সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত অশেস সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টেস্টে ইংল্যান্ডের জেকব বেটহেল ১৪২* অচল রেখে দলকে ১১৯ রানের সূক্ষ্ম অগ্রগতি দিলেন। দিনটির শেষ স্টাম্পে ইংল্যান্ডের স্কোর ৩০২-৮, যেখানে বেটহেল অবধি অচল ছিলেন। অস্ট্রেলিয়া ৩-১ নেতৃত্বে সিরিজ জিতেছে, তবে শেষ টেস্টের ফলাফল এখনও অনিশ্চিত।
২২ বছর বয়সী বেটহেল, যিনি প্রথম টেস্টে শূন্য সেঞ্চুরি অর্জন করছিলেন, ১৬২ বলের মধ্যে তার শীর্ষ পারফরম্যান্স সম্পন্ন করেন। জাক ক্রলি প্রারম্ভিক আউট এবং জো রুটের দ্রুত আউটের পর তিনি দলকে স্থিতিশীলতা প্রদান করেন। তার শতক পূর্ণ করার মুহূর্তে ইংল্যান্ডের স্কোরে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে।
বেটহেল সেঞ্চুরি অর্জনের পরই ইংল্যান্ডের দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যানের আউট হয়। হ্যারি ব্রুক ৪২ রান করে এবং উইল জ্যাক্স শূন্যে আউট হন, দুজনই বেউ ওয়েবস্টারের অফ-স্পিনে দু’ওভার পরেই বাদ পড়ে। এরপর জেমি স্মিথের দৌড়ে গণ্ডগোল সৃষ্টি হয় এবং তিনি রানআউট হন।
বেঞ্চে থাকা বেন স্টোকস, যিনি তৃতীয় ওভারে গ্রীবের দিকে ঝুঁকে গিয়ে গ্যাংয়ের মতো ব্যথা অনুভব করেন, সাত নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রবেশ করেন। তবে তিনি মাত্র পাঁচ বলের মধ্যে ওয়েবস্টারের আঘাতে আউট হন, ফলে ইংল্যান্ডের শেষ আক্রমণ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
ইংল্যান্ডের জন্য এই জয়টি মানসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা মেলবোর্নে জয় অর্জন করেছিল। অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ইতিমধ্যে ৩-১ নেতৃত্বে রয়েছে এবং অশেস রিটেইন করেছে। শেষ টেস্টের ফলাফল নির্ধারণে এই ম্যাচের শেষ দিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
হোস্ট অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ৫৬৭ রান করে, যার মধ্যে ট্র্যাভিস হেড ১৬৩ এবং অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ ১৩৮ রানের বড় পারফরম্যান্স ছিল। এই বিশাল স্কোরের পর ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস ৩৮৪ রান করে, ফলে তারা ১৮৩ রানের ঘাটতি নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে প্রবেশ করে।
মিচেল স্টার্কের প্রথম ওভারে তিনি আবারও গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন, তার সিরিজের ২৯তম উইকেট হিসেবে জাক ক্রলিকে লবডব্লিউ করে এক রানেই আউট করেন। স্টার্কের এই বলটি ইংল্যান্ডের শুরুর শটকে ব্যাহত করে এবং স্কোরে প্রাথমিক চাপ সৃষ্টি করে।
বেঞ্চে থাকা বেন ডাকেট ৩৮ রান করে ড্রপ হন, তবে পরবর্তী বলেই তিনি মাইকেল (শেষ নাম উল্লেখ না করে) দ্বারা বোল্ডে আউট হন। ডাকেটের এই আউট ইংল্যান্ডের মাঝারি শাটলকে আরও দুর্বল করে দেয়।
বেটহেল এই টেস্টে তার প্রথম শতক অর্জন করেন, যা তার রেড-বল ক্যারিয়ারে একমাত্র শতক। তার পূর্বের সর্বোচ্চ স্কোর ছিল নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৯৬ রান। মেলবোর্নে অলি পোপের বদলে তাকে ডাকা হয়েছিল, যেখানে তিনি কঠিন পিচে ৪০ রান করেন এবং তৃতীয় ব্যাটিং পজিশন নিশ্চিত করেন।
শেষ দিনের খেলায় ইংল্যান্ডের লক্ষ্য হবে অস্ট্রেলিয়ার ওপর অতিরিক্ত রানের পার্থক্য তৈরি করা, যাতে সিরিজের ফলাফল পরিবর্তন করা যায়। উভয় দলই শেষ ওভারে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে, এবং দর্শকরা শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা উপভোগ করবে।



