বিএনপি কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তরিক রহমান ১১ জানুয়ারি ঢাকায় থেকে রওনা হয়ে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলের নয়টি জেলা পরিদর্শন করবেন। ভ্রমণটি ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরিকল্পিত এবং নির্বাচনী কোডের সীমা মেনে চলার নির্দেশনা রয়েছে।
প্রথম দিন তরিক রহমান তাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া তিনটি জেলায় গিয়ে রাত্রীযাপন করবেন। এই তিনটি জেলা তার রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এবং স্থানীয় সমর্থকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
দ্বিতীয় দিনে তিনি রংপুর, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলা পরিদর্শন করবেন। এই পর্যায়ে তিনি স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন।
তৃতীয় দিনে তরিক থাকুরগাঁও থেকে পঞ্চগড়, নিলফামারী ও লালমনিরহাটে গিয়ে রংপুরে ফিরে রাত কাটাবেন। এই অংশে তিনি ঐতিহাসিক স্থান ও স্মৃতিস্তম্ভের দিকে মনোযোগ দেবেন।
চতুর্থ ও শেষ দিনে তরিক রংপুর থেকে বগুড়া পথে ঢাকা ফিরে আসবেন। পুরো সফরটি চার দিনব্যাপী এবং প্রতিটি রাত্রি নির্ধারিত জেলায় কাটবে।
ভ্রমণের অংশ হিসেবে তরিক রহমান মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, তার আত্মীয় তায়েবা মজুমদার এবং জুলাইয়া সায়েদসহ জুলাই বিদ্রোহে নিহত ব্যক্তিদের সমাধিতে শোক জানাবেন। এই সমাধিগুলোতে তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন এবং ঐতিহাসিক স্মৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করবেন।
সাথে সঙ্গে তিনি প্রার্থনা সভা ও শোকসভার আয়োজন করবেন, যেখানে আন্দোলনে আহত বা নিহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এই অনুষ্ঠানে তিনি শোক প্রকাশের পাশাপাশি সমর্থকদের সঙ্গে সংলাপের সুযোগ নেবেন।
একটি চিঠিতে উপ-কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসারদের জানানো হয়েছে যে সফরটি ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরিচালিত হবে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে সফরটি নির্বাচনী কোডের বিধি মেনে চলবে এবং কোনো লঙ্ঘন হবে না।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে সফরটি নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকবে এবং রাজনৈতিক প্রচার হিসেবে গণ্য হবে না বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তরিকের দল এই বিষয়টি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছে যাতে কোনো আইনি জটিলতা না দেখা দেয়।
সফরের নিরাপত্তা ও লজিস্টিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তরিকের ব্যক্তিগত সচিব এবিএম আবদুস সত্তার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয় ও পরিবহন ব্যবস্থা চাওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে নিরাপদ পরিবহন ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর দল ও আওয়ামী লীগ এই সফরকে রাজনৈতিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেখছে এবং নির্বাচনী সময়সীমার নিকটবর্তী হওয়ায় সতর্কতা প্রকাশ করেছে। তারা উল্লেখ করেছে যে নির্বাচনী কোডের সীমা অতিক্রম না করা গুরুত্বপূর্ণ এবং কোনো অনিয়ম ঘটলে তা তৎক্ষণাৎ সংশোধন করা হবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে উত্তরাঞ্চলে তরিকের উপস্থিতি বিএনপি’র ভিত্তি শক্তিশালী করতে এবং আসন্ন নির্বাচনে ভোটার সংযোগ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে একই সঙ্গে এই সফরটি রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং নির্বাচনী পরিবেশে অতিরিক্ত তীব্রতা সৃষ্টি করতে পারে। ভবিষ্যতে তরিকের দল এই ধরনের ভ্রমণকে ভোটার জড়িতকরণ ও সামাজিক কাজের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।



