জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের জন্য জামায়াতে ইসলামী (জামাত) সঙ্গে সিট‑শেয়ারিং চুক্তি করার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে। পার্টির উচ্চপদস্থ নেতারা গোপনীয়তা বজায় রেখে জানিয়েছেন, এনসিপি ও জামাতের আলোচনার মূল লক্ষ্য ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন নিশ্চিত করা, যাতে নতুন গঠিত জোটের ভিতরে ফাটল না পড়ে।
জামাতের প্রস্তাব অনুযায়ী এনসিপি ৩০টি আসন পাবে, যা বিএনপি থেকে পাওয়া সম্ভাব্য প্রস্তাবের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এনসিপি নেতারা উল্লেখ করেন, জামাতের এই প্রস্তাব তাদের নির্বাচনী কৌশলকে শক্তিশালী করতে পারে এবং জোটের সামগ্রিক সমন্বয় বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
বিএনপি প্রাথমিকভাবে ছয় থেকে সাতটি আসন দেবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিল, তবে শেষ পর্যায়ে এই সংখ্যা তিনটির নিচে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। তদুপরি, বিএনপি এনসিপি থেকে দলটি বিলুপ্ত করা বা গণতান্ত্রিক সংহতি জোট ভেঙে নতুন পার্টিতে যোগদানের শর্ত আরোপ করেছে, যা এনসিপির জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
এনসিপি উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং বর্তমান সময়ে জামাতের সঙ্গে চুক্তি করার দিকে বেশি ঝুঁকছে। তবে, বিএনপি কার্যকরী চেয়ারম্যান তারিক রাহমানের ১৭ বছর পর দেশে ফিরে আসার পর এনসিপি ও বিএনপির মধ্যে পুনরায় আলোচনার দরজা খোলা থাকতে পারে। এই পরিস্থিতি রাজনৈতিক সমন্বয়কে আরও জটিল করে তুলেছে।
এনসিপির কনভিনার নাহিদ ইসলাম ও চিফ কোঅর্ডিনেটর নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারের সঙ্গে ফোন ও মেসেজের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। একই সময়ে, এনসিপি যৌথ কনভিনার সারওয়ার তুষার ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং আলোচনার সমাপ্তি পর্যন্ত কোনো সরকারি ঘোষণা দেওয়া হবে না।
জামাতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পোরওয়ার বিবিসি বাংলা চ্যানেলে জানিয়েছেন, জামাত ও এনসিপির মধ্যে সিট‑শেয়ারিং নিয়ে আলোচনা চলছে। ডেইলি স্টার যখন পোরওয়ারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল, তখন তার সহকারী ফয়েজ উদ্দিন জানিয়েছেন, পোরওয়ার ব্যস্ত থাকায় কলটি গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
দুইজন এনসিপি নেতা, যারা গোপনীয়তা চেয়েছেন, উল্লেখ করেন, জামাতের সঙ্গে প্রস্তাবিত ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিক জোট নয়, বরং সিট‑শেয়ারিং চুক্তি হবে, যাতে এনসিপি নিজের প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। এই ধরণের ব্যবস্থা উভয় পার্টির স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার পাশাপাশি ভোটার ভিত্তি সম্প্রসারণের লক্ষ্য রাখে।
জামাতও এনসিপির সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করতে সম্মত হয়েছে, তবে গণতান্ত্রিক সংহতি জোটের কাঠামো অপরিবর্তিত রাখবে। উভয় পার্টি এই শর্তে একমত যে, আসন ভাগাভাগি নির্বাচনী ফলাফলকে সমন্বিত করে উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করবে, একই সঙ্গে জোটের অভ্যন্তরীণ সংহতি বজায় থাকবে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি এনসিপি জামাতের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করে, তবে নির্বাচনী মঞ্চে তার প্রভাব বাড়বে এবং বিএনপির সঙ্গে সম্ভাব্য জোটের তুলনায় বেশি আসন অর্জনের সুযোগ পাবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আরও আলোচনার প্রয়োজন, এবং রাজনৈতিক গতিপথে পরিবর্তন আসতে পারে, যা পরবর্তী সপ্তাহে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে প্রভাবিত করবে।



