22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিযুক্তরাষ্ট্রে পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভিসার জন্য সর্বোচ্চ $১৫,০০০ বন্ডের নতুন পাইলট প্রকল্প

যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভিসার জন্য সর্বোচ্চ $১৫,০০০ বন্ডের নতুন পাইলট প্রকল্প

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে জানানো হয়েছে যে, দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি পাইলট প্রকল্প চালু হবে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট দেশ থেকে আসা পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভিসা আবেদনকারীদের উপর সর্বোচ্চ $১৫,০০০ পর্যন্ত বন্ড আরোপ করা হতে পারে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হল ভিসা মেয়াদ শেষের পর অতিরিক্ত অবস্থান করা ভ্রমণকারীদের সংখ্যা কমানো।

প্রকল্পটি কনসুলার কর্মকর্তাদেরকে অধিকার দেয় যে, ওভারস্টে হার বেশি থাকা দেশ বা স্ক্রিনিং ও ভেটিং তথ্য অপর্যাপ্ত বলে বিবেচিত দেশ থেকে আগত আবেদনকারীদের উপর বন্ড আরোপ করা হবে। বন্ডের পরিমাণ $৫,০০০, $১০,০০০ অথবা $১৫,০০০ হতে পারে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ন্যূনতম $১০,০০০ বন্ড চাওয়া হবে বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এই উদ্যোগটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি অনুসরণে নেওয়া হয়েছে; তার শাসনামলে অবৈধ অভিবাসন দমনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং সীমান্ত সুরক্ষায় অতিরিক্ত সম্পদ বরাদ্দ করা হয়েছে। জুন মাসে তিনি ১৯টি দেশের নাগরিকদের জন্য জাতীয় নিরাপত্তা ভিত্তিতে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন, যা আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রবাহে প্রভাব ফেলেছে।

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং কঠোর অভিবাসন নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের টিকিটের দাম মে মাসে কোভিড-১৯ পূর্বের স্তরে নেমে এসেছে, এবং কানাডা ও মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ আগের বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ কমে গেছে। এই হ্রাসের পেছনে ভিসা প্রক্রিয়ার কঠোরতা এবং ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তা উদ্বেগকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

নতুন পাইলট প্রকল্পের কার্যকরী তারিখ ২০ আগস্ট নির্ধারিত, এবং এটি প্রায় এক বছরের জন্য চালু থাকবে। কনসুলার কর্মকর্তারা বন্ড আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর, ভ্রমণকারী যদি তার ভিসার শর্তাবলী মেনে সময়মতো দেশে ফিরে যায়, তবে বন্ডের অর্থ সম্পূর্ণভাবে ফেরত দেওয়া হবে। এই শর্তটি ভিসা মেয়াদ শেষের পর অতিরিক্ত অবস্থান করা রোধে একটি আর্থিক প্রণোদনা হিসেবে কাজ করবে।

একই রকমের পাইলট প্রকল্প প্রথমবার নভেম্বর ২০২০-এ ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শেষ মাসে চালু করা হয়েছিল, তবে কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে বৈশ্বিক ভ্রমণ হ্রাসের ফলে তা সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। সেই সময়ে বন্ড আরোপের প্রক্রিয়া এবং দেশ তালিকা নির্ধারণে পর্যাপ্ত তথ্যের অভাব ছিল, যা নতুন উদ্যোগে সংশোধন করা হয়েছে।

রাষ্ট্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন যে, বন্ড আরোপের জন্য প্রভাবিত দেশগুলোকে নির্ধারণের মানদণ্ডে উচ্চ ওভারস্টে হার, স্ক্রিনিং ও ভেটিং প্রক্রিয়ার ঘাটতি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া, প্রয়োজন অনুসারে দেশ তালিকা আপডেট করা হবে, যাতে নতুন তথ্যের ভিত্তিতে নীতি সমন্বয় করা যায়।

এই নীতি বাস্তবায়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে, তবে একই সঙ্গে পর্যটন ও ব্যবসায়িক খাতে কিছু সীমাবদ্ধতা আসতে পারে। ভিসা আবেদনকারীরা অতিরিক্ত আর্থিক দায়িত্বের মুখোমুখি হবে, যা কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে বাধ্য করতে পারে।

রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, এই পাইলট প্রকল্প ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি শক্তিশালী করার একটি অংশ, এবং ভবিষ্যতে এটি দীর্ঘমেয়াদী নীতি হিসেবে রূপান্তরিত হতে পারে। যদি বন্ড ব্যবস্থা ওভারস্টে হ্রাসে কার্যকর প্রমাণিত হয়, তবে পরবর্তী প্রশাসনেও একই ধরনের আর্থিক শর্তাবলী বজায় রাখা সম্ভব। অন্যদিকে, ভিসা আবেদনকারীদের ওপর আর্থিক বোঝা বাড়ার ফলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বাণিজ্যিক সংযোগে কিছুটা চাপ আসতে পারে।

সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড পাইলট প্রকল্প দুই সপ্তাহের মধ্যে চালু হবে, যা উচ্চ ওভারস্টে দেশগুলোকে লক্ষ্য করে $৫,০০০ থেকে $১৫,০০০ পর্যন্ত বন্ড আরোপের অনুমতি দেবে। বন্ডের অর্থ ভিসা শর্ত মেনে সময়মতো প্রস্থান করলে ফেরত দেওয়া হবে, এবং প্রকল্পটি এক বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। এই পদক্ষেপটি অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করার পাশাপাশি ভিসা প্রক্রিয়ার আর্থিক দায়িত্বকে স্পষ্ট করতে লক্ষ্য রাখে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments