ঢাকার আগারগাঁও রাজস্ব ভবনে বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অনলাইন ভ্যাট রিফান্ড প্রক্রিয়া চালু করেছে। নতুন সিস্টেমের মাধ্যমে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ম্যানুয়াল পদ্ধতির বদলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিফান্ড পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
চেয়ারম্যানের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, পূর্বে রিফান্ডের জন্য যে ম্যানুয়াল পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো, সেটিকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রক্রিয়ার সহজীকরণ প্রয়োজন হলে আইন সংশোধনের সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিবর্তন ব্যবসা খাতের নগদ প্রবাহে ত্বরান্বিত প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রারম্ভিক পর্যায়ে তিনটি ব্যবসায়িক সংস্থা অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে তৎক্ষণাৎ রিফান্ড পায়। মোট ৪৫ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়েছে। অন্য প্রতিষ্ঠানের আবেদনগুলো সম্পন্ন হলেও, তাদের ব্যাংক তথ্যের অমিলের কারণে রিফান্ড অবিলম্বে পৌঁছায়নি।
এনবিআর উল্লেখ করেছে, মোট ১২৪টি পূর্বের আবেদন থেকে চারটি আবেদনই ই-ভ্যাট সিস্টেমের মাধ্যমে দ্রুত প্রক্রিয়াকৃত হয়েছে। রিফান্ড মডিউলটি ই-ভ্যাট সিস্টেমে নতুন করে সংযোজন করা হয়েছে, যা আইব্যাস++ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের BEFTN (বেসিক ইলেকট্রনিক ফান্ডস ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক) এর সঙ্গে সংযুক্ত।
নতুন মডিউলটি করদাতার মাসিক মুসক রিটার্নের মাধ্যমে রিফান্ডের আবেদন গ্রহণ করে, এরপর সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেট আবেদনটি যাচাই করে। ব্যাংক তথ্যের ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলে, রিফান্ডের অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়। এই প্রক্রিয়ার গতি বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো একসাথে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে বলা হয়, ব্যাংক তথ্যের যাচাই প্রক্রিয়ায় প্রায় ত্রিশ মিনিটের মতো সময় লাগে। এই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি ম্যানুয়াল যাচাইয়ের তুলনায় সময় ও শ্রমের সাশ্রয় করবে, ফলে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত নগদ প্রবাহ পুনরুদ্ধার করতে পারবে।
অনলাইন রিফান্ড সিস্টেমের মাধ্যমে ঢাকার তিনটি ভ্যাট কমিশনারেটের করদাতাকে রিফান্ড প্রদান করা হয়েছে। এই রিফান্ডের মোট পরিমাণ ৪৫ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা, যা সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। রিফান্ড পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো টেক্সটাইল, উৎপাদন ও সেবা খাতে কাজ করে।
রিফান্ড প্রাপ্ত আম্বার গ্রুপের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার মো. ইমরান হোসেন উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগটি টেক্সটাইল ব্যবসার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং শিল্পের নগদ প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি এটিকে “প্রশংসনীয় এবং যুগান্তকারী” বলে বর্ণনা করেন।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, অনলাইন রিফান্ড সিস্টেমের কার্যকরী চালু হওয়া ভ্যাট রিফান্ডের প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও দ্রুত করবে, ফলে ব্যবসায়িক পরিবেশে আস্থা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, রিফান্ডের সময়সীমা কমে যাওয়ায় কোম্পানিগুলো তাদের কার্যক্রমে অতিরিক্ত মূলধন ব্যবহার না করে মূল ব্যবসায় মনোযোগ দিতে পারবে।
তবে, সিস্টেমের সফলতা নির্ভর করবে ব্যাংক তথ্যের সঠিকতা এবং আইটি অবকাঠামোর স্থায়িত্বের ওপর। বর্তমানে কিছু প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক তথ্যের ত্রুটির কারণে রিফান্ড বিলম্বিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে সমাধান করা প্রয়োজন।
দীর্ঘমেয়াদে, এনবিআর এই প্ল্যাটফর্মকে অন্যান্য কর রিফান্ড প্রক্রিয়ার সঙ্গে একীভূত করার পরিকল্পনা করছে। যদি এই সংহতি সফল হয়, তবে করদাতারা একক পোর্টাল থেকে একাধিক রিফান্ড আবেদন করতে পারবে, যা প্রশাসনিক ব্যয় কমাবে এবং কর সংগ্রহের দক্ষতা বাড়াবে।
সারসংক্ষেপে, অনলাইন ভ্যাট রিফান্ড ব্যবস্থা চালু হওয়া দেশের কর ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। স্বয়ংক্রিয় রিফান্ডের মাধ্যমে ব্যবসা খাতের নগদ প্রবাহ দ্রুত হবে, আর করদাতাদের জন্য রিফান্ড প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ হবে। ভবিষ্যতে সিস্টেমের বিস্তৃত ব্যবহার এবং আইনি সমন্বয় এই সুবিধাগুলোকে আরও শক্তিশালী করবে।



