18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিযুক্তরাষ্ট্র ভিসা বন্ড বাড়াল তিন গুণ, তালিকায় বাংলাদেশও যুক্ত

যুক্তরাষ্ট্র ভিসা বন্ড বাড়াল তিন গুণ, তালিকায় বাংলাদেশও যুক্ত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আর্থিক জামানত, অর্থাৎ ভিসা বন্ডের পরিমাণ ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নির্দেশে প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিবর্তনটি ৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নতুন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের নাম যুক্ত করা হয়েছে, যা ভিসা প্রার্থীদের জন্য নতুন আর্থিক শর্ত আরোপ করবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রকাশিত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এখন থেকে ভিসা বন্ডের সর্বোচ্চ সীমা ১৫,০০০ মার্কিন ডলারে নির্ধারিত হবে। বর্তমান বিনিময় হারের (১ ডলার = ১২২.৩১ টাকা) ভিত্তিতে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য এই সীমা প্রায় ১৮ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকার সমান।

ভিসা বন্ড মূলত একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের সাময়িক ভিসা প্রদান করার আগে একটি ফেরতযোগ্য জামানত নেওয়া হয়। এই জামানত আবেদনকারীকে ভিসার শর্ত, বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ ত্যাগের বাধ্যবাধকতা পালন করতে উদ্বুদ্ধ করে।

প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক এবং কর্মী অস্থায়ী নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা নিয়ে প্রবেশ করে। এই গোষ্ঠীর বেশিরভাগই শিক্ষা, পর্যটন বা স্বল্পমেয়াদী কাজের উদ্দেশ্যে আসে এবং তাদের ভিসা শর্তাবলী কঠোরভাবে অনুসরণ করা প্রত্যাশিত।

অনেক দেশ ভিসা আবেদনকালে আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ চায়, তবে ফেরতযোগ্য বন্ডের ব্যবস্থা প্রয়োগ করে না। ফলে আবেদনকারীরা শুধুমাত্র ডকুমেন্টের মাধ্যমে তাদের আর্থিক অবস্থার প্রমাণ দিয়ে ভিসা পেতে পারে।

নিউজিল্যান্ড এক সময় ওভারস্টে কমাতে ভিসা বন্ড ব্যবস্থা প্রয়োগ করেছিল, তবে পরবর্তীতে তা বাতিল করা হয়। এই অভিজ্ঞতা অন্যান্য দেশকে বন্ডের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সতর্কতা অবলম্বনে প্রভাবিত করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতি অনুযায়ী, বন্ডের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে ভিসা শর্তাবলী লঙ্ঘনের ঝুঁকি কমাতে এবং দেশের অভিবাসন নীতি শক্তিশালী করতে। কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন যে, এই পদক্ষেপটি দীর্ঘমেয়াদে অবৈধ অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের সংখ্যা হ্রাসে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পরিবর্তনকে নজরে রাখছে এবং দেশের শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের উপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে যে, বন্ডের উচ্চতর পরিমাণ কিছু আবেদনকারীকে ভিসা প্রক্রিয়া থেকে বিরত রাখতে পারে, যা দ্বিপাক্ষিক শিক্ষা ও পর্যটন সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে।

দুই দেশের কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে এই নতুন শর্তের প্রয়োগের সময়সূচি ও প্রভাব নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে বলে উভয় পক্ষই ইঙ্গিত দিয়েছে। বাংলাদেশি ছাত্র ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা বা ছাড়ের সম্ভাবনা নিয়ে পরামর্শ চাওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে, বন্ডের বৃদ্ধি কিছু উচ্চ আর্থিক সক্ষমতার আবেদনকারীকে আকৃষ্ট করতে পারে, তবে নিম্ন-আয়ের গ্রুপের জন্য বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় আর্থিক মানদণ্ডের পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।

মার্কিন সরকার এই নীতি বাস্তবায়নের পর প্রথম পর্যায়ে ফলাফল পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয় করবে। একই সঙ্গে, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য তথ্যপ্রদানের স্বচ্ছতা বাড়িয়ে আবেদন প্রক্রিয়ার সহজতা নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments