অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সোমবার (৬ জানুয়ারি) নতুন নির্দেশিকা জারি করে, সরকারি কর্মচারীদের জন্য গাড়ি ক্রয়ের সর্বোচ্চ মূল্যসীমা সমন্বয় করেছে। এই নির্দেশিকায় বিভিন্ন গাড়ির ধরণে ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে, বাজেটের প্রয়োজনীয়তা ও বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে।
এসি মিনিবাসের (ইঞ্জিন ক্ষমতা ৪২০০ সিসি পর্যন্ত) সর্বোচ্চ ক্রয়মূল্য ৭৫ লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৮০ লাখ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। এই ধরণের গাড়ি সাধারণত শহুরে পরিবহন ও অফিসিয়াল ব্যবহারে প্রাধান্য পায়, ফলে উচ্চ মূল্যের অনুমোদন গাড়ি সরবরাহকারীদের বিক্রয় পরিমাণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বড় নন-এসি বাস (ইঞ্জিন ক্ষমতা ৫৮৮৩ সিসি পর্যন্ত) এখন সর্বোচ্চ ৫৮ লাখ ২০ হাজার টাকায় ক্রয় করা যাবে, যা পূর্বের ৪৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এই বাড়তি সীমা দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণ ও কর্মী পরিবহনের চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মাইক্রোবাসের মূল্যসীমা অপরিবর্তিত রেখে ৫২ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। এই গাড়িগুলি ছোট আকারের রুটে ব্যবহৃত হয়, তাই সীমা পরিবর্তন না করা বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে।
প্রাইভেটকারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ক্রয়মূল্য ৪৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৬ লাখ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। যদিও সরকারি কর্মচারীদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ি নয়, তবে এই সীমা বাড়ানো গাড়ি বিক্রেতা ও ডিলারশিপের বিক্রয় লক্ষ্যকে প্রভাবিত করতে পারে।
শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ির বরাদ্দে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। পূর্বে ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর জিপ গাড়ির (ইঞ্জিন ক্ষমতা ২৭০০ সিসি পর্যন্ত) মূল্যসীমা ১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি ৬৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকা করা হয়েছিল, যা গ্রেড-১ ও গ্রেড-২ কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত। গ্রেড-৩ ও তার নিচের কর্মকর্তাদের জন্য পূর্বের ৬৫ লাখ টাকা সীমা বজায় রয়েছে।
সিঙ্গেল কেবিন পিকআপের মূল্যসীমা ৩৮ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫২ লাখ টাকা করা হয়েছে, যেখানে ডাবল কেবিন পিকআপের সীমা অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। উল্লেখযোগ্য যে, ৬ মার্চের নির্দেশিকায় ডাবল কেবিন পিকআপের সীমা ৫৬ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৬ লাখ টাকা নির্ধারিত হয়েছিল, যা এখন পুনরায় সমন্বয় করা হয়েছে।
৫ টনের ট্রাকের সর্বোচ্চ ক্রয়মূল্য ৮ লাখ টাকা বাড়িয়ে ৪৭ লাখ টাকা করা হয়েছে, আর ৩ টনের ট্রাকের ক্ষেত্রে প্রায় ১০ লাখ টাকা বাড়িয়ে ৪২ লাখ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। এই সমন্বয় ভারী মালামাল পরিবহনের জন্য গৃহীত হয়েছে, যা শিল্পখাতে লজিস্টিক্স খরচের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
মোটরসাইকেল (ইঞ্জিন ক্ষমতা ১২৫ সিসি পর্যন্ত) ক্রয়ের সর্বোচ্চ সীমা ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা নির্ধারিত হয়েছে। এই পরিবর্তন শহুরে পরিবহন ও কর্মচারী ভ্রমণের জন্য সাইকেল বাজারকে উদ্দীপিত করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, গাড়ি ক্রয়ের মূল্যসীমা বৃদ্ধি সরাসরি সরকারি খরচে প্রভাব ফেলবে এবং গাড়ি নির্মাতা, ডিলার ও আর্থিক সংস্থার জন্য নতুন চাহিদা তৈরি করবে। উচ্চ মূল্যের অনুমোদন গাড়ি বিক্রেতাদের মুনাফা মার্জিন বাড়াতে পারে, তবে একই সঙ্গে বাজেটের চাপও বাড়বে।
গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন সীমা অনুযায়ী মডেল ও কনফিগারেশন সমন্বয় করতে পারে, ফলে উৎপাদন পরিকল্পনা ও সরবরাহ শৃঙ্খলে সাময়িক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। ডিলারশিপগুলো উচ্চ মূল্যের গাড়ির বিক্রয় বাড়াতে প্রচারমূলক কার্যক্রম বাড়াতে পারে, যা মোট গাড়ি বিক্রয় পরিমাণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অবশেষে, সরকারী গাড়ি ক্রয়ের মূল্যসীমা সমন্বয় দীর্ঘমেয়াদে সরকারি বহরের আধুনিকায়ন ও পরিবহন দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করবে, তবে বাজেট ব্যবস্থাপনা ও বাজারের চাহিদার সামঞ্জস্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এই নীতি বাস্তবায়নের পরবর্তী পর্যায়ে গাড়ি শিল্পের বিক্রয় প্রবণতা ও সরকারি ব্যয়ের কাঠামো পর্যবেক্ষণ করা হবে।



