ভেনেজুয়েলার অস্থায়ী শাসক ডেলসি রড্রিগেজ মঙ্গলবার ক্যারাকাসে জানালেন যে দেশের শাসন সম্পূর্ণভাবে ভেনেজুয়েলীয় সরকারের হাতে এবং কোনো বিদেশি শক্তি এতে হস্তক্ষেপ করছে না। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অফিসিয়াল সামাজিক নেটওয়ার্কে প্রকাশিত বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন যে যুক্তরাষ্ট্র শীঘ্রই ভেনেজুয়েলা থেকে ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল উচ্চমানের তেল গ্রহণ করবে।
রড্রিগেজ, যিনি পূর্বে নিকোলাস মাদুরোর অধীনে উপ-রাষ্ট্রপতি ছিলেন, এই মন্তব্যের মাধ্যমে বিদেশি হস্তক্ষেপের কোনো প্রমাণ নেই বলে দৃঢ়ভাবে জোর দেন। তিনি যুক্তি দেন যে ভেনেজুয়েলার সরকারই দেশের সকল নীতি-নির্ধারণের মূল এবং কোনো বিদেশি এজেন্টের নিয়ন্ত্রণে নয়। তার বক্তব্যে স্বীকৃতি পাওয়া যায় যে তিনি ট্রাম্পের তেল চাহিদার প্রতি দ্বিমুখী মনোভাব পোষণ করছেন; কখনো তিনি সহযোগিতার ইঙ্গিত দেন, আবার কখনো কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণায় তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের তেল সংরক্ষণে ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল হস্তান্তর করা হবে এবং এই তেলকে বাজারমূল্যে বিক্রি করা হবে। বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত অর্থের নিয়ন্ত্রণ তিনি নিজেই, প্রেসিডেন্ট হিসেবে, গ্রহণ করবেন। তদুপরি, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি সেক্রেটারি ক্রিস রাইটকে এই পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।
ট্রাম্পের তেল পরিকল্পনা ভেনেজুয়েলার তেল রিজার্ভের ব্যাপক প্রবেশের দাবি করে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের তেল রিজার্ভে প্রবেশের শর্ত হিসেবে রড্রিগেজের তেল সরবরাহের অনুমোদনকে মূল শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। রড্রিগেজের দিক থেকে তেল সরবরাহের বিষয়ে এখনও স্পষ্টতা না থাকলেও, তিনি কিছুটা সঙ্কোচের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
রড্রিগেজের বক্তব্যে তিনি দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অংশের সমর্থন বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে মাদুরো ও তার স্ত্রীর ক্যারাকাসে সামরিক অপারেশনের পর নিরাপত্তা বাহিনী এবং পারামিলিটারি গোষ্ঠী শহরের রাস্তায় উপস্থিত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি দেশের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেন।
অধিকন্তু, রড্রিগেজ ভেনেজুয়েলার জনগণকে আত্মসমর্পণ না করার এবং হাল না ছাড়ার বার্তা দেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণে নিহতদের “শহীদ” হিসেবে সম্মান জানান এবং দেশের সাত দিনের শোককাল ঘোষণা করেন। শোকের সময়ে জাতীয় স্তরে সমবেত শোকসভা এবং স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার ২৩ জন সৈন্যের মৃত্যুর তালিকা প্রকাশ করে, যার মধ্যে পাঁচজন জেনারেল অন্তর্ভুক্ত। এই তালিকায় উল্লেখিত মৃত্যুর সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আক্রমণের পর প্রথম সরকারি স্বীকৃতি। তদুপরি, কিউবার রাজধানী হাভানা আলাদা করে ৩২ জনের মৃত্যু তালিকা প্রকাশ করেছে, যা আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ভেনেজুয়েলা ও তার মিত্রদের ক্ষতির পরিসরকে আরও স্পষ্ট করে।
এই ঘটনার পরবর্তী রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। রড্রিগেজের বিদেশি হস্তক্ষেপের অস্বীকার এবং ট্রাম্পের তেল হস্তান্তরের দাবি উভয়ই দেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যকে প্রভাবিত করবে। যুক্তরাষ্ট্রের তেল চাহিদা পূরণে রড্রিগেজের সম্মতি না পেলে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়তে পারে, আর তেল সরবরাহে সম্মতি পেলে তার শাসনকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সমর্থন অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে, নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থান ও শোককাল দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করবে, যা পরবর্তী সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



