জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ছয়টি কেন্দ্রের ফলাফল আজ সকাল ৯টায় নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ভোটের ফলাফলে বিভিন্ন পদে দুইটি প্রধান দল—অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেল এবং ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেল—এর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের রিয়াজুল ইসলাম ৫৮৫ ভোট সংগ্রহ করে শীর্ষে দাঁড়িয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের এ কে এম রাকিব ৫২৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রইলেন। উভয় প্রার্থীর সমর্থক গোষ্ঠী ছাত্র অধিকার পরিষদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ছিল।
সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদেও অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের প্রার্থী আব্দুল আলীম আরিফ ৫৭৭ ভোট পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের খাদিজাতুল কুবরা ২৭৭ ভোটে দ্বিতীয় স্থানে শেষ হয়েছেন।
সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের মাসুদ রানা ৫৫৫ ভোটে শীর্ষে গেছেন। ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের আতিকুল ইসলাম তানজিল ৪৩২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে বাকি বিভাগগুলোর ফলাফল এখনও গণনা প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হবে। ভোটের মোট সংখ্যা এবং প্রতিটি কেন্দ্রের ভোটের বণ্টন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।
গতকাল মঙ্গলবার জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের জন্য ৩৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৭৮টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হয়। ভোটগ্রহণের পর পাঁচ ঘণ্টা বিরতির পর মধ্যরাতে গণনা শুরু হয়, যা আজকের ঘোষণার পূর্বে সাত ঘণ্টা আগে সম্পন্ন হয়।
এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ছাত্রদের অংশগ্রহণের হার উল্লেখযোগ্য ছিল, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক পরিবেশে সক্রিয়তা নির্দেশ করে। ভোটগ্রহণের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভোটের গোপনীয়তা বজায় রাখতে যথাযথ তদারকি করা হয়।
প্রতিটি কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রগণ তাদের প্রতিনিধিত্বের দিক থেকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গঠন করতে পারবেন। নির্বাচনের ফলাফল শিক্ষার্থী সংসদের ভবিষ্যৎ নীতি ও কার্যক্রমে প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও ফলাফলের পরবর্তী ধাপ হিসেবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।
ছয়টি কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য কেন্দ্রের ফলাফলও শীঘ্রই জানানো হবে, যা পুরো জকসু নির্বাচনের চিত্র সম্পূর্ণ করবে।
শিক্ষার্থী হিসেবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাজের দায়িত্বের মধ্যে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, ছাত্রদের অধিকার রক্ষা এবং ক্যাম্পাসের পরিবেশ উন্নত করা অন্তর্ভুক্ত। এই দায়িত্বগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা পরবর্তী সভা ও আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
পাঠকগণকে পরামর্শ: নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে আপনার মতামত ও প্রস্তাবনা জানিয়ে দিন; এভাবে আপনার কণ্ঠস্বর নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। আপনার ক্যাম্পাসে কোন বিষয়গুলোতে পরিবর্তন দরকার, তা ভাবুন এবং সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করুন।



