ঢাকায় বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তার নতুন অনলাইন ভ্যাট রিফান্ড মডিউল চালু করে, যা করদাতাদের ভ্যাট ফেরত সরাসরি নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠাবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ভ্যাট রিফান্ড প্রক্রিয়ার সময়সীমা কমিয়ে করদাতাদের আর্থিক চাপ হ্রাস করা এবং প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ করা।
নতুন মডিউলটি ই-ভ্যাট (e-VAT) সিস্টেমে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং অর্থ বিভাগের আইবিএস++ (iBAS++) প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (বিইএফটিএন) ব্যবহার করে তহবিল স্থানান্তর করে। ফলে রিফান্ডের জন্য আলাদা চেক বা নগদ হস্তান্তরের প্রয়োজন না থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে দ্রুত লেনদেন সম্ভব হয়।
করদাতারা মাসিক মূসক রিটার্ন দাখিলের সময়ই অনলাইন পোর্টালে রিফান্ডের আবেদন করতে পারবে। আবেদনটি সংশ্লিষ্ট মূসক কমিশনারেটের যাচাই ও অনুমোদনের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো শারীরিক নথি বা অফিসে উপস্থিতি আর প্রয়োজন নেই, যা করদাতার সময় ও শ্রম সাশ্রয় করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এনবিআরের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান তিনটি ভ্যাট কমিশনারেটের অধীনে থাকা তিনজন করদাতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৪৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা রিফান্ড প্রদান করে সিস্টেমের কার্যকারিতা প্রদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে করদাতাদের প্রতিনিধি, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এনবিআর জানায়, অনলাইন রিফান্ড মডিউল চালু হওয়ার ফলে রিফান্ডের আবেদন থেকে অর্থপ্রাপ্তি পর্যন্ত সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে। এখন করদাতাদের ভ্যাট অফিসে ব্যক্তিগতভাবে গিয়ে রিফান্ড সংগ্রহের প্রয়োজন নেই, ফলে ভ্যাট অফিসের কাজের চাপও হ্রাস পাবে।
ব্যবসা ও বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, দ্রুত রিফান্ডের সুবিধা বিশেষত ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য নগদ প্রবাহের ঘাটতি কমাবে। রিফান্ডের সময়সীমা কমে উৎপাদন ও বিক্রয় চক্রে অতিরিক্ত তহবিলের ব্যবহার সম্ভব হবে, যা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তদুপরি, স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের মাধ্যমে রিফান্ডের সঠিকতা বাড়বে, ফলে করদাতার আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং স্বেচ্ছায় ভ্যাট দাখিলের হারও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, ডিজিটাল সিস্টেমের নির্ভরযোগ্যতা ও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। সিস্টেমের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা ডেটা সংযোগের সমস্যার সম্ভাবনা থাকতে পারে, যা সময়মতো সমাধান না হলে করদাতার অসুবিধা বাড়তে পারে। তাই এনবিআরকে নিয়মিত সিস্টেম আপডেট, ব্যবহারকারীর প্রশিক্ষণ এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
করদাতাদের জন্য এখন থেকে রিফান্ড সংক্রান্ত যেকোনো প্রশ্ন বা সহায়তার প্রয়োজন হলে তাদের সংশ্লিষ্ট মূসক কমিশনারেটের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিৎ। কমিশনারেটের অফিসিয়াল হেল্পলাইন ও ইমেল ঠিকানা মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া, ডকুমেন্টেশন এবং ট্র্যাকিং সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে। এই নতুন ডিজিটাল পদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে করদাতারা সময়, খরচ এবং শ্রমের দিক থেকে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় অর্জন করতে পারবেন।



