সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত তৃতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার ট্র্যাভিস হেড ১৬৩ রান সংগ্রহ করে দলকে ১৩৪ রানের বড় সুবিধা এনে দিল। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ৩৮৪ রান করে আউট হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার মোট স্কোরে এই পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে দাঁড়ালো।
হেডের এই ইনিংস সিরিজের তৃতীয় শতক, যা ১৬৬ ডেলিভারিতে সম্পন্ন হয়েছে এবং তার ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় পারফরম্যান্স হিসেবে চিহ্নিত। ৩২ বছর বয়সী ব্যাটসম্যানটি প্রথমে উসমান খাওয়াজের ব্যাক ইনজুরির পর শীর্ষ ক্রমে উঠে এসেছিলেন, যখন খাওয়াজ সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং থেকে বাদ পড়েছিলেন।
মিচেল স্টার্কের ২৮ উইকেটের সঙ্গে হেডের ব্যাটিং পারফরম্যান্সও সিরিজের সেরা রানের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। স্টার্ক এখনও সিরিজের প্লেয়ার অফ দ্য সিরিজের শীর্ষপ্রার্থী, তবে হেডের তিনটি শতক তাকে নিজের দিক থেকে শক্তিশালী প্রমাণ দিয়েছে। তার প্রথম শতক অস্ট্রেলিয়ার প্রথম টেস্টকে জয়ী করেছিল, দ্বিতীয়টি অ্যাডিলেডে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছিল, আর এই তৃতীয়টি দলকে এখনো অগ্রগামী অবস্থানে রাখছে।
ইনিংসের শেষে হেড নিজে বলেছিলেন, “আমি মজা করেছি” এবং তার আক্রমণাত্মক শৈলীকে তুলে ধরেছেন। তার এই পারফরম্যান্সে সিরিজে মোট ৬০০ রান, গড় ৬৬.৬৬ অর্জন করে তিনি শীর্ষ স্কোরার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ান ভক্তদের মধ্যে হেডের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সিডনির স্টেডিয়ামে “ট্র্যাভ-বল” টি-শার্ট পরা দর্শকদেখা যায়, যা ইংল্যান্ডের “বাজবল” ট্রেন্ডের একটি হালকা প্রতিক্রিয়া।
হেডের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি স্টিভ স্মিথের অবদানও উল্লেখযোগ্য। হেডের সঙ্গে ব্যাটিং পার্টনার হিসেবে স্মিথ ১২৯ রান অচল অবস্থায় শেষ করেন, আর বৌ ওয়েবস্টার ৪২ রান অচল রেখে শেষ করেন। স্মিথের এই শতক তাকে ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি জ্যাক হবসের পর শীর্ষে নিয়ে এসেছে; শুধুমাত্র ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের ১৯টি শতকই তার চেয়ে বেশি।
স্মিথ উল্লেখ করেছেন, “তার সঙ্গে থাকলে অন্যরা আমাকে ভুলে যায়, তাই আমি আমার কাজ করতে পারি” এবং তিনি এই টেস্টে তার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে দেখা যায় যে হেডের উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের পরেও দলের অন্যান্য সদস্যরা নিজেদের ভূমিকা পালন করতে সক্ষম।
অস্ট্রেলিয়ার এই জয়ী অবস্থান পরবর্তী টেস্টের জন্য দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করেছে, যেখানে দলকে ধারাবাহিকভাবে শীর্ষে থাকতে হবে। সিরিজের বাকি ম্যাচগুলোতে হেড এবং স্মিথের মতো শীর্ষ ব্যাটসম্যানদের ধারাবাহিকতা অস্ট্রেলিয়ার জয় নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি হবে।



