22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজামায়াতের তাহের: সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী এক দলকে সমর্থন করে নির্বাচনকে ঝুঁকিতে...

জামায়াতের তাহের: সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী এক দলকে সমর্থন করে নির্বাচনকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে

বসুন্ধরা সদর দফতরে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে জামায়াতে ইসলামী নায়েব আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের একটি ব্রিফিং পরিচালনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সরকার এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো, যার মধ্যে সেনাবাহিনীরও অন্তর্ভুক্ত, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি অনুকূল মনোভাব দেখাচ্ছে। এই পরিস্থিতি আগামী নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

তাহের বলেন, “যদি সরকার এবং নিরাপত্তা বাহিনী কোনো এক দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করে, তবে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নের মুখে ফেলা যাবে না।” তিনি অতীতের নির্বাচনী সমস্যাগুলোকে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনকে দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষার মূল চাবিকাঠি হিসেবে তুলে ধরেন।

ব্রিফিংয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “একটি ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন না হলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং তা দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে।” তিনি সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে এবং সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে আহ্বান জানান।

সেই দিন সকালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের তিনজন প্রতিনিধির একটি দল জামায়াতে ইসলামী নায়েব আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে বসুন্ধরা অফিসে সাক্ষাৎ করেন। প্রতিনিধিরা নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। সাক্ষাৎ শেষে তারা সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত হয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করেন।

প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে, তাহের আবার মিডিয়ার সামনে উপস্থিত হয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক পাঠানোর পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যবেক্ষক পাঠানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছে এবং জায়ানাতে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে।

তাহেরের মতে, পূর্ববর্তী নির্বাচনে পর্যবেক্ষকের অভাবের ফলে ভোটের অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছতায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এইবার বিদেশি পর্যবেক্ষক উপস্থিত থাকলে নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হবে এবং ফলাফলকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করবে।” তিনি এ বিষয়ে সরকারের সমর্থনকে স্বীকৃতি দিয়ে, উভয় পক্ষের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

এছাড়া, তাহের উল্লেখ করেন যে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন ও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করবে। তিনি বলেন, “নির্বাচনের মাধ্যমে প্রাপ্ত বৈধ ক্ষমতা ব্যবহার করে আমরা রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা রাখব।” এই বক্তব্যে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

তাহেরের মন্তব্যের পর, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে পর্যবেক্ষক পাঠানোর জন্য ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা বাড়াতে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দেন। তারা উল্লেখ করেন, পর্যবেক্ষক দলটি নির্বাচনের সকল পর্যায়ে উপস্থিত থাকবে এবং ফলাফল যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবে।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত অন্যান্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই উদ্বেগকে স্বীকার করে, তবে তারা উল্লেখ করেন যে সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষপাতিত্বের কোনো স্পষ্ট প্রমাণ এখনো প্রকাশিত হয়নি। তবুও, তারা সকল রাজনৈতিক দলকে একত্রে কাজ করার এবং নির্বাচনের ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে শেষ করেন।

সারসংক্ষেপে, জামায়াতে ইসলামী নায়েব আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের বক্তব্যে সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর নির্দিষ্ট দলের প্রতি ঝুঁকির সম্ভাবনা এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক পাঠানোর পরিকল্পনা এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত আলোচনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভবিষ্যতে এই বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান হবে, তা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments