ফরিদপুরে বুধবার সকালেই পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট নজরুল ইসলাম জাতীয় নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ সম্পাদনের লক্ষ্যে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটিকে সহযোগিতা অনুরোধ করেন। তিনি নির্বাচনের আগে মিডিয়া কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে নিরাপদ ভোটদান নিশ্চিত করতে চান।
সেই দিন পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্টের অফিসের সম্মেলন কক্ষে নতুন কমিটিকে ফুলের সজ্জা দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। উপস্থিত সকলের মুখে উষ্ণতা ও সম্মানজনক পরিবেশ দেখা যায়, যা সমন্বয়মূলক কাজের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, নজরুল ইসলাম শান্তিপূর্ণ ভোটদান নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, ভোটারদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংবাদমাধ্যমের সঠিক তথ্য প্রচার ও তৎপরতা অপরিহার্য।
এছাড়াও তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন, মাদকদ্রব্যের নির্মূল এবং অন্যান্য সামাজিক সমস্যার মোকাবিলায় মিডিয়ার সমর্থন চান। এসব ক্ষেত্রে সমন্বিত প্রচেষ্টা ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বাড়াবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী এই আহ্বানে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেন, পুলিশ ও মিডিয়া একসঙ্গে কাজ করলে নির্বাচনী প্রক্রিয়া আরও মসৃণ হবে। তিনি পুলিশ কর্তৃক গৃহীত ইতিবাচক পদক্ষেপগুলোর প্রশংসা করে সকল সাংবাদিকের সহযোগিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
সম্মেলন কক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট শামছুল আজম (প্রশাসন ও অর্থ), অতিরিক্ত পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট (ডিএসবি) মো. রায়হান গফুর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন এবং কোতোয়ালি থানার ওসি শহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি এই সমন্বয়মূলক উদ্যোগের গুরুত্বকে তুলে ধরেছে।
মিডিয়া ও পুলিশ সংস্থার মধ্যে ঐতিহাসিক সমন্বয় নির্বাচনের সময়ে শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পূর্বের নির্বাচনী চক্রে যখন সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ছিল, তখন ভোটারদের নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখা সহজ হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ফরিদপুরে পুনরায় একই ধরণের সহযোগিতা গড়ে তোলার লক্ষ্য স্পষ্ট।
জাতীয় নির্বাচনের তারিখ নিকটবর্তী হওয়ায় সময়ের চাপ বাড়ছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্যায়ে মিডিয়া কর্মীদের সঠিক তথ্য সরবরাহ, গুজব প্রতিরোধ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিবেদন প্রদান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এ সব কাজের জন্য পুলিশ ও প্রেসক্লাবের সমন্বিত পরিকল্পনা ইতিমধ্যে প্রণয়নাধীন।
যদি মিডিয়া ও পুলিশ সমন্বয় সফল হয়, তবে ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা বোধ বৃদ্ধি পাবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো ধরণের হিংসা বা অশান্তি কমে যাবে। এ ধরনের পরিবেশে ভোটারদের অংশগ্রহণের ইচ্ছা বাড়বে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক সূচক।
অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মাদকদ্রব্যের অবসান, সড়ক নিরাপত্তা এবং স্থানীয় বিরোধের সমাধানেও মিডিয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকরা যদি এই বিষয়গুলোতে সচেতনতা বাড়িয়ে তোলেন, তবে সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
নজরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে মিডিয়া ও পুলিশ একত্রে প্রশিক্ষণ ও সমন্বয় সভা আয়োজন করা হবে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যায়। তিনি এ ধরনের প্রস্তুতি ভোটের দিন কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনার সম্ভাবনা কমিয়ে দেবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন।
সমাপনীভাবে, ফরিদপুরের পুলিশ ও প্রেসক্লাবের এই সমন্বয়মূলক উদ্যোগ দেশের বৃহত্তর নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে। উভয় পক্ষের সহযোগিতা যদি ফলপ্রসূ হয়, তবে দেশের অন্যান্য জেলা ও শহরে একই রকম সমন্বয় গড়ে তোলার জন্য একটি উদাহরণ স্থাপন হবে।



