নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ৬ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আইনশৃঙ্খলা সেলসহ বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে যৌথ বাহিনীর ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা শেয়ার করেন। তিনি জানিয়েছেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে আইনের আওতায় আনা এবং অবৈধ অস্ত্রের ত্বরিত উদ্ধারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিশেষ করে ১৫ জানুয়ারি পর থেকে এই অভিযান আরও গতিশীল এবং তীব্র হবে বলে তিনি আশাব্যক্তি প্রকাশ করেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং জেলা পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট নাজির আহমদ খান সহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। সকলের সম্মিলিত আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অপকর্মে কোনো দলকে স্বস্তি দেওয়া হবে না এবং তাদের কার্যকলাপকে জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যায় রূপান্তরিত করা হবে।
সানাউল্লাহের মতে, ডেভিল হান্ট ফেজ-টু অভিযানে ইতিমধ্যে দুইশো অধিক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের সফলতা ভবিষ্যতে আরও বেশি অস্ত্র পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে এবং অবৈধ অস্ত্রের সরবরাহ বন্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে তিনি স্বীকার করেন, জুলাই ২০২৩-এ ঘটিত অভ্যুত্থানের পরেও এখনও প্রায় ১৫ শতাংশ অস্ত্র উদ্ধার করা বাকি রয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নাও হতে পারে।
ইসিরা ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত নির্বাচনের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেননি। তিনি বলেন, ভোটাররা ভোটদান প্রক্রিয়ার দিকে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আছে এবং ভোটকেন্দ্রের প্রস্তুতি যথাযথভাবে চলছে। মিডিয়ার দায়িত্ব হল সঠিক তথ্য সময়মতো জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া, যাতে গুজব ও ভুল তথ্যের বিস্তার রোধ করা যায়।
মিডিয়া কর্মীদের প্রতি তিনি সতর্কবার্তা দেন, অপতথ্য ছড়ানো এবং শেয়ার করা উভয়ই অপরাধমূলক কাজ। সঠিক তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে তারা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
যৌথ বাহিনীর অপারেশন সম্পন্ন হওয়ার পর সানাউল্লাহের নির্দেশে তা মিডিয়ায় প্রকাশ করা হবে, যাতে জনগণকে বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত রাখা যায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো গোষ্ঠী যদি অপকর্ম করে স্বীকৃতি পেতে চায়, তবে তা তাদের জন্য স্বল্পমেয়াদী প্রলুব্ধকর হতে পারে, কিন্তু শেষমেশ তাদের কার্যকলাপ জাতীয় পর্যায়ে প্রকাশ পাবে এবং শাস্তি পাবে।
অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে অবৈধ অস্ত্রের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। সানাউল্লাহ উল্লেখ করেন, ৮৫ শতাংশ অস্ত্র ইতিমধ্যে উদ্ধার হয়েছে, তবে বাকি অংশের সন্ধান ও পুনরুদ্ধার সম্পূর্ণ নিশ্চিত করা কঠিন। তিনি আশাবাদী যে, যেসব অস্ত্র অপরাধী হাতে পড়েছে, তাদের সনাক্তকরণ ও পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হলে জনগণের নিরাপত্তা ও সরকারের প্রতি আস্থা বাড়বে।
বৈঠকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা বিষয়েও আলোচনা হয়। সানাউল্লাহ উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময় সংখ্যালঘুদের মধ্যে স্বার্থপর গোষ্ঠী দ্বারা উত্তেজনা সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে। তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রতি সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানান।
রোহিঙ্গা শিবিরের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শিবিরগুলো বন্ধ করা আবশ্যক, কারণ শিবিরভিত্তিক কিছু কার্যকলাপ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিবিরের কার্যক্রমের ওপর কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সানাউল্লাহের বক্তব্যে মিডিয়া ও জনগণের সহযোগিতা, সঠিক তথ্য প্রচার এবং অবৈধ অস্ত্রের ত্বরিত উদ্ধারকে মূল অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই নীতি ও পদক্ষেপগুলো নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিবেশকে শক্তিশালী করবে।
বৈঠকের শেষে সকল উপস্থিত কর্মকর্তা একমত হন যে, যৌথ বাহিনীর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করে তোলা এবং অপকর্মে জড়িত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। তারা ভবিষ্যতে নিয়মিত সমন্বয় সভা চালিয়ে যাবে, যাতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা যায়।
এইসব পরিকল্পনা ও নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিরাপদ ও স্বচ্ছ রাখার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোকে দৃঢ় করার লক্ষ্য রয়েছে।



