প্যারিসে অনুষ্ঠিত ‘কোয়ালিশন অব উইলিং’ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের নিরাপত্তা গ্যারান্টি বিষয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের প্রথমবার সমর্থন প্রকাশ করেছে। রাশিয়ার ২০১৪ ও ২০২২ সালের আক্রমণের পর ইউক্রেনের সুরক্ষার জন্য ইউরোপের নেতৃত্বে গঠিত জোট, এখন আমেরিকান রাজনৈতিক ও সামরিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে নতুন মাত্রা পেয়েছে।
সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার কোনো নতুন আক্রমণ বা যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে ইউক্রেনকে দৃঢ় নিরাপত্তা গ্যারান্টি প্রদান করা। এই গ্যারান্টি শুধুমাত্র নীতিগত নয়, বরং আইনি বাধ্যবাধকতা সমেত হবে বলে জোটের নেতারা উল্লেখ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার প্যারিসে উপস্থিত ছিলেন, যেখানে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচও অংশগ্রহণ করেন। গ্রিনকেভিচ পূর্বে ইউরোপের সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিরাপত্তা গ্যারান্টির বিশদ আলোচনা করেছেন।
সম্মেলনের সমাপ্তিতে উইটকফ রাশিয়ার সঙ্গে যে কোনো আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় সমর্থন থাকবে বলে জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন নিরাপত্তা প্রোটোকলগুলো এমনভাবে গঠন করা হয়েছে যাতে কোনো আক্রমণ রোধ করা যায় এবং আক্রমণ ঘটলে তাৎক্ষণিক প্রতিরক্ষা নিশ্চিত হয়। তিনি এটাও যোগ করেন, এই ব্যবস্থা পূর্বে কোনো দেশের জন্য দেখা যায়নি।
কুশনারের মন্তব্যে জোর দেওয়া হয়, যদি ইউক্রেন কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করে, তবে তাদেরকে নিশ্চিত করা হবে যে চুক্তির পরেও তাদের নিরাপত্তা বজায় থাকবে, শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাকবে এবং বাস্তবিক ব্যাকআপ থাকবে যাতে ভবিষ্যতে একই ধরনের যুদ্ধ আর না হয়।
জোটের নেতারা আরও জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ ও যাচাই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে, যেখানে কিইভের মিত্র দেশগুলোও অংশ নেবে। এই প্রক্রিয়ায় ড্রোন, সেন্সর ও স্যাটেলাইটের ব্যবহার হবে, তবে কোনো আমেরিকান সৈন্যের উপস্থিতি থাকবে না।
সম্মেলনের পরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি টেলিগ্রামে একটি বার্তা প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি ইউরোপ ও কোয়ালিশনের সঙ্গে যৌথভাবে প্রকৃত নিরাপত্তা গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই গ্যারান্টি ইউক্রেনের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ও স্বাধীনতার জন্য অপরিহার্য।
রাশিয়া এখনও ইউক্রেনের ভূখণ্ডগত দাবি বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই নতুন নিরাপত্তা গ্যারান্টি তার কৌশলগত অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সমর্থন ইউক্রেনের নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করবে এবং ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানকে পুনর্ব্যক্ত করবে। একই সঙ্গে, এটি রাশিয়ার সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়াবে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, এই গ্যারান্টি ইউক্রেনকে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক পরিকল্পনা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে এবং সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি সরবরাহ করবে।
অন্যদিকে, রাশিয়া এই নিরাপত্তা গ্যারান্টি সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে পূর্বে রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর আক্রমণ চালানোর সময় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা গ্যারান্টিকে অস্বীকার করেছে।
এই সম্মেলন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রতিশ্রুতি ইউক্রেনের নিরাপত্তা নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করে, যা ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের দিক নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।



