মদ্রাস হাই কোর্টে থালাপতি ভিজয়ের প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করা তামিল চলচ্চিত্র ‘জানা নায়কন’ এর প্রযোজকরা একটি পিটিশন দায়ের করেছেন। কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড (CBFC) ছবির সার্টিফিকেশন পুনরায় দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ছবির নির্ধারিত মুক্তির কয়েক দিন আগে প্রকাশ পেয়েছে।
চলচ্চিত্রটি ৯ জানুয়ারি থিয়েটারে প্রদর্শনের পরিকল্পনা ছিল, তবে এখনো চূড়ান্ত সার্টিফিকেশন সিল পাওয়া যায়নি। এই অনিশ্চয়তা ছবির মুক্তি সময়সূচিকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
‘জানা নায়কন’ ভিজয়ের রাজনৈতিক জীবনে সম্পূর্ণভাবে প্রবেশের আগে তার শেষ চলচ্চিত্র হিসেবে প্রচারিত হয়েছে। চলচ্চিত্রের ঘোষণার পর থেকে ভক্ত ও মিডিয়ার আগ্রহ তীব্রভাবে বাড়ে চলেছে।
CBFC-এর এক্সামিনিং কমিটি পূর্বে ছবির পর্যালোচনা সম্পন্ন করে ‘UA 16+’ সার্টিফিকেটের সুপারিশ করে। কমিটি উল্লেখ করেছে যে ছবিতে হিংসাত্মক দৃশ্য, লড়াই, রক্তাক্ত চিত্র এবং সংক্ষিপ্ত ধর্মীয় উল্লেখ রয়েছে, যা বয়স সীমা নির্ধারণের জন্য প্রাসঙ্গিক।
কমিটির সুপারিশে কিছু কাটছাঁট ও পরিবর্তনের প্রস্তাবও ছিল। প্রযোজকরা এই প্রস্তাবগুলো সম্পূর্ণভাবে মেনে চলার কথা জানিয়েছে এবং সংশোধিত সংস্করণ জমা দিয়েছে।
সার্টিফিকেশন আবেদনটি ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫-এ দাখিল করা হয়। ব্যক্তিগত শোনানির পরে, এক্সামিনিং কমিটি ২২ ডিসেম্বর তার সুপারিশ জানায়। সংশোধিত কপি ২৪ ডিসেম্বর পুনরায় জমা দেওয়া হয় এবং ২৯ ডিসেম্বর যাচাই সম্পন্ন হয়। তখন প্রযোজকদের জানানো হয় যে ‘UA 16+’ সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।
অপ্রত্যাশিতভাবে, ৫ জানুয়ারি ২০২৬-এ একটি ইমেইল পাওয়া যায় যেখানে জানানো হয়েছে যে ছবিটি রিভাইজিং কমিটিতে পাঠানো হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তটি পূর্বের অনুমোদনকে অচল করে দেয়।
CBFC রিভাইজিং কমিটিতে ছবিটি পাঠানোর কারণ হিসেবে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা এবং সশস্ত্র বাহিনীর চিত্রায়ন নিয়ে একটি অভিযোগ উল্লেখ করেছে। তবে অভিযোগের মূল বিষয় ও দায়ী ব্যক্তি প্রকাশ করা হয়নি।
প্রযোজকরা এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে দাবি করেন যে একবার সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে সংশোধনগুলো করা হলে, কোনো অজানা অভিযোগের ভিত্তিতে পুনরায় খোলার কোনো ভিত্তি নেই। তারা এই পুনঃপর্যালোচনার বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
প্রযোজকরা আরও জোর দিয়ে বলেছেন যে যাচাই প্রক্রিয়ার পর কোনো নতুন অভিযোগ কীভাবে উত্থাপিত হতে পারে তা স্পষ্ট নয়। তারা এই বিষয়টি আদালতে তুলে ধরতে চায় যাতে ছবির মুক্তি নির্ধারিত সময়ে হতে পারে।
আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রযোজকরা মদ্রাস হাই কোর্টকে অনুরোধ করেছেন যে CBCB-এর এই অতিরিক্ত বিলম্ব রোধ করে দ্রুত চূড়ান্ত সার্টিফিকেশন প্রদান করা হোক। আদালতের রায় ছবির মুক্তি সময়সূচি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যদি সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া আবার দেরি হয়, তবে ৯ জানুয়ারি নির্ধারিত থিয়েটার মুক্তি বিপন্ন হতে পারে। এই দেরি বক্স অফিস আয়, বিজ্ঞাপন চুক্তি এবং ভিজয়ের রাজনৈতিক পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
এই ঘটনা চলচ্চিত্র শিল্পে সেন্সরশিপ কর্তৃপক্ষ এবং প্রযোজকদের মধ্যে চলমান উত্তেজনার নতুন উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে যখন ছবিতে উচ্চপ্রোফাইল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অংশগ্রহণ থাকে। ভবিষ্যতে এমন বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান হবে তা নজরে থাকবে।



