মঙ্গলবার সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে লিয়াকতগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজে এক দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী, যিনি এসএসসি নির্বাচনি পরীক্ষায় সাতটি বিষয়েই ফেল করেছেন, ফরম পূরণে বাধা পেয়ে প্রধান শিক্ষকের অফিসে তালা বন্ধ করেন। ঘটনাটি স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি করে।
শিক্ষার্থীকে সাতটি বিষয়েই ফলাফল না পেয়ে পরীক্ষার ফরম পূরণে অনুমতি না দেওয়া হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের পর শিক্ষার্থী ও তার কয়েকজন বন্ধুরা বিদ্যালয়ের ভিতরে গিয়ে শিক্ষকবৃন্দের সঙ্গে তীব্র বিরোধে লিপ্ত হন।
বিরোধের সময় শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের প্রতি অশালীন ভাষা ব্যবহার করে এবং শারীরিকভাবে আঘাতের হুমকি দেয়। এতে উপস্থিত শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
প্রধান শিক্ষক হাসিনা মমতাজ, যিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষার্থীদের আচরণে নিন্দা জানিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধান চেয়েছিলেন। তবে শিক্ষার্থীরা তার কথার প্রতিক্রিয়ায় আরও উত্তেজিত হয়ে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে প্রবেশ করে তালা বন্ধ করে দেয়।
পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষক তালা খুলে প্রধান শিক্ষকের অফিস পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করে তোলেন। তালা বন্ধের সময় শিক্ষার্থীর সঙ্গে সরাসরি কোনো শারীরিক সংঘর্ষ ঘটেনি, তবে শিক্ষার্থীর আচরণকে অনুচিত বলে গণ্য করা হয়।
তালাবদ্ধ করার পর শিক্ষার্থী বলেন, “অনেক শিক্ষার্থী দুই‑তিন বিষয়েই ফেল করলেও তাদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, আমাদের সাতটি বিষয়েই ফেল করার পরেও কেন সুযোগ না দেওয়া হয়?” তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, যদি অন্যদের সুযোগ দেয়া যায় তবে তাদের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা করা উচিত।
শিক্ষার্থীর বাবা স্থানীয় স্তরে বিএনপি দলের সঙ্গে যুক্ত, তবে তিনি এই ঘটনার সম্পর্কে জানেন না বলে জানান। তিনি বলেন, সন্তান যদি এমন কাজ করে থাকে তবে তা নিন্দনীয় এবং শিক্ষার পরিবেশে এমন আচরণ সহ্য করা যাবে না।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি ঘটনাটির বিস্তারিত জানেন না, তবে যদি বিদ্যালয়ে কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপের ইঙ্গিত পাওয়া যায় তবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরকে অবহিত করা হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ফরম পূরণের নীতি স্পষ্ট, তবে শিক্ষার্থীর অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যালয়গুলোকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ: ফলাফল যাই হোক না কেন, শান্তভাবে সমস্যার সমাধান খোঁজা এবং শিক্ষকদের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেওয়া উচিত।



