ঢাকা মধ্য ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ করেছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস.এম. কামাল উদ্দিন হায়দারের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক জটিলতা ও পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাসের ফলে কেন্দ্র পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। নতুন তালিকায় মোট ৫০৭টি কেন্দ্র সক্রিয়, যার মধ্যে বিদেশে সাতটি কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্বে নির্ধারিত ১৭টি মূল পরীক্ষা কেন্দ্র এবং ২২১টি ভেন্যু কেন্দ্র বাতিল করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হল পরীক্ষার পরিচালনা সহজতর করা এবং সীমিত সম্পদকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা। বাতিলকৃত কেন্দ্রের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বাকি কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষার্থীর বণ্টন আরও সমান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাতিলকৃত মূল কেন্দ্রের তালিকায় ঢাকা শহরের কিছু প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে, যেমন হাজি এম. এ. গফুর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় (ঢাকা‑৬৯), হাজি বিল্লাত আলী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় (ঢাকা‑৭৮) এবং আনোয়ারা বেগম মুসলিম উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় (ঢাকা‑৩০)। এই তিনটি কেন্দ্রের পরীক্ষার ব্যবস্থা এখন আর চালু থাকবে না।
ঢাকার বাইরে রাওয়ান ইনে রমজান স্কুল অ্যান্ড কলেজ (শিবালয়‑২ অধীনে), জয়নগর জুলমত আলী উচ্চ বিদ্যালয়, কামারখালী উচ্চ বিদ্যালয় এবং মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের কেন্দ্রগুলোও বাতিলের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের নতুন তালিকা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
অন্যান্য বাতিলকৃত কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে করটিয়া এইচ.এম. ইনস্টিটিউশন, তালমা নাজিমুদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়, নগরকান্দা‑২ সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, ডামুড্যা‑২ কনেশ্বর এস.সি. এডওয়ার্ড ইনস্টিটিউশন, রাড়ি কান্দি হাজী বাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় এবং চরভাগা বঙ্গবন্ধু আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। এসব প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার কেন্দ্র ২০২৬ সালের এসএসসি থেকে বাদ পড়েছে।
বালিয়াকান্দি‑২ কেন্দ্রের লিয়াকত আলী স্মৃতি স্কুল অ্যান্ড কলেজেও পর্যাপ্ত পরীক্ষার্থী না থাকায় কেন্দ্রটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রিসের এথেন্সে অবস্থিত বাংলাদেশ দোয়েল একাডেমি কেন্দ্রের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পরীক্ষার্থীকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিশেষ বিবেচনায় কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর বেষ্টিত নিকলী ও অষ্টগ্রাম উপজেলার চারটি ভেন্যু কেন্দ্রকে চালু রাখা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোতে এখনও পর্যাপ্ত পরীক্ষার্থী উপস্থিত থাকায় সেগুলোকে বজায় রাখা হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেন্দ্র পুনর্বিন্যাসের মূল উদ্দেশ্য হল স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। নতুন তালিকা বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সহজে তথ্য যাচাই করতে পারেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের নতুন তালিকা অনুসারে পরীক্ষার প্রস্তুতি, সিটিং অর্ডার এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্রুত সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পরীক্ষার দিনগুলোতে কোনো ধরণের অপ্রত্যাশিত সমস্যার সম্ভাবনা কমে যাবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক টিপস: নতুন কেন্দ্র তালিকা অনুযায়ী আপনার পরীক্ষার কেন্দ্র নিশ্চিত করে, পরীক্ষার আগে সিটিং অর্ডার এবং রুট পরিকল্পনা করে নিন। এছাড়া, বোর্ডের ওয়েবসাইটে আপডেটেড তথ্য নিয়মিত চেক করলে শেষ মুহূর্তে কোনো পরিবর্তন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।



