যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে হঠাৎ অপসারণের পর দেশটির তেল শিল্পে মার্কিন কোম্পানিগুলোর পুনরায় প্রবেশের সময়সীমা নির্ধারণ করেন। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তেল সংস্থাগুলো ১৮ মাসের মধ্যে ভেনেজুয়েলায় কার্যক্রম শুরু করতে পারে এবং এর জন্য বিশাল আর্থিক ব্যয় প্রয়োজন হবে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এনবিসি নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত হয়। তিনি উল্লেখ করেন, তেল কোম্পানিগুলোকে প্রয়োজনীয় মূলধন সরবরাহ করতে হবে এবং সেই অর্থের বড় অংশই তারা ব্যয় করবে। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পেট্রোলিয়াম সংস্থার প্রতিনিধিরা সপ্তাহের শেষের দিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে একটি বৈঠকের পরিকল্পনা করেছে, যেখানে ভেনেজুয়েলায় তেল উৎপাদন পুনরুদ্ধারের কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে।
মাদুরোকে অপসারণের পর ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে এবং তেল সংস্থাগুলোর কাজ দ্রুত শুরু হবে। তিনি ১৮ মাসের মধ্যে তেল উৎপাদন বাড়বে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন, যদিও এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য উল্লেখযোগ্য ব্যয় প্রয়োজন হবে। তেল উৎপাদন বৃদ্ধির পূর্বাভাসের পাশাপাশি, ট্রাম্পের দল তেল অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের জন্য কয়েক দিনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার দাবি করে।
ভেনেজুয়েলা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল রিজার্ভের অধিকারী, আনুমানিক ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল প্রমাণিত তেল সংরক্ষণ রয়েছে। তবে ২০০০ সালের শুরুর দিক থেকে দেশটির তেল উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেয়েছে। বর্তমান সময়ে শুধুমাত্র শেভরন সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালাচ্ছে, অন্য বড় আন্তর্জাতিক তেল সংস্থাগুলো এখনও দেশে প্রবেশের অনুমতি পাননি।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে জানান, ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদনকে পূর্বের স্তরে ফিরিয়ে আনতে বহু বছর এবং শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। তেল অবকাঠামোর অবনতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এই পুনরুদ্ধারকে জটিল করে তুলেছে। তবুও, ট্রাম্পের ঘোষণায় মার্কিন তেল সংস্থাগুলোর জন্য নতুন বাজারের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হয়েছে, যা শেয়ারবাজারে তেল সংক্রান্ত স্টকের মূল্য এবং তেল দামের গ্লোবাল গতিবিধিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রের তেল সংস্থাগুলো ১৮ মাসের মধ্যে কার্যক্রম শুরু করে, তবে ভেনেজুয়েলার তেল রিজার্ভের ব্যবহারযোগ্য অংশ ধীরে ধীরে বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে নতুন বিকল্প যোগ হবে। তবে এই প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগের ঝুঁকি, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক তেল মূল্যের ওঠানামা মূল চ্যালেঞ্জ রয়ে যাবে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার ফলে ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পে পুনরায় আগ্রহ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তেল সংস্থাগুলোকে বড় মূলধন, প্রযুক্তি এবং মানবসম্পদ বিনিয়োগ করতে হবে, পাশাপাশি দেশের বিদ্যমান অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। তেল উৎপাদনের পুনরুজ্জীবন দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং রপ্তানি আয় বাড়াতে সহায়তা করবে।
অবশেষে, ট্রাম্পের মন্তব্য ভেনেজুয়েলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের তেল ব্যবসায়িক সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচন করেছে। যদিও বাস্তবায়ন সময়সীমা এবং আর্থিক ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে, তবু ১৮ মাসের মধ্যে তেল সংস্থাগুলোর কার্যক্রম শুরু হওয়া উভয় দেশের জন্য কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। ভবিষ্যতে তেল উৎপাদনের পরিমাণ, বিনিয়োগের পরিমাণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিক্রিয়া নির্ধারণ করবে এই উদ্যোগের সাফল্য।



