বিপিএল উপস্থাপনা প্যানেলে রিধিমার হঠাৎ অনুপস্থিতি নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, তবে তিনি সামাজিক মাধ্যমে স্পষ্ট করে জানান যে তিনি নিজেই রাজনৈতিক পরিবেশ বিবেচনা করে প্যানেল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে সাম্প্রতিক আইপিএল (ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ) সংক্রান্ত ঘটনা রয়েছে। বি.সিসিআইয়ের নির্দেশে কেএসিটি রায়ালসের (কেকেআর) বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়, যা উভয় দেশের ক্রীড়া ও কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।
উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার আইপিএল-এর টেলিভিশন সম্প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় এবং আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারতীয় ম্যাচগুলোকে অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানায়।
এই প্রেক্ষাপটে কিছু স্থানীয় মিডিয়া দাবি করে যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বিপিএল-এও প্রভাব ফেলেছে এবং রিধিমা উপস্থাপনা প্যানেল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে রিধিমা নিজে স্পষ্ট করে বলেন যে এই গুজবগুলো ভিত্তিহীন।
তার প্রকাশ্য বিবৃতিতে তিনি লিখেছেন, “গত কয়েক ঘণ্টায় এমন একটি বয়ান ছড়ানো হয়েছে যে আমাকে বিপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি সত্য নয়। আমি নিজেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” এই বাক্যটি তার স্বেচ্ছা পদত্যাগের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
রিধিমা আরও উল্লেখ করেন যে তার কাছে দেশ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, এবং ক্রিকেটকে তিনি একক দায়িত্বের চেয়ে বৃহত্তর হিসেবে দেখেন। তিনি সততা, সম্মান ও নিষ্ঠার সঙ্গে এই খেলাটির পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
ঢাকা পর্বে রিধিমার উপস্থাপনা হওয়ার কথা ছিল, তবে তার অনুপস্থিতি নিশ্চিত হয়। তার অনুপস্থিতি নিয়ে মিডিয়ায় গুজব ছড়িয়ে পড়লেও, তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে তিনি কোনো বাহ্যিক চাপের ফলে নয়, নিজের ইচ্ছায় প্যানেল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
মুস্তাফিজুর রহমানের বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জরুরি বৈঠক করে, আইসিসি (আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল)কে জানায় যে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে তারা ভারতীয় মাটিতে খেলতে অনিচ্ছুক। ফলে তারা ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ জানায়।
বিসিবি’র এই পদক্ষেপের সঙ্গে সরকারী স্তরে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত এবং বিশ্বকাপের ম্যাচ স্থানান্তরের দাবি একত্রে ক্রীড়া ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
দুই দেশের ক্রীড়া সংস্থার এই পদক্ষেপের ফলে বিপিএল-এও কিছু পরিবর্তন আনা হতে পারে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশিত হয়নি। রিধিমার স্বেচ্ছা পদত্যাগের পরেও বিপিএল-এর শিডিউল ও উপস্থাপনা প্যানেলের গঠন সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
আইপিএল ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বিষয়টি এখনও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার অধীনে রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এবং ক্রিকেট সংস্থা উভয়ই নিরাপত্তা ও ক্রীড়া ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখছে।
এই সময়ে বাংলাদেশি ভক্তদের জন্য ক্রীড়া পরিবেশে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, তবে রিধিমা স্পষ্ট করে বলেন যে তার সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত এবং দেশের স্বার্থে নেওয়া হয়েছে।
বিপিএল-এ রিধিমার অনুপস্থিতি এবং আইপিএল-এ মুস্তাফিজুরের বাদ দেওয়া দুটোই বর্তমান ক্রীড়া-রাজনৈতিক পরিবেশের প্রতিফলন, যা ভবিষ্যতে ক্রীড়া সংস্থার নীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিসিবি এবং সরকার উভয়ই নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে পরবর্তী আন্তর্জাতিক ম্যাচের স্থানান্তর ও সম্প্রচার নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে, তবে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা হচ্ছে।



