লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত CES ২০২৬-এ প্রযুক্তি জায়ান্টদের পাশাপাশি অপ্রত্যাশিত গ্যাজেটগুলোও নজরে এলো। রেজার, মাইন্ড উইথ হার্ট রোবোটিক্স এবং গোভি লাইফের নতুন পণ্যগুলোকে কেন্দ্র করে এই প্রতিবেদনে মূল বৈশিষ্ট্য ও সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে।
রেজার কোম্পানি Project AVA নামে একটি হোলোগ্রাফিক ডেস্ক সঙ্গী উপস্থাপন করেছে। এই পণ্যটি গত বছর ই‑স্পোর্টস AI কোচ হিসেবে পরিচিত ছিল, তবে এখন ৫.৫ ইঞ্চি আকারের অ্যানিমেটেড হোলোগ্রাম হিসেবে পুনর্নির্মিত হয়েছে।
ব্যবহারকারী Kira নামের অ্যানিমে মেয়ের চরিত্র অথবা Zane নামের পেশীবহুল পুরুষের মধ্যে পছন্দ করতে পারেন। হোলোগ্রামটি বাস্তবসম্মত গতিবিধি, চোখের ট্র্যাকিং, মুখের অভিব্যক্তি এবং লিপ‑সিঙ্কিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর সঙ্গে স্বাভাবিক কথোপকথন করে।
ডিভাইসের মধ্যে নির্মিত ক্যামেরা স্ক্রিন ও ব্যবহারকারীকে পর্যবেক্ষণ করে, যা গেমিং কৌশল বা কাজের পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা করে। যদিও এই পর্যবেক্ষণ কিছু ব্যবহারকারীর জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে, তবে বর্তমানে এটি কেবল ধারণা পর্যায়ে রয়েছে এবং বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
গেমার ও কর্মস্থলের ব্যবহারকারী উভয়ের জন্যই এই হোলোগ্রাফিক সঙ্গী একটি নতুন সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে। গেমের সময় কৌশলগত পরামর্শ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কাজের তালিকা ও ব্যক্তিগত পরামর্শ পর্যন্ত বিভিন্ন ফাংশন একত্রে প্রদান করার লক্ষ্য রয়েছে।
মাইন্ড উইথ হার্ট রোবোটিক্সের An’An নামের AI প্যান্ডা রোবটও CES-এ পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে। এই পণ্যটি বয়স্কদের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে এবং পুরো দেহে সংবেদনশীল সেন্সর স্থাপন করা হয়েছে, যা স্পর্শের সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়।
An’An-এর আবেগগত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারকারীর কণ্ঠস্বর, যোগাযোগের ধরন এবং পছন্দগুলো সংরক্ষণ করে, ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগতকৃত সেবা প্রদান করে। ব্যবহারকারী যত বেশি সময় এই প্যান্ডার সঙ্গে কাটায়, ততই রোবট তার আচরণকে সূক্ষ্মভাবে সামঞ্জস্য করে।
বয়স্কদের একাকিত্ব কমাতে ২৪ ঘন্টা আবেগগত সমর্থন প্রদান করার পাশাপাশি, স্মৃতি সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যবহারকারীদের জন্য দৈনন্দিন কাজের স্মরণ করিয়ে দেওয়া, সক্রিয়তা বজায় রাখা এবং যত্নদাতাদের সঙ্গে তথ্য শেয়ার করা ইত্যাদি ফিচার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গোভি লাইফ একটি কাউন্টারটপ স্মার্ট আইস মেকার উপস্থাপন করেছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে আইস তৈরির প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় করে। এই মেশিনটি AI NoiseGuard প্রযুক্তি দ্বারা সজ্জিত, যা কাজের সময় উৎপন্ন শব্দকে ন্যূনতম স্তরে রাখে, ফলে রান্নাঘরে শান্ত পরিবেশ বজায় থাকে।
NoiseGuard প্রযুক্তি মেশিনের অভ্যন্তরীণ যান্ত্রিক শব্দ ও কম্পন বিশ্লেষণ করে রিয়েল‑টাইমে শোরগোল কমিয়ে দেয়। ফলে ব্যবহারকারী আইস তৈরি করার সময় কোনো বিরক্তিকর শব্দের সম্মুখীন হন না, যা পারিবারিক বা অফিসের পরিবেশে বিশেষভাবে উপকারী।
এই তিনটি পণ্যই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মানব‑মেশিন আন্তঃক্রিয়ার নতুন দিক উন্মোচন করে। হোলোগ্রাফিক সঙ্গী গেমিং ও কাজের দক্ষতা বাড়াতে পারে, AI প্যান্ডা বয়স্কদের মানসিক স্বাস্থ্যের সহায়তা দিতে পারে, আর স্মার্ট আইস মেকার দৈনন্দিন জীবনে আরামদায়ক সুবিধা যোগ করে।
প্রযুক্তি শিল্পের এই প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও ব্যক্তিগতকৃত, সংবেদনশীল এবং শান্তিপূর্ণ পণ্য তৈরি করতে পারে। যদিও কিছু পণ্য এখনও ধারণা পর্যায়ে রয়েছে, তবে CES-এ প্রদর্শিত উদ্ভাবনগুলো দেখায় যে AI এবং হোলোগ্রাফিক প্রযুক্তি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হতে চলেছে।



