ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার রাতের দিকে বাংলাদেশের জাতীয় পার্লামেন্টের ১৩তম নির্বাচনের প্রস্তুতির প্রেক্ষিতে বিএনপি কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তরিক রহমানের সঙ্গে গুলশান অফিসে সাক্ষাৎ করল। আলোচনার মূল বিষয় ছিল দু’পক্ষের সহযোগিতা বৃদ্ধি, রাজনৈতিক পরিবেশের বর্তমান অবস্থা এবং শ্রমিক অধিকার।
মিটিংটি প্রায় এক ঘন্টা ত্রিশ মিনিটের বেশি সময় স্থায়ী হয় এবং এতে তরিকের পাশাপাশি বিএনপি স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য নাজরুল ইসলাম খান এবং পার্টির উপদেষ্টা মাহদি আমিন উপস্থিত ছিলেন। ইউইউ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ইউইউ দূত মাইকেল মিলার, যিনি পার্টির প্রধান দফতরে তরিকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেয়েছিলেন।
সাক্ষাতের সময় ইউইউ পক্ষ তরিককে জানায় যে তারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা ক্ষেত্রকে বিস্তৃত করে আরও দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেবে। এই প্রতিশ্রুতি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বৃহত্তর প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
কর্মক্ষেত্রের অধিকার সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হয়। ইউইউ প্রতিনিধিদল শ্রমিকের কল্যাণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, তাতে তরিকের দল বলেছে যে বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে আসছে এবং ভবিষ্যতে এই দিকটি আরও শক্তিশালী করা হবে।
ইউইউ দল এছাড়াও আসন্ন নির্বাচনের জন্য একটি বিশাল পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠানোর পরিকল্পনা জানায়। এই মিশন নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গঠন করা হবে এবং দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তরিক রহমান এই সুযোগে উল্লেখ করেন যে বিএনপি দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী সময়মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন এবং নির্বাচনী কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ, মুক্ত ও ন্যায়সঙ্গত ভোটের জন্য পার্টি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে। তার মতে, এই প্রতিশ্রুতি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
এই সাক্ষাৎ তরিকের দেশে ফিরে আসার পর প্রথমবারের মতো কোনো বিদেশি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে গুলশান অফিসে অনুষ্ঠিত হয়। তরিক ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসার পর থেকে আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সরাসরি সংলাপের সুযোগ সীমিত ছিল, তাই এই মিটিংটি পার্টি ও দেশের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে ইউইউয়ের এই সক্রিয় পদক্ষেপ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে এবং আসন্ন নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে, শ্রমিক অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ক আলোচনার মাধ্যমে পার্টির নীতি ও কার্যক্রমে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ইউইউ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তরিকের এই বৈঠক ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছে এবং দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।



