ইলেকশন কমিশন ২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচনের জন্য ৮২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছে, কারণ তারা ব্যাংক ঋণ ডিফল্টের তালিকায় রয়েছে; অন্যদিকে ৩১ জন প্রার্থী উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের ভিত্তিতে তাদের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যেতে পারবে। এই পরিস্থিতি নির্বাচনী আইনের ফাঁকফোঁকরায় প্রশ্ন তুলছে।
প্রতিনিধি আইন (RPO) অনুযায়ী, ঋণ ডিফল্টকারী কোনো নাগরিককে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি নেই। এই বিধানটি আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সৎ ঋণগ্রহীতাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে। তাই ডিফল্টকারী প্রার্থীর নাম তালিকায় থাকলে তার মনোনয়ন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়া উচিত।
তবে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ পাওয়া পর্যন্ত ডিফল্টকারী প্রার্থীকে সাধারণ নাগরিকের মতোই ভোটদানের এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার প্রদান করা হয়। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই সুবিধা বজায় থাকে। ফলে আদালতের হস্তক্ষেপের ফলে নির্বাচনী যোগ্যতার নিয়মের প্রয়োগে অস্থায়ী বিরতি আসে।
কমিশনের সিদ্ধান্তে দেখা যায়, মোট ৮২ জন প্রার্থীর নাম ডিফল্টের কারণে রদ করা হয়েছে, আর ৩১ জনের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালত তাদের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছে। নারায়ণগঞ্জের এক প্রার্থী, যিনি ঋণ ডিফল্টের তালিকায় ছিলেন, উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের ফলে তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়; একইভাবে মৌলভীবাজারের আরেকজন প্রার্থীও আদালতের আদেশে তার মনোনয়ন বজায় রাখতে পেরেছেন। উভয় ক্ষেত্রে আদালতের হস্তক্ষেপের ফলে ডিফল্টকারী প্রার্থীর নির্বাচনী সুযোগ পুনরুদ্ধার হয়েছে।
মুস্তাফা কে মুজেরি, ইনক্লুসিভ ফাইন



