CES 2026-এ প্রযুক্তি ক্ষেত্রের প্রধান বক্তারা একমত যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) পূর্বের কোনো প্রযুক্তি বিপ্লবের তুলনায় দ্রুত ও বিশাল মাত্রায় পরিবর্তন আনছে। এই বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল টিউসডে অনুষ্ঠিত All‑In পডকাস্টের লাইভ রেকর্ডিং, যেখানে মেকিন্সি অ্যান্ড কোম্পানির গ্লোবাল ম্যানেজিং পার্টনার বব স্টার্নফেলস এবং জেনারেল ক্যাটালিস্টের সিইও হেমন্ত তানেজা অংশগ্রহণ করেন।
পডকাস্টের হোস্ট জেসন কালাকানিস দুইজনকে আমন্ত্রণ জানিয়ে AI কীভাবে বিনিয়োগ কৌশল ও কর্মশক্তিকে রূপান্তরিত করছে তা নিয়ে গভীর আলোচনা করেন। তানেজা উল্লেখ করেন যে AI‑এর উত্থান বিশ্বকে সম্পূর্ণ নতুন স্তরে নিয়ে গেছে। তিনি স্ট্রাইপের উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করেন যে, স্ট্রাইপকে $১০০ বিলিয়ন মূল্যায়নে পৌঁছাতে বারো বছর লেগেছে, যেখানে জেনারেল ক্যাটালিস্টের পোর্টফোলিও কোম্পানি অ্যান্থ্রপিক এক বছর আগে $৬০ বিলিয়ন মূল্যায়ন থেকে এই বছর “কয়েক শত বিলিয়ন ডলার” পর্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই ধরনের দ্রুত মূল্যবৃদ্ধি তানেজাকে নতুন ট্রিলিয়ন‑ডলার কোম্পানির সম্ভাবনা সম্পর্কে আশাবাদী করে তুলেছে। তিনি অ্যান্থ্রপিক, ওপেনএআই এবং অন্যান্য কয়েকটি AI স্টার্টআপকে উল্লেখ করে বলেন, এই প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতে ট্রিলিয়ন‑ডলারের বাজার গঠন করতে পারে।
কী কারণ এই বিস্ফোরক বৃদ্ধির পেছনে, তা জানতে কালাকানিস তানেজা ও স্টার্নফেলসকে প্রশ্ন করেন। স্টার্নফেলসের মতে, যদিও অনেক কোম্পানি AI পণ্য পরীক্ষা করছে, তবে অ‑টেক সেক্টরের প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও পূর্ণ গ্রহণে দ্বিধাগ্রস্ত। তিনি উল্লেখ করেন, সিইওদের প্রায়শই শোনার প্রশ্ন হল “এখন আমি আমার সিএফও না সিআইওর পরামর্শ মেনে চলব?”।
সিএফওরা বিনিয়োগের রিটার্ন কম দেখার কারণে বাস্তবায়ন বিলম্বের পক্ষে যুক্তি দেন, আর সিআইওরা AI না গ্রহণ করলে কোম্পানি ব্যাহত হবে বলে সতর্ক করেন। এই দ্বন্দ্বই অনেক সংস্থার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের কঠিন মুহূর্ত তৈরি করে।
কর্মশক্তির ওপর AI-এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা চলাকালে, তানেজা ও স্টার্নফেলস উভয়ই স্বীকার করেন যে AI প্রবেশের ফলে প্রাথমিক স্তরের চাকরি, বিশেষ করে সদ্য স্নাতকরা যে পদে কাজ করে, সেগুলো হ্রাস পেতে পারে। তবু তারা জোর দিয়ে বলেন, মানবিক বিচারশক্তি ও সৃজনশীলতা AI‑এর সীমা অতিক্রম করতে পারে না।
স্টার্নফেলসের মতে, যদিও AI মডেলগুলো বহু কাজ স্বয়ংক্রিয় করতে পারে, তবু সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নতুন ধারণা গড়ে তোলার জন্য মানবের বিচক্ষণতা অপরিহার্য। এই দিকগুলোই ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের মূল চাবিকাঠি হবে।
তানেজা তরুণ প্রজন্মকে পরামর্শ দেন যে, তারা এমন দক্ষতা অর্জন করে যা AI‑এর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, জটিল সমস্যার বিশ্লেষণ, আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগ এবং সৃজনশীল সমাধান তৈরির ক্ষমতা ভবিষ্যতে অধিক মূল্যবান হবে।
এই আলোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে AI কেবল প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়, বরং বিনিয়োগের দৃষ্টিকোণ থেকে নতুন সুযোগ ও ঝুঁকি উভয়ই তৈরি করছে। কোম্পানিগুলোকে ROI‑এর দিক থেকে সতর্ক থাকতে হবে, তবে একইসঙ্গে AI গ্রহণে দেরি করলে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
অবশেষে, AI‑এর দ্রুত অগ্রগতি কর্মশক্তির কাঠামোকে পুনর্গঠন করবে, যেখানে রুটিন কাজের স্বয়ংক্রিয়তা বাড়বে এবং মানবিক সৃজনশীলতা ও সমালোচনামূলক চিন্তাধারার চাহিদা বাড়বে। এই পরিবর্তনটি কেবল প্রযুক্তি শিল্পেই নয়, সব সেক্টরে প্রভাব ফেলবে।
সারসংক্ষেপে, CES 2026-এ উন্মোচিত AI‑এর তীব্র গতি এবং মেকিন্সি ও জেনারেল ক্যাটালিস্টের বিশ্লেষণ দেখায় যে, ভবিষ্যতে AI‑চালিত ট্রিলিয়ন‑ডলার কোম্পানি গড়ে উঠবে, তবে তা সফলভাবে ব্যবহার করতে হলে মানবিক দক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে হবে।



