ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাতের আক্রমণে ভেনেজুয়েলা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজে গ্রেফতার করা হয়, যা চীন-ভেনেজুয়েলা সম্পর্কের ওপর তীব্র প্রভাব ফেলেছে। এই ঘটনা ঘটেছে যখন মাদুরো শীঘ্রই চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংকে “বড় ভাই” বলে প্রশংসা করে, এবং দু’দেশের মধ্যে চলমান ৬০০টিরও বেশি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছিলেন।
মাদুরো এবং শি জিনপিংয়ের এই সাক্ষাৎ চীনের ভেনেজুয়েলা সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ করেছিল; চীন তেল সমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলায় বিশাল বিনিয়োগ করে, এবং দু’দেশের কূটনৈতিক বন্ধনকে কৌশলগত অংশীদারিত্ব হিসেবে গড়ে তুলেছে। চীনা রাষ্ট্রমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দু’নেতা এবং তাদের দলীয় সদস্যরা হাস্যোজ্জ্বলভাবে চুক্তির তালিকা পর্যালোচনা করছেন দেখা যায়।
তবে একই দিনে, মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজে বন্দী করা হয়, যেখানে তিনি চোখে পটভূমি দিয়ে, হ্যান্ডকাফে বাঁধা অবস্থায় দেখা গিয়েছিল। এই দৃশ্যটি চীনের প্রকাশিত ছবির পরপরই প্রকাশিত হয়, যা দুই দেশের সম্পর্কের হঠাৎ পরিবর্তনকে স্পষ্ট করে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের পর চীনা সরকার আন্তর্জাতিক মঞ্চে তীব্র নিন্দা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রকে “বিশ্বের বিচারক” হিসেবে কাজ করার অভিযোগ করে এবং সকল দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে রক্ষা করা উচিত বলে জোর দেয়।
চীন এখন ভেনেজুয়েলা অঞ্চলে তার স্বার্থ রক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান মহাশক্তি প্রতিযোগিতার নতুন মোড়ে তার কৌশল পুনর্বিবেচনা করছে। ট্রাম্পের এই আকস্মিক পদক্ষেপ চীনের দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক পরিকল্পনাকে অস্থির করে তুলেছে, যা পূর্বে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চেয়েছিল।
বহু বিশ্লেষক চীনের শাসন কাঠামোর জন্য এই পরিস্থিতিকে সুযোগ হিসেবে দেখলেও, একই সঙ্গে অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকিও উল্লেখ করে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টি শাসন ব্যবস্থা স্বৈরাচারী স্বভাবের, তবে আন্তর্জাতিক নিয়মের ওপর নির্ভরশীলতা বজায় রাখতে চায়।
বেইজিং দীর্ঘমেয়াদী কৌশলকে অগ্রাধিকার দেয় এবং অস্থিরতা পছন্দ করে না; ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যিক সংঘাতের পরেও চীন ধৈর্য্য বজায় রেখেছে। শি জিনপিং বিশ্বাস করেন যে যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্ব চীনের উৎপাদন ও প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল।
এখন চীনকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে: ভেনেজুয়েলা-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের ফলে তার দক্ষিণ আমেরিকান অংশীদারিত্বের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা যাবে, তা নির্ধারণ করা। এই পরিস্থিতি চীনের আন্তর্জাতিক নিয়মের ওপর নির্ভরশীলতা এবং তার কূটনৈতিক স্বার্থের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করতে বাধ্য করছে।
ভবিষ্যতে বেইজিং কীভাবে পদক্ষেপ নেবে, তা এখনও অনিশ্চিত, তবে স্পষ্ট যে চীন তার কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ওপর নির্ভর করে। ট্রাম্পের আকস্মিক আক্রমণ আন্তর্জাতিক শাসনব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তুলেছে, এবং চীনকে তার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা পুনরায় মূল্যায়ন করতে হবে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা আক্রমণ চীনের জন্য একটি বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে; এটি তার দক্ষিণ আমেরিকান অংশীদারিত্বকে অস্থির করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিযোগিতার নতুন দিক উন্মোচন করেছে। বেইজিং এখন কূটনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে, তার কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার জন্য নতুন পথ অনুসন্ধান করছে।



