28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাতিথি সাহার মেডিকেল ভর্তি অনিশ্চয়তা, আর্থিক সংকটে পরিবার ভুগছে

তিথি সাহার মেডিকেল ভর্তি অনিশ্চয়তা, আর্থিক সংকটে পরিবার ভুগছে

যশোরের কেশবপুর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে বাস করা তিথি সাহা (১৯) নীলফামারী মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তবে পরিবারের সীমিত আয় ও দুর্বল বাসস্থানের কারণে ভর্তি ফি সংগ্রহে বড় বাধা দেখা দিয়েছে।

তিথির বাবা কালিদাস সাহা জুস, মসলা ও জেলির মতো পণ্য ভ্যানের মাধ্যমে ডেলিভারি করেন। মা মাধবী সাহা অবসরে ঘরে বসে ঠোঙা ও পাঁপড় তৈরি করে বিক্রি করেন। দুজনের পাশাপাশি তিথি ও তার ছোট বোনের সঙ্গে চারজনের এই পরিবারটি দৈনন্দিন জীবনে আর্থিক চাপে বেঁচে আছে।

বছরের শেষের দিকে তিথি নীলফামারী মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। ভর্তি প্রক্রিয়া ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে, তবে ভর্তি ফি ও অন্যান্য খরচের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল সংগ্রহে পরিবারটি সংগ্রাম করছে।

তিথি ও তার পরিবার একটি টিন-ইটের ছোট ঘরে বসবাস করে। ঘরের একটি কক্ষে তিথি এবং তার বোন থাকে, আর অন্য কক্ষে বাবা-মা থাকেন। কাঠের বেডের কাঠামো দুর্বল হওয়ায় বারবার ভেঙে পড়ে, ফলে পরিবারটি বারান্দায় অতিরিক্ত জায়গা তৈরি করে ব্যবহার করে। মা মাধবী বলেন, তিথিকে এখানে আনা পর্যন্ত অনেক কষ্ট হয়েছে, তবে এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বাবা কালিদাস সকালবেলা কাজের জন্য বের হন এবং রাত দশটার দিকে বাড়ি ফিরে আসেন। সারা দিন গৃহস্থালির কাজ সামলাতে গিয়ে তিনি অতিরিক্ত আয় করার চেষ্টা করেন। তিথির ছোট বোন বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে।

শৈশব থেকেই তিথি মেধাবী হিসেবে পরিচিত। পঞ্চম শ্রেণি থেকে তিনি বৃত্তি পেয়ে থাকেন। কেশবপুর সরকারি পাইলট উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি-তে জিপিএ ৫ এবং কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি-তে একই জিপিএ অর্জন করেছেন।

মেডিকেল ভর্তি ফরম পূরণের সময় তিথির এসএসসি ফরমের জন্য ২,৩০০ টাকা খরচ হয়। এই টাকা তিনি বিভিন্ন পরিচিত থেকে ধার নিয়ে জমা দেন। ভর্তি কোচিংয়ের জন্য কিছু শিক্ষক বিনামূল্যে সাহায্য করেন, যার মধ্যে একজন হলেন দীনেশচন্দ্র দেবনাথ, যিনি শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মাসুদ মেমোরিয়াল কলেজের সহকারী অধ্যাপক।

দীনেশচন্দ্রের সহায়তায় তিথি কোচিং ক্লাসে অংশ নিতে পেরেছেন, যা তার প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে ভর্তি ফি ও চিকিৎসা সরঞ্জামের খরচ এখনও অমীমাংসিত। পরিবারটি এই আর্থিক ঘাটতি পূরণে বিভিন্ন উপায় খুঁজছে।

সম্প্রতি সোনালি ব্যাংক তিথির মেডিকেল ভর্তি সংক্রান্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে বলে জানা যায়। ব্যাংকের এই সহায়তা তিথি ও তার পরিবারকে ভর্তি ফি সংগ্রহে কিছুটা স্বস্তি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিথির মা মাধবী উল্লেখ করেন, তিথির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আর্থিক সহায়তা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তিনি আশাবাদী যে ব্যাংকের সাহায্য ও শিক্ষকদের সমর্থন দিয়ে তিথি তার স্বপ্নের মেডিকেল ক্যারিয়ার শুরু করতে পারবে।

এই ঘটনা দেখায় যে গ্রামীণ এলাকায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা অর্জনে আর্থিক বাধা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারী স্কলারশিপ, স্থানীয় দাতব্য সংস্থা ও ব্যাংকের সহায়তা একত্রে এই ধরনের সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আপনার এলাকার কোনো শিক্ষার্থী যদি আর্থিক সমস্যার মুখোমুখি হয়, তবে স্থানীয় ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দাতব্য সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা করুন।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments