22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধঅনুমোদিত অদৃশ্যতা: রাষ্ট্রের সমন্বিত অপরাধের প্রতিবেদন

অনুমোদিত অদৃশ্যতা: রাষ্ট্রের সমন্বিত অপরাধের প্রতিবেদন

কমিশন অব ইনকোয়ারি অন এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের অদৃশ্যতা কেসগুলো কোনো স্বতন্ত্র কর্মকর্তা বা বিচ্ছিন্ন ঘটনার ফল নয়; বরং এগুলো রাষ্ট্রের সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে পরিকল্পিত ও বাস্তবায়িত হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সামরিক, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি সুসংগঠিত সিস্টেমের মাধ্যমে এই অপারেশনগুলো চালানো হয়েছে। এ কারণে নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে অজ্ঞতা বা অস্বীকারের কোনো যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (DGFI), র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (RAB) এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স (NSI) সহ একাধিক সংস্থা এই কার্যক্রমে জড়িত ছিল। এই সংস্থাগুলো কেবল আটকই করেনি, বরং সেগুলোর সমন্বয় ও গোপনীয়তা বজায় রাখতেও ভূমিকা রেখেছে।

DGFI-র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আকবরসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সরাসরি অনুমোদন বা অব্যাহত রাখার দায়িত্বে যুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ করা হয় যে, এই কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে অপহরণ আদেশ না দিলেও, তাদের পদে থাকা সময়ে এই কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন।

অভিযুক্তদের সাধারণ রক্ষা হল যে, তারা অপহরণ আদেশ দেননি বা আটকগুলো তাদের দায়িত্বের আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল। তবে কমিশন এই যুক্তিগুলো প্রত্যাখ্যান করে জানায় যে, অপরাধের দায়িত্ব শুধুমাত্র প্রাথমিক কাজের উপর সীমাবদ্ধ নয়; অদৃশ্যতার অপরাধ চলমান থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত শিকারীর অবস্থান অজানা থাকে এবং আটক অবৈধভাবে বজায় থাকে।

এছাড়া, যারা পরবর্তীতে আটক কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন, তাদেরও চলমান লঙ্ঘনের জন্য দায়িত্ব নিতে হবে। ২০২৪ সালে ব্রিগেডিয়ার আজমির অপহরণ সংক্রান্ত সামরিক তদন্তে দেখা যায়, পরবর্তী কমান্ডাররা যদি তার আটক বজায় রাখে, তবে তারা সমানভাবে দায়ী।

কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার দাবি যে, তারা অদৃশ্যতার বিষয়ে অজ্ঞ ছিলেন, তা কমিশনও অস্বীকার করেছে। প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সংস্থার কাঠামো ও সমন্বয় প্রক্রিয়া এমন যে, শীর্ষ পর্যায়ের জানাশোনা ছাড়া এই ধরনের অপারেশন চালানো সম্ভব নয়।

প্রতিবেদনটি গতকাল চিফ অ্যাডভাইজারের প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত হয়। প্রকাশের পর থেকে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ওপর অতিরিক্ত তদন্তের দাবি বাড়ছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার সূচনা প্রত্যাশিত।

কমিশনের রায় অনুসারে, অদৃশ্যতার অপরাধের দায়িত্ব শুধুমাত্র অপরাধী ব্যক্তি নয়, বরং তাদের সমর্থনকারী সংস্থা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও ভাগ করে নিতে হবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হতে পারে।

অধিকন্তু, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ধরনের অপরাধের ধারাবাহিকতা রোধের জন্য নিরাপত্তা কাঠামোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য আইনসভার সংশ্লিষ্ট বিধান প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন হতে পারে।

সারসংক্ষেপে, কমিশন অব ইনকোয়ারি অন এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সের রিপোর্টে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, অদৃশ্যতা একটি পরিকল্পিত রাষ্ট্র-সমর্থিত অপরাধ, যা একাধিক সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত হয়েছে এবং এর দায়িত্ব শুধুমাত্র নিম্নস্তরের কর্মীদের নয়, বরং শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও ভাগ করতে হবে। এই রায়ের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হয়েছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments