যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ট্রুথ সোশ্যালের মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, ভেনেজুয়েলা থেকে ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল উচ্চমানের, নিষেধাজ্ঞা সাপেক্ষ তেল যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তর করা হবে। এই তেলগুলো বাজারমূল্যে বিক্রি হবে এবং বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত অর্থের ব্যবস্থাপনা তিনি নিজেই, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে, করবেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই তহবিল ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা হবে।
হস্তান্তরের পরিমাণের ব্যাপারে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন যে, তেলটি “স্যান্সড” এবং “হাই কোয়ালিটি” হবে, যা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। তেল বিক্রির মূল্য বাজারের বর্তমান দামের সমান হবে, ফলে কোনো ছাড় বা অতিরিক্ত লাভের সুযোগ থাকবে না। তেলের বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত অর্থের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে প্রেসিডেন্টের হাতে থাকবে, যা তিনি উভয় দেশের নাগরিকদের উপকারে ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এই ঘোষণার পটভূমিতে রয়েছে সাম্প্রতিক একটি অপ্রত্যাশিত সামরিক অভিযান, যার ফলে ভেনেজুয়েলার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে ড্রাগ ট্রাফিকিং ও অস্ত্র পাচার সংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে বিচারাধীন। মাদুরোর পরিবর্তে ডেলসি রোড্রিগেজ, যিনি পূর্বে ভেনেজুয়েলার উপ-প্রেসিডেন্ট ছিলেন, অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন।
ডেলসি রোড্রিগেজের শপথ গ্রহণের পরপরই ট্রাম্পের তেল হস্তান্তরের ঘোষণা প্রকাশিত হয়, যা নতুন অস্থায়ী সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিক নির্দেশ করে। রোড্রিগেজের সরকারকে এখন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও আর্থিক সহায়তা অর্জনের জন্য স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতা প্রদর্শন করতে হবে। তেল হস্তান্তর পরিকল্পনা এই প্রক্রিয়ার একটি অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে, যা ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প পূর্বে উল্লেখ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় ১৮ মাসের মধ্যে কার্যক্রম শুরু করতে পারবে এবং বিশাল বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আশাবাদী যে, এই বিনিয়োগগুলো দেশের তেল উৎপাদন পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়াবে। তবে তেল শিল্পের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, ভেনেজুয়েলার উৎপাদন ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে দশকেরও বেশি সময় এবং দশক ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে।
ইউএসের প্রধান তেল সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা এই সপ্তাহে ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পরিকল্পনা করেছে, যা সিএবিএসের মাধ্যমে জানানো হয়েছে। এই সাক্ষাৎকারে তেল হস্তান্তর, বিনিয়োগের শর্তাবলী এবং ভেনেজুয়েলায় কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তদুপরি, যুক্তরাষ্ট্রের তেল শিল্পের নেতৃত্বাধীন এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে পুনরায় প্রবেশ করানো সম্ভব হতে পারে।
বিশ্লেষকরা তেল হস্তান্তরের গ্লোবাল সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তারা উল্লেখ করেন যে, তেল বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে একটি স্থায়ী সরকারী কাঠামো প্রয়োজন, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা দেবে। তদুপরি, তেল প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে বহু বছর সময় লাগতে পারে, ফলে স্বল্পমেয়াদে তেলের দাম হ্রাসে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে না।
ট্রাম্প সম্প্রতি এনবিস নিউজের সঙ্গে কথা বলার সময় উল্লেখ করেন যে, ভেনেজুয়েলা তেল উৎপাদনকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উপকারী, কারণ এটি তেলের দামের পতন বজায় রাখতে সহায়তা করে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী তেল মূল্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে বলে বিশ্বাস প্রকাশ করেন। এই মন্তব্যগুলো তেল হস্তান্তরের অর্থনৈতিক যুক্তি ব্যাখ্যা করে।
ভেনেজুয়েলা তেল হস্তান্তর এবং তেল শিল্পে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণ উভয় দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন মোড় দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের তেল আয় ও ভেনেজুয়েলার পুনর্গঠন প্রকল্পের সমন্বয় ভবিষ্যতে উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করবে। পরবর্তী ধাপে অস্থায়ী সরকার কীভাবে তেল বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত তহবিল পরিচালনা করবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি পাবে তা নির্ধারণকারী মূল বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।



