অস্কারজয়ী অভিনেত্রী ও Goop প্রতিষ্ঠাতা গুইনেথ প্যালট্রো সম্প্রতি একটি পডকাস্টে প্রকাশ করেছেন যে, ২০১৪ সালে তার এবং কল্ডপ্লে গায়ক ক্রিস মার্টিনের বিচ্ছেদের পর মিডিয়ার তীব্র সমালোচনার ফলে তিনি একটি চলচ্চিত্রের কাজ থেকে বাদ পড়েছিলেন। এই তথ্যটি আমি পোহ্লারের পরিচালিত ‘গুড হ্যাং’ শোতে শেয়ার করা হয়। প্যালট্রো উল্লেখ করেন, বিচ্ছেদের সময়ই তিনি একটি সিনেমা প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন, তবে বিতর্কের তীব্রতা দেখে বিতরণকারী কোম্পানি তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
২০১৪ সালে প্যালট্রো ও মার্টিন দশ বছরেরও বেশি সময়ের বিবাহের পর পারস্পরিক সম্মতিতে আলাদা হওয়ার ঘোষণা দেন। তাদের যৌথ বিবৃতি একটি নতুন শব্দ—”কনশাস আনকাপলিং”—প্রবর্তন করে, যা একটি শান্তিপূর্ণ বিচ্ছেদের ধারণা প্রকাশের উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছিল।
প্রকাশের পর এই শব্দটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। অনেক মিডিয়া বিশ্লেষক ও সাধারণ পাঠক এটিকে আত্মগর্বের প্রকাশ হিসেবে দেখেন, যা বিচ্ছেদের বাস্তব কষ্টকে হালকা করে তুলছে বলে অভিযোগ করেন। প্যালট্রো এই সমালোচনাকে ব্যক্তিগত ও পেশাগত উভয় দিকেই প্রভাবশালী বলে উল্লেখ করেন।
প্যালট্রো বলেন, বিচ্ছেদের পরপরই তিনি একটি চলচ্চিত্রের প্রধান চরিত্রে কাজ করার পরিকল্পনা করছিলেন। তবে বিতর্কের তীব্রতা ও মিডিয়ার নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখে চলচ্চিত্রের বিতরণকারী কোম্পানি প্রকল্পটি “অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ” বলে বিবেচনা করে, ফলে তার চুক্তি বাতিল হয়। তিনি এই ঘটনার ওপর ব্যঙ্গাত্মকভাবে মন্তব্য করে বলেন, “বিচ্ছেদ চলছিল, আর কাজও হারালাম, দারুণই হয়েছে।”
এই অভিজ্ঞতা তার জন্য একধরনের দ্বৈত আঘাত ছিল; ব্যক্তিগত জীবনের অশান্তি এবং পেশাগত সুযোগের ক্ষতি একসাথে ঘটেছিল। প্যালট্রো উল্লেখ করেন, তিনি এই কঠিন সময়ে “কনশাস আনকাপলিং” ধারণার দিকে ঝুঁকেন, যা তাকে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়াকে আরও গঠনমূলকভাবে দেখতে সাহায্য করে।
কনশাস আনকাপলিং ধারণাটি মূলত সমাজবিজ্ঞানী ডায়ান ভন দ্বারা ১৯৭০-এর দশকে প্রস্তাবিত একটি মডেল। এই মডেলটি বিবাহবিচ্ছেদের সময় উভয় পক্ষকে শত্রু নয়, বরং সহযোগী হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেয়, যাতে আবেগগত ক্ষতি কমে। প্যালট্রো বলেন, এই ধারণা তাকে তার নিজের বিচ্ছেদকে “একটি নতুন পথ” হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।
তবে জনসাধারণের বেশিরভাগই এই শব্দটিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে, যেন এটি কোনো অপরাধ স্বীকারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্যালট্রো ব্যাখ্যা করেন, অনেকেই “কনশাস আনকাপলিং” শোনার পর ভাবেন যে তিনি অন্যকে দোষারোপ করছেন, যদিও মূল উদ্দেশ্য ছিল বিচ্ছেদের প্রক্রিয়াকে শান্তিপূর্ণ করা। এই ভুল ধারণাই মিডিয়ার তীব্র সমালোচনার মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
প্যালট্রোর এই অভিজ্ঞতা দেখায় যে, সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিগত জীবনের পরিবর্তন কখনও কখনও তাদের পেশাগত সুযোগকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে বিনোদন শিল্পে, মিডিয়ার মনোভাব ও জনমত প্রায়শই কাস্টিং সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখে। তার ক্ষেত্রে, বিতর্কের তীব্রতা সরাসরি কাজ হারানোর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিচ্ছেদের পরেও প্যালট্রো GoGo (Goop) ব্র্যান্ডকে চালিয়ে যাচ্ছেন এবং চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রকল্পে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন। “কনশাস আনকাপলিং” শব্দটি এখন জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে একধরনের শব্দভাণ্ডার হয়ে উঠেছে, যদিও তার মূল অর্থের সঙ্গে এখনও কিছুটা বিচ্যুতি রয়েছে।
এই ঘটনা সেলিব্রিটিদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে: ব্যক্তিগত জীবনের প্রকাশ ও পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে সূক্ষ্ম সমন্বয় বজায় রাখা প্রয়োজন। মিডিয়ার তীব্র দৃষ্টিভঙ্গি কখনও কখনও কাস্টিং সিদ্ধান্তে অপ্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারে, যা শিল্পের গতি-প্রকৃতিকে পুনর্বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।



