ঢাকা, ৭ জানুয়ারি – চিফ অ্যাডভাইজারের বিশেষ সহকারী মনির হায়দার আজ সিএইআরডিএপি অডিটোরিয়ামে শুশাসনের জন্য নাগরিক (শুজান) সংগঠিত “রেফারেন্ডাম ২০২৬: কী এবং কেন?” শিরোনামের রাউন্ডটেবিল আলোচনায় উল্লেখ করেন, “যদি এই রেফারেন্ডামে ‘হ্যাঁ’ ভোট না জয়লাভ করে, তবে নিশ্চিতভাবে ফ্যাসিবাদ আবার বাংলাদেশে ফিরে আসবে এবং তা থামানো কঠিন হবে।”
মনির হায়দার রেফারেন্ডামের মূল বিষয় হিসেবে “জুলাই ন্যাশনাল চার্টার ২০২৫”‑কে তুলে ধরেন, যা তিনি ফ্যাসিবাদী উপাদানগুলোর পুনরায় উত্থান রোধের জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশিকা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, এই চার্টারটি দ্রুতগতিতে নয়, বরং সরকার, রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের বহু মাসের আলোচনার পর গঠিত হয়েছে।
চার্টারটি, তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৬ বছর ও সামগ্রিকভাবে ৫৪ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত একটি জাতীয় সম্পদ, যা দেশের পরিবর্তনের প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে ফ্যাসিবাদ রোধে সহায়তা করবে। তিনি যোগ করেন, “যদি আমরা এই নীতিগুলোকে জাতীয় জীবনে গ্রহণ না করি, তবে আমরা নিজেই ফ্যাসিবাদকে পুনরায় আমন্ত্রণ জানাব।” এভাবে তিনি রেফারেন্ডামের ফলাফলের সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেন।
অনেক ভোটার রেফারেন্ডামের বিষয়বস্তু নিয়ে অস্পষ্টতা প্রকাশের পর, মনির হায়দার এই বিভ্রান্তির মূল কারণ হিসেবে “নেতিবাচক প্রচারণা” এবং ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্টের ঘটনায় ক্ষমতা হারানো গোষ্ঠী এখনও দুইটি প্রধান শক্তি—চুরি করা অর্থ এবং দেশীয়-বিদেশী স্বার্থের গোষ্ঠীর সমর্থন—রাখে। এই শক্তিগুলো ব্যবহার করে তারা চার্টারটির বাস্তবায়নকে বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন ধরণের প্রচারণা চালাচ্ছে।
রেফারেন্ডামের প্রস্তুতির সময়সীমা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশকারী কিছু মতামতের প্রতিক্রিয়ায়, মনির হায়দার একটি বিস্তৃত জনসচেতনতা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, সহজ ভাষায় রচিত একটি ফ্লায়ার প্রস্তুত করা হয়েছে, যা ইমামগণ শুক্রবারের খুতবায় পাঁচ মিনিট সময় নিয়ে পাঠ করতে পারবেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি গ্রাম ও শহরের মানুষদের মধ্যে চার্টার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে চান।
আলোচনায় তিনি আরও উল্লেখ করেন, রেফারেন্ডামের সফলতা নিশ্চিত করতে মিডিয়া, সামাজিক নেটওয়ার্ক এবং স্থানীয় সংগঠনগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা চালানো হবে। পাশাপাশি, ভোটারদের প্রশ্নের উত্তর দিতে হটলাইন ও তথ্য কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যাতে ভোটাররা সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
মনির হায়দার রেফারেন্ডামের ফলাফলকে দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশের মূল সূচক হিসেবে দেখেন। তিনি সতর্ক করেন, যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট না আসে, তবে ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর পুনরায় উত্থান কেবল সম্ভাবনা নয়, বরং বাস্তবতা হয়ে উঠতে পারে। এ ক্ষেত্রে সরকার ও সমাজের সকল স্তরে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজন হবে, না হলে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অন্যদিকে, রেফারেন্ডামের সমর্থকরা চার্টারকে দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তি হিসেবে দেখছেন। তারা যুক্তি দেন, এই নীতি গ্রহণের মাধ্যমে দুর্নীতি, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং সামাজিক অস্থিরতা কমে যাবে, যা শেষ পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বাড়াবে।
রাউন্ডটেবিল আলোচনার শেষে, মনির হায়দার সকল অংশগ্রহণকারীকে রেফারেন্ডামের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে স্মরণ করিয়ে দেন এবং ভোটারদের সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে আহ্বান জানান। তিনি শেষ করেন, “জাতির ভবিষ্যৎ আমাদের হাতে, এবং এই মুহূর্তে নেওয়া সিদ্ধান্তই আমাদের আগামী দিনের নিরাপত্তা নির্ধারণ করবে।”



