সিডনি কিব্রিক, ১৯২৮ সালের ২ জুলাই মিনিয়াপোলিসে জন্মগ্রহণকারী প্রাক্তন শিশুশিল্পী, শনিবার নর্থরিজে অবস্থিত এক হাসপাতালে ৯৭ বছর বয়সে নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ১৯৩০‑এর দশকে ‘আওর গ্যাং’ (লিটল র্যাসক্যালস) সিরিজের ‘ওইম’ চরিত্রে পরিচিতি লাভ করেন, যা তাকে চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় শিশুকলায়ের অংশ করে তুলেছে।
কিব্রিকের পরিবার শৈশবেই লস এঞ্জেলেসে স্থানান্তরিত হয়। তার মা গ্রাউম্যানের চাইনিজ থিয়েটারে সন্তানদের নিয়ে গিয়ে এক চলচ্চিত্র নির্মাতার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, যিনি ছোট্ট শিশুকে স্ক্রিনে ব্যবহার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এ ঘটনার পর কিব্রিক ও তার বড় ভাই লিওনার্ডের অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু হয়।
১৯৩৩ সালে রাউল ওয়ালশের ‘দ্য বাওয়ারি’ ছবিতে প্রথমবারের মতো কিব্রিকের মুখোমুখি হওয়া যায়, যেখানে তিনি ও তার ভাই দুজনই ছোটো ভূমিকা পালন করেন। এই অভিজ্ঞতা তাদেরকে হলিউডের শিশুশিল্পের পথে অগ্রসর করে।
১৯৩৪ সালে লিওনার্ড প্রথম ‘আওর গ্যাং’ ছবিতে উপস্থিত হন এবং সিরিজের প্রধান বিরোধী চরিত্রে পরিণত হন। সিডনি দুই বছর পর, ১৯৩৫ থেকে ১৯৩৯ পর্যন্ত প্রায় দুই ডজন ‘আওর গ্যাং’ ও ‘লিটল র্যাসক্যালস’ শর্টে অংশ নেন। তিনি ‘ওইম’ নামের চরিত্রে অভিনয় করেন, যা ব্রুকলিনের স্ল্যাং অনুযায়ী ‘ওয়ার্ম’ অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং মূলত বুলশিটের সহচর হিসেবে কাজ করে।
‘ওইম’ চরিত্রটি প্রধান বুলশিট বাটচের (টমি বন্ড) পার্শ্বে কাজ করত, যেখানে কিব্রিকের চরিত্রটি বাটচের পরিকল্পনা ও শয়তানী কাজে সহায়তা করত। এই ভূমিকা তাকে শৈশবের দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয় করে তুলেছিল এবং ‘আওর গ্যাং’ সিরিজের হাস্যরসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়ায়।
শুটিংয়ের সময় কিব্রিকের কাজের শর্ত কঠোর ছিল। সকালবেলা দুই ঘণ্টা স্কুলে পাঠ নেওয়ার পর, শিশুরা ছয় থেকে ষোলো ঘণ্টা পর্যন্ত ক্যামেরার সামনে কাটাত। যদিও কাজের পরিমাণ বেশী ছিল, তবে পরিচালক গর্ডন ডগলাসের নেতৃত্বে শুটিং দলটি শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে কাজ করত এবং প্রতিটি শিশুকে সর্বোচ্চ সুযোগ দেওয়া হতো।
কিব্রিকের মতে, শুটিংয়ের সময় বেতন ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৭৫০ ডলার উপার্জন করতেন, যা মন্দার সময়ে একটি বড় আয় ছিল। এই অর্থ তার পরিবারকে আর্থিকভাবে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করেছিল।
লিওনার্ড কিব্রিক, সিডনির বড় ভাই, ১৯৩৪ সালে ‘আওর গ্যাং’ সিরিজে প্রধান বিরোধী চরিত্রে অভিনয় করেন এবং ১৯৩৬ সালে টমি বন্ডের আগমনের আগে সিরিজের প্রধান শয়তানী চরিত্রে ছিলেন। লিওনার্ড ১৯৯৩ সালে ৬৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
সিডনি কিব্রিকের ক্যারিয়ার শৈশবের শেষের দিকে শেষ হয়, তবে তিনি জীবনের বাকি সময়ে চলচ্চিত্রের প্রতি তার ভালোবাসা বজায় রাখেন। তার কন্যা জেন লিপসিকের মতে, কিব্রিকের শেষ দিনগুলো নর্থরিজের একটি হাসপাতালে কাটে, যেখানে তিনি শান্তভাবে বিশ্রাম নেন।
‘আওর গ্যাং’ সিরিজের ভক্তদের জন্য সিডনি কিব্রিকের মৃত্যু একটি বড় ক্ষতি, তবে তার ‘ওইম’ চরিত্রের স্মৃতি এখনও নতুন প্রজন্মের দর্শকদের মধ্যে জীবন্ত। তার কাজের মাধ্যমে শিশুশিল্পের কঠোর শর্ত ও সৃজনশীলতা উভয়ই আজকের চলচ্চিত্র শিল্পে অনুপ্রেরণা জোগায়।



