপত্যের কারণে ফুটবলের উন্নয়ন কঠিন হয়ে পড়েছে।
সিএফজি’র প্রস্থান এবং আইএসএলের দীর্ঘমেয়াদী দেরি ভারতীয় ফুটবলের জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। দেশের সবচেয়ে বড় জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক মানের ক্লাব ফুটবলের বিকাশে এখনো বড় বাধা রয়ে গেছে। ক্লাব মালিক, খেলোয়াড় এবং রেফারিরা সকলেই দ্রুত একটি স্থিতিশীল লিগ কাঠামো ও আর্থিক সমর্থন চাচ্ছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন অনিশ্চয়তা না থাকে।
আইএসএলের নতুন সূচি নির্ধারিত হলেও তা বাস্তবায়িত হবে কিনা, সিএফজি’র প্রস্থান থেকে উদ্ভূত আর্থিক ঘাটতি কীভাবে পূরণ হবে এবং ফুটবলের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা কীভাবে পুনর্গঠন হবে, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অনুপস্থিত।
যদি ১৪ ফেব্রুয়ারি ম্যাচ শুরু হয়, তবে তা ভারতীয় ফুটবলের পুনরুজ্জীবনের সূচক হতে পারে। তবে তা সত্ত্বেও, ক্লাবের মালিকদের উদ্বেগ, রেফারির আর্থিক চাহিদা এবং খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ার ঝুঁকি দূর করতে ত্বরিত এবং স্বচ্ছ সিদ্ধান্তের প্রয়োজন রয়েছে।
এই পরিস্থিতি দেশের ক্রীড়া নীতি নির্ধারকদের জন্যও একটি সতর্কবার্তা, যেখানে ফুটবলের জন্য স্বতন্ত্র ও টেকসই পরিকল্পনা গড়ে তোলা অপরিহার্য। বর্তমান সময়ে, আইএসএলের পুনরায় শুরু এবং সিএফজি’র প্রস্থান থেকে উদ্ভূত শূন্যতা পূরণ করা না হলে, ভারতীয় ফুটবলের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে।



