কিশোরগঞ্জের ভৈরবে চলন্ত চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে টিকিট পরীক্ষককে গ্রুপের কয়েকজন যাত্রী আক্রমণ করে, ঘটনা ঘটার পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ৫ জানুয়ারি বিকেলে, যখন ঢাকা থেকে রওনা হওয়া চট্টগ্রামগামী ট্রেনটি বিমানবন্দর স্টেশন পার হওয়ার পর টিকিট চেকিং শুরু করে।
টিকিট পরীক্ষক তানজিম ফরাজি, রেলওয়ের সিনিয়র টিকিট পরীক্ষক, টঙ্গী স্টেশন থেকে বেরিয়ে আসার পর ৮ থেকে ১০ জন যাত্রীকে তাদের পরিচয় ছাত্র বলে দাবি করে টিকিট না দেখিয়ে ভ্রমণ করার অভিযোগ করেন। তিনি টিকিট কাটার অনুরোধ করলে, সংশ্লিষ্ট যাত্রীরা তীব্র বিরোধে লিপ্ত হন।
বিবাদে যুক্ত যাত্রীদের মধ্যে একজন মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি, যিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পর্যন্ত ২২০ টাকা ভাড়া আদায় করে ছিলেন, টিকিট পরীক্ষকের প্রতি রাগ প্রকাশ করেন। কিছুক্ষণ পর ট্রেনটি ভৈরব বাজার (জং) স্টেশনে পৌঁছালে, টিকিট পরীক্ষক গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে তিনি স্টেশন এলাকার কিছু যুবকের দ্বারা শারীরিক আক্রমণের শিকার হন।
স্থানীয় বাসিন্দা কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং জানান, আক্রমণকারী যুবকরা টিকিট পরীক্ষকের ওপর গালি ও হুমকি সহ শারীরিক হিংসা চালিয়ে যান। তারা টিকিট পরীক্ষককে রেলওয়ে কর্মী ও অন্যান্য যাত্রীদের সাহায্যে নিরাপদে বের করে আনেন। এই সময়ে তারা উল্লেখ করেন, যদি হস্তক্ষেপ না করা হতো, তবে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।
আক্রমণকারী যুবকরা ভৈরবের বাইরের লোক বলে জানা যায় এবং তাদের আচরণকে এলাকার সুনাম নষ্টকারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তারা টিকিট পরীক্ষকের ওপর ‘দেশ স্বাধীন করেছি, টিকিট লাগবে কেন’ বলে চিৎকার করে শাসন করেন, যা ঘটনাটির মূল স্লোগান হয়ে ওঠে।
টিকিট পরীক্ষক তানজিম ফরাজি জানান, আক্রমণকারী যুবকরা নিজেদের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া বলে দাবি করেন এবং স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করে টিকিটের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ভৈরব পর্যন্ত ডিউটি শেষ করে মসজিদে নামাজের জন্য গিয়েছিলেন, তখনই তারা তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করে।
ফরাজি উল্লেখ করেন, তিনি আক্রমণকারী যুবকদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন, তবে তারা তাকে ধাক্কা দিয়ে তাড়া করে। তিনি বলেন, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনি পদক্ষেপ নেবেন, তবে বর্তমানে আক্রমণকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
ভৈরব বাজার রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. ইউসুফ জানান, তিনি ঘটনাটি জানার পর সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আক্রমণকারীদের বাড়ি ভৈরবে নয়, অন্য কোনো স্থানে, তাই স্থানীয় পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা দলকে সমন্বয় করে তদন্ত চালিয়ে যাবে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের মতে, টিকিট পরীক্ষককে আক্রমণ করা একটি গুরুতর অপরাধ এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করে। তারা জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মীকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে টিকিট চেকিং প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা বাড়ানো হবে।
স্থানীয় পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করেছে এবং আক্রমণকারী গ্রুপের পরিচয় জানার জন্য তথ্য সংগ্রহ করছে। তারা জানিয়েছে, আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে শারীরিক আক্রমণ, হিংসাত্মক অপরাধ এবং রেলওয়ে কর্মীকে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টিকিট পরীক্ষক তানজিম ফরাজি উল্লেখ করেন, তিনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে যথাযথ আইনি পদক্ষেপের অপেক্ষা করছেন। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, টিকিট না দেখিয়ে যাত্রা করা কোনো বৈধ কারণ নয় এবং রেলওয়ে কর্মীদের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর রেলওয়ে বিভাগ টিকিট চেকিং প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ এবং পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এছাড়া, যাত্রীদের মধ্যে টিকিটের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে তথ্য প্রচার চালু করা হবে।



