ঢাকা, ৬ জানুয়ারি – দেশীয় মোবাইল হ্যান্ডসেট নির্মাতারা জাতীয় সরঞ্জাম শনাক্তকরণ রেজিস্ট্রি (NEIR) ব্যবহারের মাধ্যমে দাম বাড়ানোর অভিযোগের পাল্টা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে। একই সময়ে গ্রে মার্কেটের ফোন বিক্রেতা গোষ্ঠী সরকারী নীতির বিরোধে প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে।
NEIR পদ্ধতি ব্যবহার করে দেশীয় হ্যান্ডসেট উৎপাদনকারীরা সমন্বিতভাবে দাম বাড়াচ্ছেন, এমন অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে শিল্পের প্রতিনিধিরা বলেন, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং বাজারের স্বাভাবিক গতিবিধি থেকে বিচ্যুত।
বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (MIAB) এর সভাপতি জাকারিয়া শহীদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাদের কোনো সমন্বিত মূল্য নির্ধারণের পরিকল্পনা নেই এবং তারা বাজারের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সচেষ্ট। তিনি যুক্তি দেন, যদি কোনো দাম বাড়ে তা সরবরাহ শৃঙ্খলের গ্লোবাল চাপের ফল।
বিশ্বব্যাপী হ্যান্ডসেটের মূল উপাদানের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে উৎপাদনকারীরা অতিরিক্ত খরচ বহন করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে MIAB উল্লেখ করেছে, তারা উপাদানের মূল্য বৃদ্ধির সমান অনুপাতে দাম বাড়ায়নি, বরং ক্ষতির অংশ নিজেদের ওপর নিয়েছে।
গত নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে MIAB একাধিক সম্মেলনে নিশ্চিত করে বলেছিল, NEIR বাস্তবায়নের ফলে ভোক্তাদের জন্য দাম বাড়বে না; বরং উৎপাদন বাড়ে, রপ্তানি সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। সেই সময়ের প্রকাশনা অনুযায়ী, নতুন রেজিস্ট্রি সিস্টেমের লক্ষ্য বাজারে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বাড়ানো।
টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি (BTRC) NEIR বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে, আর গ্রে মার্কেটের ব্যবসায়ী গোষ্ঠী মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (MBCB) নীতি বিরোধে রাস্তায় প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা দাবি করে, রেজিস্ট্রি প্রয়োগের ফলে অনিয়মিত বিক্রয় চ্যানেলগুলোকে বাধা দেয়া হচ্ছে।
১ জানুয়ারি থেকে NEIR কার্যকর হওয়ার পরই গ্রে মার্কেটের কিছু বিক্রেতা বিটিআরসি অফিসে হামলা চালায়, যার ফলে ৪৫ জন গ্রেপ্তার হয়। এই ঘটনার পর থেকে গোষ্ঠীটি মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ এবং দোকান বন্ধের মতো বিভিন্ন পদ্ধতিতে তাদের দাবি তুলে ধরছে।
প্রতিবাদীরা যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা মার্কেটসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থানে মানববন্ধন গঠন করে, সরকারী নীতির পুনর্বিবেচনা ও গ্রে মার্কেটের ব্যবসায়ীদের মুক্তি দাবি করে। তাদের দাবি তালিকায় NEIR স্থগিত করা, পুরনো ফোনের আমদানি অনুমোদন এবং গ্রেপ্তারকৃত ব্যবসায়ীদের রিলিজ অন্তর্ভুক্ত।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, বর্তমান বিতর্কের ফলে ভোক্তাদের মধ্যে মূল্য সংবেদনশীলতা বাড়ছে এবং বিক্রয় প্রবণতা সাময়িকভাবে ধীর হতে পারে। তবে উৎপাদনকারীরা যদি উপাদানের খরচ নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয় এবং রপ্তানি চ্যানেল সম্প্রসারিত করে, তবে দীর্ঘমেয়াদে দাম স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে শিল্পের সমন্বিত আলোচনার মাধ্যমে নীতি সংশোধন এবং বাজারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ভবিষ্যৎ প্রবণতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।



