20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাসিটি ব্যাংকের সিটি আলো: নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকার ঋণ

সিটি ব্যাংকের সিটি আলো: নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকার ঋণ

সিটি ব্যাংকের ‘সিটি আলো’ প্রকল্পের আওতায় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য পুনঃঅর্থায়ন ভিত্তিক ঋণ সুবিধা চালু হয়েছে। এই স্কিমের মাধ্যমে এক বছর বা তার বেশি সময় ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসা ব্যবসা মালিকরা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারেন।

পুনঃঅর্থায়ন ঋণের সর্বোচ্চ সীমা এক কোটি টাকা, যা সম্পূর্ণভাবে ব্যবসার বর্তমান আর্থিক অবস্থা ও নগদ প্রবাহের ওপর ভিত্তি করে প্রদান করা হয়। ঋণগ্রহীতা যদি অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রদান করতে না চান, তবে জামানতবিহীন ঋণ হিসেবে সর্বোচ্চ দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত আবেদন করতে পারেন।

যেসব নারী উদ্যোক্তা সম্পত্তি জামানত হিসেবে দিতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য সর্বোচ্চ সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ অনুমোদিত। এই ক্ষেত্রে জমি বা ভবনের নিবন্ধিত বন্ধক (মর্টগেজ) বাধ্যতামূলক শর্ত হিসেবে চাওয়া হয়।

ঋণ গ্রহণের জন্য ব্যবসার ন্যূনতম বয়স এক বছর নির্ধারিত এবং বৈধ ট্রেড লাইসেন্সের উপস্থিতি আবশ্যক। ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া কোনো আবেদন স্বীকৃত হবে না, ফলে ব্যবসার আইনি স্বীকৃতি নিশ্চিত করা হয়।

জামানতসহ ঋণের ক্ষেত্রে বন্ধক সম্পত্তির রেজিস্ট্রেশন নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে ব্যাংক ঋণ পরিশোধে কোনো ঝুঁকি না থাকে। এই শর্তটি ঋণদাতার নিরাপত্তা বাড়ায় এবং ঋণগ্রহীতার দায়িত্ব স্পষ্ট করে।

পুনঃঅর্থায়ন ঋণের সুদের হার পাঁচ শতাংশ নির্ধারিত, যা বাজারের গড়ের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম। সময়মতো ঋণ পরিশোধ করলে এক শতাংশ ক্যাশব্যাক প্রদান করা হয়, যা গ্রাহকের আর্থিক স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বাড়ায়।

‘সিটি আলো’ এর অধীনে ‘আলো এন্টারপ্রেনিউর ফাইন্যান্স’ নামের একটি উপ-সেবা চালু করা হয়েছে, যা কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্পের নারী উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য করে। এই সেবার মাধ্যমে ছোট ব্যবসা মালিকরা এক থেকে পাঁচ লাখ টাকার মধ্যে ঋণ নিতে পারেন।

প্রতিষ্ঠিত ছোট ব্যবসা হলে জামানতবিহীন সর্বোচ্চ দেড় কোটি টাকা এবং জামানতসহ সর্বোচ্চ সাড়ে তিন কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া সম্ভব। এই সীমা ব্যবসার আকার ও আর্থিক সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত।

কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য ঋণ পরিশোধের সময়সীমা তিন বছর, আর প্রতিষ্ঠিত ব্যবসার জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী সময়সীমা ঋণগ্রহীতাকে আর্থিক চাপ কমাতে সহায়তা করে।

আয় সীমা ২৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকার মধ্যে থাকা নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এই স্কিমটি উপযোগী। আবেদন প্রক্রিয়ায় পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম সনদসহ পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে।

ঠিকানা প্রমাণ হিসেবে বিটিসিএল, বিদ্যুৎ বা পানির বিল (ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে) গ্রহণ করা হয়। এছাড়া হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সও জমা দিতে হবে, যা ব্যবসার আইনি অবস্থান নিশ্চিত করে।

অন্যান্য সহায়ক নথিপত্র যেমন আয়কর রিটার্ন, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ইত্যাদি বাধ্যতামূলক নয়, তবে শাখা কর্তৃপক্ষ গ্রাহকের প্রোফাইল ও লেনদেনের ধরন অনুযায়ী অতিরিক্ত নথি চাওয়া হতে পারে।

সিটি ব্যাংকের সিটিজেন প্রায়োরিটি অ্যান্ড সিটি আলো প্রধান ফারিয়া হক উল্লেখ করেছেন, সিটি আলো প্রোগ্রামের মাধ্যমে সাত লক্ষের বেশি নারী গ্রাহককে সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এই উদ্যোগকে নিরাপদ, সহজ এবং উদ্ভাবনী ব্যাংকিং সেবা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

সিটি আলো শুধুমাত্র ঋণ প্রদানেই সীমাবদ্ধ নয়; বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক স্বায়ত্তশাসন ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাংকটি নারী ব্যবসায়িক পরিবেশে স্থায়ী পরিবর্তন আনতে চায়।

সংক্ষেপে, সিটি ব্যাংকের নতুন ঋণ স্কিম নারী উদ্যোক্তাদের জন্য উচ্চতর ঋণ সীমা, কম সুদ এবং ক্যাশব্যাক সুবিধা নিয়ে এসেছে, যা ব্যবসার সম্প্রসারণ ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। তবে ঋণগ্রহীতাদের জন্য যথাযথ ডকুমেন্টেশন ও সময়মতো পরিশোধের শর্ত পূরণ করা অপরিহার্য, যাতে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত আর্থিক ঝুঁকি এড়ানো যায়।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments