22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকইউক্রেনের শান্তি চুক্তি শর্তে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সৈন্য পাঠানোর ইচ্ছা প্রকাশ

ইউক্রেনের শান্তি চুক্তি শর্তে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সৈন্য পাঠানোর ইচ্ছা প্রকাশ

মঙ্গলবার, পারিসে অনুষ্ঠিত আলোচনায় যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের শর্তে সৈন্য পাঠানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কীর্স স্টারমার এবং ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ এই ঘোষণার মুখ্য বক্তা ছিলেন। এই সমাবেশে ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোকে “ইচ্ছুক গোষ্ঠী” (Coalition of the Willing) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুই দেশ পারিসে একটি “ইচ্ছাপত্র” স্বাক্ষর করে, যেখানে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হলে ইউক্রেনের ভূখণ্ডে সামরিক ঘাঁটি ও সুরক্ষিত অস্ত্রাগার স্থাপনের পরিকল্পনা নির্ধারিত হয়েছে। এই ব্যবস্থা ভবিষ্যৎ আক্রমণ রোধে সহায়ক হবে এবং ইউক্রেনের নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইচ্ছাপত্রে উল্লেখিত শর্তগুলো আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর অধীনে বাস্তবায়িত হবে।

যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক হাব গড়ে তোলা হবে এবং অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণের জন্য সুরক্ষিত সুবিধা তৈরি করা হবে। এই অবকাঠামো দেশের আকাশ ও সমুদ্র রক্ষা, পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী পুনর্গঠনে সহায়তা করবে। হাবগুলোকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় স্থাপন করা হবে যাতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া সম্ভব হয়।

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণের নেতৃত্ব নিতে প্রস্তাব করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান আলোচক স্টিভ উইটকফের মতে, স্থায়ী নিরাপত্তা গ্যারান্টি ও অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী শান্তি অর্জন কঠিন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই গ্যারান্টিগুলো ইউক্রেনের জনগণকে নিশ্চিত করবে যে যুদ্ধ শেষ হলে তা চিরতরে শেষ হবে।

রাশিয়া ইতিমধ্যে সতর্কতা জানিয়ে যে কোনো বিদেশি সৈন্যকে “বৈধ লক্ষ্য” হিসেবে গণ্য করা হবে, তবে এই ঘোষণার ওপর এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বে রাশিয়া ফেব্রুয়ারি ২০২২ থেকে পূর্ণমাত্রায় আক্রমণ চালিয়ে আসছে এবং বর্তমানে প্রায় ২০% ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড দখল করেছে। রাশিয়ার এই সতর্কতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।

পারিসে অনুষ্ঠিত আলোচনায় “ইচ্ছাপত্র” স্বাক্ষরের পাশাপাশি “ইচ্ছুক গোষ্ঠী”র শীর্ষ রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। এই গোষ্ঠীটি ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও পুনর্গঠনকে সমর্থন করার জন্য আন্তর্জাতিক সমন্বয়কে নির্দেশ করে।

স্টারমার সম্মেলনের পরের সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন যে, এই ইচ্ছাপত্র যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং তাদের অংশীদারদের জন্য ইউক্রেনের মাটিতে কাজ করার আইনি কাঠামো তৈরি করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি দীর্ঘমেয়াদে ইউক্রেনের আকাশ, সমুদ্র ও সশস্ত্র বাহিনীর পুনর্গঠন নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এছাড়া, এই কাঠামো ভবিষ্যৎ কোনো আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম হবে।

যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি যাচাই প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ ধরনের সমন্বয় যুদ্ধবিরতি কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ এবং লঙ্ঘন রোধে সহায়তা করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের আলোচক স্টিভ উইটকফের বক্তব্য

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments