বাংলাদেশ ক্রিকেট দল টি২০ বিশ্বকাপের সময় নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ তুলে ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)‑কে ম্যাচের স্থানান্তরের আবেদন করেছে। আইসিসি এখন পর্যন্ত কোনো সরাসরি হুমকি বা কার্যকরী তথ্য পায়নি বলে দলটির নিরাপত্তা সম্পর্কে কোনো বিশেষ মূল্যায়ন প্রকাশ করেনি।
বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) ৪ জানুয়ারি একটি চিঠিতে আইসিসি‑কে অনুরোধ জানায় যে, দলটির খেলাগুলোকে ভারতের বাইরে কোনো ভেন্যুতে স্থানান্তর করা হোক, যাতে খেলোয়াড়, কোচ, বোর্ড সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। চিঠিতে নিরাপদ পরিবেশে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলা হয়েছে।
আইসিসি এই চিঠির পর্যালোচনা করে জানায় যে, বর্তমানে তাদের কাছে কোনো হুমকি নির্দেশক তথ্য নেই এবং তাই কোনো বিশেষ নিরাপত্তা ঝুঁকি চিহ্নিত হয়নি। এই অবস্থানটি বিসিবির উদ্বেগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে বোঝা যায়।
৬ জানুয়ারি অনলাইন বৈঠকে আইসিসি ও বিসিবি কর্মকর্তারা নিরাপত্তা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে আইসিসি প্রতিনিধিরা স্পষ্ট করেন যে, দলটির নিরাপত্তা নিয়ে কোনো হুমকি নির্দেশক মূল্যায়ন না থাকায় তারা এখনো কোনো স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।
বৈঠকের ফলস্বরূপ কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং আইসিসি তার অবস্থান পরিবর্তনের কোনো তাত্ক্ষণিক সংকেত দেয়নি। তবে আইসিসি জানিয়েছে যে, সর্বোচ্চ ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বিসিবিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।
বাংলাদেশের টুর্নামেন্ট সূচি অনুযায়ী দলটি গ্রুপ সি‑তে কলকাতায় তিনটি ম্যাচ খেলবে: ৭ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম ইন্ডিজের বিরুদ্ধে, ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালির সঙ্গে, এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইতে নেপালের সঙ্গে শেষ গ্রুপ ম্যাচ নির্ধারিত।
বিসিবি যে চিঠি পাঠিয়েছে, তা মূলত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) কর্তৃক ২০২৬ আইপিএল থেকে মুস্তাফিজ রহমানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিসিসিআই মুস্তাফিজকে মুক্ত করার নির্দেশ দেয় এবং কলকাতা নাইট রাইডার্স তাৎক্ষণিকভাবে মেনে নেয়।
মুস্তাফিজের আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া সিদ্ধান্তের পর বিসিবি অতিরিক্ত পদক্ষেপ হিসেবে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের ঘোষণা করে। এই পদক্ষেপটি টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা ও ন্যায্যতা রক্ষার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে বলে বোঝা যায়।
আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনার বর্তমান অবস্থা এখনও অনিশ্চিত, তবে দলটি নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। কোচ ও খেলোয়াড়রা নিরাপদ পরিবেশে পারফরম্যান্স প্রদানের জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আইসিসি থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা চললেও, বাংলাদেশি ক্রিকেট ভক্তদের জন্য দলটির গ্রুপ ম্যাচগুলো বড় প্রত্যাশার বিষয়। নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো পরিবর্তন হলে তা দ্রুত জানানো হবে।
এই পর্যায়ে আইসিসি ও বিসিবি উভয়েরই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রয়েছে, এবং উভয় পক্ষের সমন্বয়ই টুর্নামেন্টের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করবে।



