চীন দ্রুত এআই প্রযুক্তি উন্নয়ন চালিয়ে যাচ্ছে, আর তার শক্তি সরবরাহের সুবিধা যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর সমস্যার সঙ্গে তীব্র পার্থক্য সৃষ্টি করছে। চীনের ডেটা সেন্টারগুলো সস্তা ও প্রচুর বিদ্যুৎ ব্যবহার করে মডেল প্রশিক্ষণ ও সেবা চালাচ্ছে, যেখানে আমেরিকান কোম্পানিগুলো ক্ষমতা ঘাটতির মুখে।
২০২৪ সালে চীনের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ১০,০০০ টেরাওয়াট-ঘণ্টা অতিক্রম করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনের দ্বিগুণের বেশি। এই তথ্য একটি আন্তর্জাতিক শক্তি গবেষণা সংস্থার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুৎ ক্ষমতা চীনের এক-তৃতীয়াংশ মাত্র।
চীনের সরকার পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি বাড়ানোর পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বায়ু ও সোলার ক্ষমতা যথাক্রমে দ্বিগুণ ও প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বায়ু ও সৌর প্রকল্পে ব্যাপক বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানগুলো অনুমান করে যে ২০৩০ সালে নবায়নযোগ্য শক্তি ৫,৫০০ টেরাওয়াট-ঘণ্টা উৎপাদন করবে, যা মোট উৎপাদনের ৪০ শতাংশের কাছাকাছি। এই পরিমাণ চীনের ডেটা সেন্টারের ৪৭৯ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে যথেষ্ট হবে বলে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ চাহিদা বহু বছর ধরে স্থিতিশীল রয়েছে, ফলে নতুন ক্ষমতা নির্মাণে প্রণোদনা কমে গেছে। এ কারণে ডেটা সেন্টারগুলোকে ২০২৫ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে প্রায় ৪৪ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবেলা করতে হবে বলে একটি বিশ্লেষণ সংস্থা অনুমান করেছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের ব্যাকলগও বাড়ছে; ২০২৪ সালের শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মোট ইনস্টল করা ক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ প্রকল্প গ্রিড সংযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। এই বিশাল পরিমাণের প্রকল্পগুলো বিদ্যুৎ সরবরাহের গতি ধীর করে তুলছে এবং নতুন ক্ষমতা যোগ করার সময়সীমা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
চীনের শক্তি সুবিধা স্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য বড় সুবিধা নিয়ে এসেছে। আলিবাবা, বাইদু, টেনসেন্টের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বিশাল ডেটা সেন্টার চালু করে এআই মডেল প্রশিক্ষণ ও ক্লাউড সেবা দ্রুত সরবরাহ করতে পারছে। এদের জন্য বিদ্যুৎ খরচ তুলনামূলকভাবে কম, যা গবেষণা ও উন্নয়নের গতি বাড়িয়ে দেয়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এআই কোম্পানিগুলো উচ্চ বিদ্যুৎ মূল্য ও কঠোর নিয়মের সম্মুখীন। এই শর্তগুলো নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণে বাধা সৃষ্টি করে এবং বিদ্যমান সুবিধাগুলোকে সীমিত করে। ফলে এআই গবেষণার খরচ বাড়ে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় চীনের তুলনায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে।
একটি প্রধান চিপ নির্মাতা কোম্পানির প্রধান নির্বাহী উল্লেখ করেন যে, কম শক্তি খরচ এবং নিয়মের স্বাচ্ছন্দ্য চীনের এআই রেসে অগ্রগতি ঘটাতে পারে। তিনি এ বিষয়ে সতর্কতা প্রকাশ করে বলেন যে, এই সুবিধা চীনের এআই শিল্পকে দ্রুত এগিয়ে নিতে পারে।
একটি এআই গবেষণা সংস্থা পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের এআই নেতৃত্বকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে এমন “ইলেকট্রন গ্যাপ” সম্পর্কে সতর্কতা জানিয়েছিল। তবে বর্তমান বিশ্লেষণ দেখায় যে, উভয় দেশের শক্তি পরিস্থিতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি জটিল, এবং চীনের সুবিধা যদিও উল্লেখযোগ্য, তবু তা সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে পিছিয়ে দিতে পারে না।
সারসংক্ষেপে, চীনের বিশাল ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, আর যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা তার এআই শিল্পের বৃদ্ধিকে ধীর করে তুলছে। এই শক্তি বৈষম্য ভবিষ্যতে এআই বাজারের গঠন ও প্রতিযোগিতায় প্রভাব ফেলতে পারে।



