একজন রেডিট ব্যবহারকারী দাবি করে যে তিনি একটি খাবার ডেলিভারি অ্যাপের অভ্যন্তরীণ কর্মী এবং কোম্পানির চালক ও গ্রাহকদের শোষণ সম্পর্কে গোপন তথ্য প্রকাশ করছেন। এই পোস্টটি রেডিটের ফ্রন্ট পেজে উঠে ৮৭,০০০ের বেশি আপভোট পেয়ে ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং টুইটারে ২,০৮,০০০ লাইক ও ৩৬.৮ মিলিয়ন ইমপ্রেশন অর্জন করে।
পোস্টের লেখক নিজেকে মদ্যপ অবস্থায় লাইব্রেরির পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে দীর্ঘ বিবৃতি লিখছেন, যেখানে তিনি কোম্পানির অ্যালগরিদমকে চালকদের টিপ ও বেতন চুরি করার জন্য আইনি ফাঁক ব্যবহার করার অভিযোগ করেন। এই ধরনের অভিযোগের ভিত্তি ছিল ডোরড্যাশের বিরুদ্ধে টিপ চুরির জন্য দায়ী করা এক মামলা, যেখানে কোম্পানি ১৬.৭৫ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতা পেমেন্ট করেছে।
তবে পোস্টের বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ কল্পিত বলে প্রকাশ পায়। রেডিটের পোস্টটি একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল এবং কোনো বাস্তব অভ্যন্তরীণ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নয়। পোস্টের লেখককে অনুসরণ করে একটি প্রযুক্তি সংবাদ প্ল্যাটফর্মের সাংবাদিক একটি নিরাপদ মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। কথোপকথনের সময় লেখক নিজের কর্মী ব্যাজের ছবি এবং ১৮ পৃষ্ঠার একটি নথি শেয়ার করেন, যেখানে চালকদের ‘ডেসপারেশন স্কোর’ নির্ধারণের জন্য AI ব্যবহারের বর্ণনা ছিল।
সেই নথিটি বিশদভাবে দেখার পর সাংবাদিক বুঝতে পারেন যে এটি একটি জালসাজি। নথির গঠন ও ব্যাজের ডিজাইন এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যে তা বাস্তবিকভাবে বিশ্বাসযোগ্য দেখায়, তবে সময় ও প্রচেষ্টার দিক থেকে এটি একটি পরিকল্পিত ট্রলিং প্রচেষ্টা বলে মনে হয়। এই ঘটনা ইন্টারনেটে মিথ্যা তথ্যের বিস্তার এবং AI-সৃষ্ট কন্টেন্টের মাধ্যমে জনমত গঠনকে প্রভাবিত করার নতুন ঝুঁকি তুলে ধরে।
ডোরড্যাশের পূর্বের টিপ চুরি মামলার বাস্তবতা ও সমঝোতা পরিমাণ উল্লেখযোগ্য, তবে এই রেডিট পোস্টের বিষয়বস্তু সম্পূর্ণভাবে কল্পিত ছিল। পোস্টটি যে মাত্রায় ভাইরাল হয়েছে, তা দেখায় যে সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া তথ্যের প্রভাব কত বড় হতে পারে, বিশেষ করে যখন তা সত্যিকারের আইনি মামলার সঙ্গে মিশে যায়।
এই ঘটনার পর প্রযুক্তি ক্ষেত্রের বিশ্লেষকরা AI-উৎপন্ন কন্টেন্টের নিয়ন্ত্রণ ও যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা নথি, ছবি ও ভিডিও সহজে বাস্তবিক তথ্যের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলতে পারে, ফলে পাঠক ও সাংবাদিক উভয়েরই সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
সামাজিক নেটওয়ার্কে তথ্যের দ্রুত বিস্তার এবং AI-সৃষ্ট কন্টেন্টের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্ল্যাটফর্মগুলোকে আরও কঠোর নীতি প্রয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীদেরও তথ্যের উৎস ও সত্যতা যাচাই করার জন্য সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার প্রয়োজন।
এই ঘটনাটি প্রযুক্তি সংবাদ ক্ষেত্রে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা ভুয়া তথ্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে AI-উৎপন্ন কন্টেন্টের নিয়ন্ত্রণে আইনগত কাঠামো ও প্ল্যাটফর্মের নীতি উন্নয়ন করা প্রয়োজন, যাতে অনির্ভুল তথ্যের বিস্তার রোধ করা যায় এবং ব্যবহারকারীর বিশ্বাস বজায় থাকে।



