যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশি নাগরিকদের নতুন আর্থিক শর্ত আরোপ করা হয়েছে। ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়মে, নির্দিষ্ট শর্তে ভিসা পেতে আবেদনকারীদের সর্বোচ্চ ১৫,০০০ ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দিতে হবে। এই ব্যবস্থা মার্কিন সরকারের হালনাগাদ ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির ফলে চালু হয়েছে।
জামানতটি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম Pay.gov‑এর মাধ্যমে প্রদান করা হবে। তবে কনস্যুলার অফিসার স্পষ্ট লিখিত নির্দেশ না দিলে আবেদনকারীকে অর্থ জমা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভিসা বন্ড একটি পাইলট প্রকল্পের অংশ, যার মূল লক্ষ্য ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী বা ‘ওভারস্টে’ কমানো। অতএব, যেসব দেশের নাগরিকদের ওভারস্টে হার তুলনামূলকভাবে বেশি, তাদেরকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই উদ্যোগ প্রথম চালু হয় গত আগস্টে, তখন সীমিত কয়েকটি দেশ এতে যুক্ত ছিল।
বন্ডের অর্থ স্থায়ীভাবে কেটে নেওয়া হবে না; নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে তা ফেরতযোগ্য। পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, যদি ভ্রমণকারী অনুমোদিত সময়ের মধ্যে বা তার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন, ভিসা পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে না যান, অথবা মার্কিন বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা পান, তবে জমা করা জামানত ফেরত পাবেন। অন্যদিকে, যদি ভিসার মেয়াদ অতিক্রম করে অবস্থান করেন বা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ভিসার স্ট্যাটাস পরিবর্তনের জন্য (যেমন রাজনৈতিক আশ্রয় বা আশ্রয় আবেদন) আবেদন করেন, তবে জমা করা অর্থ বাজেয়াপ্ত হবে।
বন্ডের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য নির্দিষ্ট তিনটি বিমানবন্দর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আবেদনকারীকে শুধুমাত্র বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (BOS), নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (JFK) অথবা ওয়াশিংটন ডুলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (IAD) ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে। অন্য কোনো বিমানবন্দর ব্যবহার করলে বন্ডের শর্ত লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং ফেরত প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
বাংলাদেশের পাশাপাশি অন্যান্য দেশও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যদিও সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন, এই পদক্ষেপটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি শক্তিশালী করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ, যেখানে ওভারস্টে কমাতে আর্থিক প্রণোদনা ব্যবহার করা হচ্ছে।
একজন আন্তর্জাতিক কূটনীতিকের মতে, “বন্ড ব্যবস্থা ভিসা নীতি ও অভিবাসন নিরাপত্তার মধ্যে একটি সেতু গড়ে তুলতে চায়, যা দু’পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করে।” তিনি আরও যোগ করেন, “যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি ওভারস্টে হারের হ্রাসে সহায়তা করবে এবং বৈধ ভ্রমণকারীদের জন্য স্বচ্ছতা বাড়াবে।”
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, এই পাইলট প্রকল্পের ফলাফল ভবিষ্যতে বন্ডের পরিসর বাড়াতে পারে অথবা অন্য দেশগুলোর জন্য নতুন শর্ত আরোপের ভিত্তি হতে পারে। বর্তমানে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি কঠোর হচ্ছে, এবং ওভারস্টে সমস্যার সমাধানে আর্থিক বাধ্যবাধকতা একটি নতুন হাতিয়ার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের ভিসা আবেদনকারীদের জন্য এই পরিবর্তনটি অতিরিক্ত আর্থিক দায়িত্বের পাশাপাশি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে, বন্ডের শর্ত পূরণ না হলে বা নির্ধারিত সময়ের বাইরে অবস্থান করলে অর্থ হারানোর ঝুঁকি থাকবে।
পরবর্তী পর্যায়ে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বন্ডের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করবে এবং ফলাফলের ভিত্তিতে নীতি সমন্বয় করতে পারে। একই সঙ্গে, কনস্যুলার অফিসগুলোকে আবেদনকারীদের স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করতে হবে, যাতে বন্ডের শর্ত ও ফেরত প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো ভুল বোঝাবুঝি না হয়।
এই নতুন ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও অভিবাসন নীতির পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা বাংলাদেশসহ অন্যান্য উচ্চ ওভারস্টে হারযুক্ত দেশকে সরাসরি প্রভাবিত করবে। ভবিষ্যতে বন্ডের পরিমাণ, শর্ত এবং প্রয়োগের পরিসর কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।



