নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলায় ৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার বিকেলে চোর সন্দেহে কিছু যুবকের তাড়া-ধাওয়ার সময় ২৫ বছর বয়সী মিঠুন সরকার পানিতে ডুবে মারা গেছেন। ঘটনাস্থল ছিল উপজেলাভুক্ত চকগৌরি বাজারের কাছাকাছি একটি খারি, যেখানে শিকারের পালিয়ে যাওয়ার সময় শিকারী যুবকটি দৌড়ে গিয়ে লাফ দিয়ে পানিতে পড়ে যায়।
বিকেলের প্রায় একটায় চকগৌরি বাজারে হাটের কাছাকাছি কিছু যুবক মিঠুনকে চোর সন্দেহে তাড়া করে। তাড়া চলাকালে মিঠুন হঠাৎই বাজারের পাশের খারিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং পানিতে ডুবে যায়। তাড়া থামার পর শিকারের কোনো চিহ্ন দেখা যায় না, ফলে আশেপাশের বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার কাজের চেষ্টা করে।
মিঠুনের দেহ পানির নিচে অচল অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তা তৎক্ষণাৎ স্থানীয় রক্ষাকারী দলকে জানানো হয়। রাজশাহীর ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত দেহকে পরে মহাদেবপুরের সদর হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে মৃতদেহ পরীক্ষা (ময়নাতদন্ত) করা হয়।
পুলিশের মতে, মিঠুনের দেহের অবস্থা থেকে স্পষ্ট যে তিনি পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করেছেন। তবে তিনি চোর ছিলেন কিনা, তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তাড়া-ধাওয়ার সময় শিকারের কোনো অস্ত্র বা চুরি করা জিনিসের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মিঠুন সরকার মহাদেবপুরের ভান্ডারপুর গ্রাম পিংকু সরকারের পুত্র। তার পরিবার জানায়, মিঠুনের কোনো অপরাধের ইতিহাস নেই এবং তিনি স্থানীয় সমাজে সম্মানিত ছিলেন। দেহের ময়নাতদন্তের ফলাফল জানার পর পরিবারকে যথাযথ সহায়তা প্রদান করা হবে।
মহাদেবপুরের নওহাটা থানা ফাঁড়ি ইনচার্জ গোলাম মোস্তাফা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্তের দায়িত্ব নেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তৎক্ষণাৎ রাজশাহীর ডুবুরি দলকে ডাকা হয় এবং দেহ উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে মিঠুনের দেহের ময়নাতদন্তের ফলাফল অপেক্ষা করা হচ্ছে, যা ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সহায়তা করবে।
পুলিশের মতে, চোর সন্দেহে তাড়া-ধাওয়া এবং পানিতে ডুবে যাওয়া দুটোই স্বতন্ত্র ঘটনা, তাই তদন্তে উভয় দিকই বিবেচনা করা হবে। তাড়া-ধাওয়ার সময় কোনো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি, এবং শিকারের সঙ্গে কোনো শারীরিক সংঘর্ষের রেকর্ড নেই।
অধিক তদন্তের জন্য স্থানীয় পুলিশ দল এবং রাজশাহী ডুবুরি দলের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। মিঠুনের মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্কতা বাড়িয়ে চোরাচালান ও অনধিকার তাড়া-ধাওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার পর মহাদেবপুরে নিরাপত্তা বাড়াতে স্থানীয় প্রশাসন অতিরিক্ত পুলিশ পেট্রোল বাড়িয়ে দেবে এবং বাজারের আশেপাশে পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সম্প্রদায়ের মধ্যে শোকের পরিবেশ বজায় থাকলেও, আইন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



