১৯ বার গ্র্যামি জয়ী ব্যান্ডোবাদক বেলা ফ্লেক, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডি.সি.তে অবস্থিত কেনেডি সেন্টারে ন্যাশনাল সিম্ফনি অর্কেস্ট্রার সঙ্গে নির্ধারিত কনসার্ট থেকে নিজে সরে গেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সম্প্রতি কেন্দ্রের পরিবেশ রাজনৈতিক উত্তেজনা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সঙ্গীতের মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে।
ফ্লেকের ক্যারিয়ার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশাল স্বীকৃতি পেয়েছে; তার ব্যান্ড বহুবার গ্র্যামি পুরস্কার জিতেছে এবং তিনি আধুনিক ব্যান্ডো সঙ্গীতের অন্যতম পথপ্রদর্শক হিসেবে পরিচিত। ফেব্রুয়ারি মাসে ন্যাশনাল সিম্ফনি অর্কেস্ট্রার সঙ্গে একটি সমন্বিত পারফরম্যান্সের পরিকল্পনা ছিল, যা এখন বাতিল হয়েছে।
বেলা ফ্লেকের নিজের টুইটার পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, কেনেডি সেন্টারে পারফরম্যান্স করা আর সঙ্গীতের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নয়। তিনি উল্লেখ করেন, “আমি এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ থেকে সরে গেছি, কারণ এখানে সঙ্গীতের চেয়ে রাজনৈতিক আলোচনাই বেশি হয়ে উঠেছে।”
বাতিলের পরেও ফ্লেক ভবিষ্যতে ন্যাশনাল সিম্ফনি অর্কেস্ট্রার সঙ্গে আবার কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি আশাবাদী যে, শীঘ্রই এমন একটি সময় আসবে যখন শিল্পী ও সংগীতপ্রেমীরা একসাথে সঙ্গীতের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবেন।
কেনেডি সেন্টারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে সাম্প্রতিক মাসে কেন্দ্রের নাম পরিবর্তনের ঘটনা রয়েছে। ডিসেম্বর মাসে কেন্দ্রের সাইনবোর্ডে নতুন নাম “ট্রাম্প-কেনেডি সেন্টার” যুক্ত করা হয়, যা ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করে।
নতুন নামের ঘোষণার পর থেকে বিভিন্ন গোষ্ঠী কেন্দ্রের ওপর বয়কট চালু করে এবং সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ামূলক মামলা দায়েরের হুমকি দেয়। এই পরিস্থিতি কেন্দ্রের পরিচালনা পরিষদকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছে।
ডিসেম্বর ২৩ তারিখে সম্প্রচারিত ২০২৫ সালের কেনেডি সেন্টার অনার্স অনুষ্ঠানের রেটিং ইতিহাসে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে আসে, যা কেন্দ্রের জনপ্রিয়তা ও দর্শকসংখ্যার হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়।
নাম পরিবর্তনের অনুমোদনকে কেন্দ্রের পরিচালনা পরিষদে একাধিক সদস্যের সমর্থন পেয়েছিল, তবে এই পদক্ষেপটি আইনি বাধার সম্মুখীন হতে পারে। কেনেডি সেন্টার প্রতিষ্ঠার মূল আইন নাম পরিবর্তনকে নিষিদ্ধ করে, এবং এখন এই বিধান পরিবর্তনের জন্য কংগ্রেসের বিশেষ আইন প্রয়োজন।
পরিষদের গঠনও এক বছর আগে থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে গেছে। ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেন্দ্রের বেশ কিছু সদস্যকে বরখাস্ত করে নিজেই চেয়ারম্যানের পদ গ্রহণ করেন। তিনি তখন একটি সামাজিক নেটওয়ার্কে লিখেছিলেন যে, “আমার নির্দেশে আমরা ওয়াশিংটন ডি.সি.-এর কেনেডি সেন্টারকে আবার মহান করব।” এই ঘোষণার পর থেকে কেন্দ্রের নীতি ও পরিচালনায় ব্যাপক পরিবর্তন দেখা যায়।
ফ্লেকের মতো শিল্পীদের এই পদক্ষেপকে শিল্প জগতের একটি বৃহত্তর প্রস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে কেন্দ্রের রাজনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তনকে নিয়ে বহু সঙ্গীতশিল্পী ও নৃত্যশিল্পী তাদের পারফরম্যান্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই ধারাবাহিকতা দেখায় যে, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ফলে শিল্পের স্বাধীনতা ও সৃজনশীলতা কীভাবে প্রভাবিত হয়। বিশেষ করে, যখন কেন্দ্রের মূল উদ্দেশ্য সঙ্গীত ও শিল্পের মাধ্যমে সমাজকে সমৃদ্ধ করা, তখন রাজনৈতিক উত্তেজনা তা ব্যাহত করতে পারে।
বেলা ফ্লেকের প্রত্যাহার একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে; এটি শিল্পী সম্প্রদায়ের মধ্যে আলোচনার সূত্রপাত করেছে যে, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে কী ধরনের নীতি প্রয়োজন। যদিও বর্তমান পরিস্থিতি অনিশ্চিত, তবে শিল্পী ও সংগঠনগুলো আশা করে যে, শীঘ্রই সঙ্গীতের জন্য নিরপেক্ষ ও সৃজনশীল পরিবেশ পুনরুদ্ধার হবে।
কেনেডি সেন্টারের ভবিষ্যৎ নীতি, নাম পরিবর্তনের আইনি প্রক্রিয়া এবং পরিচালনা পরিষদের গঠন কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বেলা ফ্লেকের মতো শিল্পীর পদক্ষেপের মাধ্যমে এই বিষয়গুলো নিয়ে জনমত গঠনে নতুন দিক উন্মোচিত হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, বেলা ফ্লেকের কেনেডি সেন্টার থেকে প্রত্যাহার তার সামাজিক মিডিয়া ঘোষণার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে এবং এটি কেন্দ্রের রাজনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তনের সরাসরি ফলাফল। কেন্দ্রের নাম পরিবর্তন, বয়কট, আইনি চ্যালেঞ্জ এবং পরিচালনা পরিষদের পুনর্গঠন এই ঘটনাকে ঘিরে রয়েছে। শিল্প জগতের এই প্রবণতা ভবিষ্যতে কীভাবে বিকশিত হবে, তা সময়ই বলবে।



