যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ ২৫টি নতুন দেশকে ভিসা বন্ড তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই দেশগুলোর নাগরিকদের যদি B1/B2 পর্যটক-ব্যবসায়িক ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়, তবে তারা ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারিত ৫,০০০, ১০,০০০ বা ১৫,০০০ ডলারের বন্ড জমা দিতে হবে। বন্ডের পরিমাণ আবেদনকারীর প্রোফাইল ও ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় এবং পেমেন্টের জন্য ইউ.এস. ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম Pay.gov ব্যবহার করা হবে।
বন্ড তালিকায় যুক্ত হওয়া দেশগুলোর মোট সংখ্যা মঙ্গলবারের মধ্যে ৩৮টি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তালিকায় প্রধানত আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত, যার মধ্যে আলজেরিয়া, অ্যাঞ্জোলা, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, বেংগাল, বেনিন, ভূটান, বটসোয়ানা, বারুন্ডি, ক্যাবো ভার্দে, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, কোট দিভোয়ার, কিউবা, জিবুতি, ডোমিনিকা, ফিজি, গ্যাবন, গাম্বিয়া, গিনি, গিনি-বিসাউ, কিরগিজস্তান, মালাওয়ি, মরিটানিয়া, নামিবিয়া, নেপাল, নাইজেরিয়া, সাও টোমে ও প্রিন্সিপে, সেনেগাল, তাজিকিস্তান, তানজানিয়া, টোগো, টোঙ্গা, তুর্কমেনিস্তান, তুভালু, উগান্ডা এবং ভানুয়াটু অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশ ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে এই শর্তে ভিসা আবেদন করতে পারবে।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের ওয়েব পেজে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণের কাজ ভিসা সাক্ষাৎকারের সময়ই সম্পন্ন হবে। আবেদনকারীকে অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে বন্ড জমা দিতে হবে এবং তা সম্পন্ন না হলে ভিসা প্রক্রিয়া অগ্রসর হবে না। এই ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে চালু করা নতুন নীতি, যা নিরাপত্তা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে বিবেচিত।
তালিকায় যুক্ত হওয়া অধিকাংশ দেশ আফ্রিকান ও ল্যাটিন আমেরিকান মহাদেশের, তবে দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশও এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ভূটান, নেপাল এবং তুর্কমেনিস্তান সহ এই দেশগুলোকে একই শর্তে বন্ড প্রদান করতে হবে। তালিকায় প্রথমে যুক্ত হওয়া গাম্বিয়া ও সাও টোমে ও প্রিন্সিপে ইতিমধ্যে অক্টোবর ২০২৫ থেকে এই শর্তে রয়েছে।
বন্ডের সর্বোচ্চ পরিমাণ ১৫,০০০ ডলার নির্ধারিত হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদী অবস্থান বা উচ্চ ঝুঁকির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বন্ডের পরিমাণ নির্ধারিত হওয়ার পরে আবেদনকারীকে তা পরিশোধের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়, এবং পরিশোধ না করলে ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে।
এই নতুন নীতি বাংলাদেশের ভ্রমণ পরিকল্পনাকারী ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা তৈরি করবে। ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় বন্ডের উপস্থিতি আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা ও যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের কনসুলেট ও দূতাবাসের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই পরিবর্তন ভিসা প্রক্রিয়ার সময়সীমা ও খরচ বাড়িয়ে তুলতে পারে। তবে সরকার এই নীতির প্রভাব কমাতে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নির্দেশনা প্রদান করতে পারে, যাতে ভ্রমণকারীরা যথাযথভাবে প্রস্তুত হতে পারেন।
ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে আরও পরিবর্তন আসতে পারে, তাই বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সর্বশেষ আপডেট অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। বন্ডের পরিমাণ ও পেমেন্ট পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা আবেদন প্রক্রিয়াকে সহজ করবে এবং অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব এড়াতে সহায়তা করবে।
সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে এবং ভিসা আবেদনকারীদের সর্বোচ্চ ১৫,০০০ ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে হবে। এই শর্তটি স্টেট ডিপার্টমেন্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে এবং Pay.gov মাধ্যমে পেমেন্ট করা হবে। ভ্রমণ পরিকল্পনা করা সকলের জন্য এই নতুন শর্তের প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।



