বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ২৯ জানুয়ারি থেকে ঢাকা‑করাচি রুটে সরাসরি সেবা শুরু করবে, যা পাকিস্তানের সঙ্গে এক দশকের বেশি সময়ের পর পুনরায় সংযোগ স্থাপন করবে। প্রথম ফ্লাইটটি ১১ জানুয়ারি চালু হয়ে ১৪ জানুয়ারি শেষ হবে; এরপর নিয়মিত সেবা দুইটি সাপ্তাহিক ফ্লাইটের মাধ্যমে চালু হবে।
পাকিস্তান সিভিল এভিয়েশন অথরিটি এই রুটে উড়ানের অনুমোদন প্রদান করেছে এবং পাকিস্তানের এয়ারস্পেসে নির্ধারিত করিডোরে উড়ার অনুমতি দিয়েছে। অনুমোদন পাওয়ার পর বিমান বাংলাদেশ কয়েক মাস ধরে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছে, যার ফলে এই রুটটি ২০১২ সালের পর প্রথমবারের মতো পুনরায় চালু হচ্ছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ভ্রমণকারী অধিকাংশই দুবাই বা দোহা মত হাবের মাধ্যমে সংযোগমূলক ফ্লাইট ব্যবহার করে। সরাসরি সংযোগের মাধ্যমে যাত্রীদের সময়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক লেনদেনের গতি ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যবসায়িক ভ্রমণ, পর্যটন ও পণ্য রপ্তানি-আমদানি ক্ষেত্রে সরাসরি ফ্লাইটের সুবিধা স্পষ্ট হবে।
বিমান বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রুটটি চালু করার জন্য উভয় দেশের এয়ারলাইন ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন রুটের জন্য দুইটি সাপ্তাহিক ফ্লাইট নির্ধারিত হয়েছে, যা ঢাকা থেকে করাচি এবং ফেরত করাচি থেকে ঢাকায় চলবে। উভয় দিকের সময়সূচি যথাযথভাবে সমন্বয় করা হয়েছে যাতে ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীর চাহিদা পূরণ হয়।
এই পদক্ষেপটি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির প্রতিফলন। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সংলাপের পর উভয় দেশের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়ার লক্ষ্যে সরাসরি বিমান সংযোগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। রুটটি চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দু’দেশের বাণিজ্যিক চুক্তি ও বিনিয়োগ প্রকল্পে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে, সরাসরি ফ্লাইটের সূচনা বিমান শিল্পে নতুন আয় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। বিমান বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক রুটে তার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের সুযোগ দেবে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় গন্তব্যে সম্প্রসারণের ভিত্তি হতে পারে। তবে, নতুন রুটের সফলতা নির্ভর করবে চাহিদা, টিকিটের মূল্য এবং সেবা মানের উপর।
সামগ্রিকভাবে, ঢাকা‑করাচি সরাসরি ফ্লাইটের চালু হওয়া উভয় দেশের ব্যবসা, পর্যটন ও কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। নিয়মিত সেবা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রী সংখ্যা ও বাণিজ্যিক লেনদেনের বৃদ্ধি প্রত্যাশিত, যা এয়ারলাইন ও সংশ্লিষ্ট শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ভবিষ্যতে এই রুটের ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানো এবং অতিরিক্ত গন্তব্য যুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে, যা এশিয়ার আকাশপথে নতুন গতিবিধি তৈরি করবে।



