ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভার্স ইজাবস আগামী বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ঢাকা শহরে উপস্থিত হবেন। তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি মূল্যায়নের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে তার প্রথম সফর শুরু করবেন। এই সফরের পর, নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত তিনি আরও দুইবার দেশে ফিরে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।
ইজাবসের ঢাকা সফর ইইউ মিশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিকল্পিত। সফরের সময় তিনি ইইউর ঢাকা মিশনের প্রধান কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করবেন এবং পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচন ব্যবস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথেও আলোচনা করবেন। এই বৈঠকগুলোতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি, ভোটার তালিকা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা হবে।
বৈঠকের পর, ইজাবস ১১ জানুয়ারি একটি সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করবেন। সম্মেলনে তিনি পর্যবেক্ষণ মিশনের লক্ষ্য, কাজের পরিধি এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে। এই প্রকাশ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইইউ সরকারের বাংলাদেশে নির্বাচনী সহায়তার অঙ্গীকার স্পষ্ট হবে।
ইভার্স ইজাবস লাটভিয়ার নাগরিক এবং বর্তমানে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা ইউরোপীয় এবং আফ্রিকান নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল পরিচালনা করা অন্তর্ভুক্ত, যা তাকে আন্তর্জাতিক নির্বাচন মানদণ্ডের সঙ্গে পরিচিত করেছে। এই পটভূমি তাকে বাংলাদেশে নির্বাচনের গুণগত মান নির্ণয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তুলেছে।
ইইউ মিশন ইজাবসকে প্রধান পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগের আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ ১১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণের পর নেওয়া হয়। সরকারী আমন্ত্রণে ইইউকে দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়। এই আমন্ত্রণের ভিত্তিতে ইইউ মিশন দ্রুত প্রস্তুতি গ্রহণ করে, পর্যবেক্ষক দলের গঠন ও সফরের সূচি নির্ধারণ করে।
অপেক্ষাকৃত সময়ে, প্রধান বিরোধী দলগুলোর প্রতিনিধিরা ইজাবসের সফরকে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলের উপস্থিতি নির্বাচনের ন্যায্যতা বাড়াবে, তবে একই সঙ্গে তারা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর নজরদারি বজায় রাখবে। এই দৃষ্টিভঙ্গি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি ভারসাম্যপূর্ণ আলোচনার সূচনা করতে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে ইজাবসের সফরকে স্বাগত জানিয়ে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইইউ পর্যবেক্ষক দলের উপস্থিতি নির্বাচনের প্রস্তুতি ও বাস্তবায়ন পর্যায়ে গঠনমূলক পরামর্শ প্রদান করবে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করবে। সরকার এও উল্লেখ করেছে যে, পর্যবেক্ষক দলের সুপারিশ অনুসরণ করে নির্বাচনের গুণগত মান উন্নত করা হবে।
ইইউ পর্যবেক্ষক দলের আগমন দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ভোটার তালিকার যথার্থতা, ভোটদান প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং ফলাফল ঘোষণার নির্ভরযোগ্যতা মূল্যায়ন করবেন। এই মূল্যায়ন ভবিষ্যতে নির্বাচনের ফলাফলকে বৈধতা প্রদান করতে সহায়তা করবে।
ইজাবসের সফরের পরবর্তী ধাপ হিসেবে তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পর্যবেক্ষক দলকে নির্দেশনা দেবেন এবং স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াবেন। এছাড়া, তিনি নির্বাচনের আগে এবং পরে উভয় পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করবেন। এই সুপারিশগুলো সরকার ও নির্বাচনী কমিশনের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ইইউ প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবসের ঢাকা সফর দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সরকার, বিরোধী দল এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সকলেই এই সফরকে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উন্নয়নের সুযোগ হিসেবে দেখছেন। নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারিত হওয়ার আগে এই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।



