শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড মঙ্গলবার ১৮ জনের একটি দল প্রকাশ করেছে, যা পাকিস্তানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি‑টোয়েন্টি সিরিজে মাঠে নামবে। এই টুর্নামেন্টের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দলটি ডাম্বুলায় অনুষ্ঠিত তিনটি ম্যাচের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। নতুন মুখ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের সমন্বয়ে গঠিত এই স্কোয়াডে দেশীয় টুর্নামেন্টের আগে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের প্রত্যাবর্তনও অন্তর্ভুক্ত।
দলীয় তালিকায় সবচেয়ে বড় দৃষ্টিনন্দন নাম হল ৩৪ বছর বয়সী ধানাঞ্জায়া ডি সিলভা, যিনি শেষবার ২০২৪ সালের জুনে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টি‑টোয়েন্টি ম্যাচে শ্রীলঙ্কার জার্সি পরিধান করেছিলেন। তিনটি অর্ধশতক পার করে তিনি মোট ৮৪৭ রান সংগ্রহ করে দলের শীর্ষ ব্যাটসম্যানের মর্যাদা বজায় রেখেছেন।
ধানাঞ্জায়ার ব্যাটিং রেকর্ডে ১৫২ টি স্বীকৃত টি‑টোয়েন্টি ম্যাচে ১২টি অর্ধশতক অন্তর্ভুক্ত, যার ফলে তিনি ২,৫৩১ রান করেছেন এবং গড় স্ট্রাইক রেট ১২৪.৭৪। এই পরিসংখ্যান তাকে শ্রীলঙ্কার অন্যতম ধারাবাহিক স্কোরার হিসেবে তুলে ধরেছে। তার আক্রমণাত্মক শৈলী এবং দ্রুত দৌড়ের গতি দলকে মাঝারি ও শেষ ওভারে গুরুত্বপূর্ণ গতি প্রদান করে।
বোলিং দিক থেকে ধানাঞ্জায়া ৮৪টি ইনিংসে ৫৭টি উইকেট নেয়া রেকর্ড রাখেন, যার সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স ৪ উইকেট ৬ রানে। যদিও তিনি মূলত ব্যাটসম্যান, তবে তার অফ‑স্পিনের ব্যবহার কখনো কখনো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম। তার বহুমুখিতা স্কোয়াডে অতিরিক্ত বিকল্প যোগ করেছে।
পেসার মাথিশা পাথিরানা এবং বাঁহাতি স্পিনার দুনিথ ওয়েলালাগে ও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। পাথিরানা পূর্বে পাকিস্তান সিরিজের স্কোয়াডে ছিলেন, আর ওয়েলালাগে ইমার্জিং এশিয়া কাপের অধিনায়কত্বে শ্রীলঙ্কাকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দুজনেরই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দলকে ব্যালেন্স করতে সহায়তা করবে।
নতুন মুখ হিসেবে ২১ বছর বয়সী অফ‑স্পিনার ট্রাভিন ম্যাথিউ প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের ডাকা পেয়েছেন। তিনি ইমার্জিং এশিয়া কাপের সময় শ্রীলঙ্কার হয়ে ৭টি উইকেট নেন এবং স্বীকৃত টি‑টোয়েন্টিতে ১৫টি ম্যাচে সমান সংখ্যক উইকেট সংগ্রহ করেছেন। তার তরুণ শক্তি এবং সঠিক লাইন ও লেংথ স্কোয়াডে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে।
ট্রাভিনের আগে পাথিরানা সর্বশেষ এশিয়া কাপের ম্যাচে বাংলাদেশকে মুখোমুখি হয়েছিলেন এবং সাম্প্রতিক আইএল‑টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তার রোলিং দক্ষতা ও পরিবর্তনশীল গতি শ্রীলঙ্কার পেসিং আক্রমণে বৈচিত্র্য যোগ করবে।
পাথিরানা স্বীকৃত টি‑টোয়েন্টিতে ১০২টি ম্যাচে ১৩৭টি উইকেট নেন, আর আন্তর্জাতিক টি‑টোয়েন্টিতে ২১টি ম্যাচে ৩১টি উইকেট সংগ্রহ করেছেন। তার গড় গতি ও সঠিক লাইন শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে এবং শেষ ওভারে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক নিতে সহায়তা করবে।
দুনিথ ওয়েলালাগে ইমার্জিং এশিয়া কাপের অধিনায়কত্বে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং সর্বশেষ এশিয়া কাপের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার হয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক টি‑টোয়েন্টিতে মাত্র ছয়টি ম্যাচে সাতটি উইকেট নেন, আর স্বীকৃত টি‑টোয়েন্টিতে ৭৫টি ম্যাচে ৭৩টি উইকেটের রেকর্ড রাখেন। তার বামহাতি স্পিনের ভিন্ন ভঙ্গি শ্রীলঙ্কার স্পিনার ইউনিটকে সমৃদ্ধ করবে।
সিরিজটি বুধবার থেকে শুরু হবে, এরপর শুক্রবার ও রবিবারে দুটো অতিরিক্ত ম্যাচ ডাম্বুলায় অনুষ্ঠিত হবে। সব তিনটি টেস্টের মতোই এই ম্যাচগুলোও শ্রীলঙ্কার ঘরে মাঠে অনুষ্ঠিত হবে, যা স্থানীয় ভক্তদের জন্য বড় উৎসবের মতো।
ডাম্বুলায় সিরিজ শেষ হওয়ার পর শ্রীলঙ্কা ইংল্যান্ডের সঙ্গে ওয়ানডে ও টি‑টোয়েন্টি সিরিজে মুখোমুখি হবে। এছাড়া শ্রীলঙ্কা টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হিসেবে ৮ ফেব্রুয়ারি আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্টে প্রবেশ করবে। এই সময়সূচি দলকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
সারসংক্ষেপে, শ্রীলঙ্কার নতুন স্কোয়াডে অভিজ্ঞতা ও তরুণ শক্তির সমন্বয় দেখা যাচ্ছে। ধানাঞ্জায়ার ফিরে আসা, পাথিরানা ও ওয়েলালাগের অভিজ্ঞতা, এবং ট্রাভিনের মতো নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তি দলকে টুর্নামেন্টের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত করেছে। আসন্ন ম্যাচগুলোতে এই সমন্বয় কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা শীঘ্রই স্পষ্ট হবে।



