চেলসি ফুটবল ক্লাব ২০২৬ সালের প্রথম সপ্তাহে এনজো মারেস্কার পদত্যাগের পর লিয়াম রোজেনিয়রকে নতুন প্রধান কোচ হিসেবে ঘোষণা করেছে। ইতালীয় কোচ মারেস্কা, যিনি ২০২৩ সালে ক্লাবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সমস্যার মুখে কঠোর সমালোচনার শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেন। একই সময়ে, চেলসির মালিক ব্লু কো (BlueCo) রোজেনিয়রের চুক্তি স্বাক্ষর করে, যা ২০৩২ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
মারেস্কা ক্লাবের ব্যবস্থাপনা ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে কঠিন অবস্থায় পড়ে ছিলেন। তার তত্ত্বাবধানে চেলসির ফলাফল প্রত্যাশিত মানে পৌঁছাতে পারেনি, ফলে বোর্ডের কাছ থেকে বাড়তি চাপের মুখে তিনি দায়িত্ব ত্যাগ করেন। তার বিদায়ের পর ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দ্রুত নির্ধারিত হয়, যাতে দলটি পুনরায় শীর্ষে ফিরে আসতে পারে।
লিয়াম রোজেনিয়র, ৪১ বছর বয়সী, পূর্বে ফ্রেঞ্চ লিগ ১ ক্লাব স্ট্রাসবুর্গের প্রধান কোচ হিসেবে কাজ করছিলেন। স্ট্রাসবুর্গে তার তত্ত্বাবধানে দলটি বর্তমানে সপ্তম স্থানে রয়েছে এবং তার কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি প্রশংসিত হয়েছে। রোজেনিয়রকে চেলসির নতুন দায়িত্বে নিয়োগের মূল কারণ হল তার অভিজ্ঞতা ও আধুনিক ফুটবল ধারণা, যা ক্লাবের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যকে সমর্থন করবে।
নতুন কোচ রোজেনিয়র চেলসির ঐতিহ্য ও জয়ী সংস্কৃতিকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “এই ক্লাবের স্বতন্ত্র আত্মা ও ট্রফি জয়ের ঐতিহ্য রক্ষা করা আমার প্রধান দায়িত্ব।” তার মতে, প্রতিটি ম্যাচে এই মূল্যবোধকে প্রতিফলিত করা উচিত, যাতে দলটি ধারাবাহিকভাবে সাফল্য অর্জন করতে পারে। এই বক্তব্য ক্লাবের ভক্ত ও বিশ্লেষকদের কাছেও ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে।
স্ট্রাসবুর্গে শেষ প্রেস কনফারেন্সে রোজেনিয়র ক্লাবের প্রতি তার আন্তরিকতা প্রকাশ করেন, যদিও তিনি নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণে আনন্দিত। তিনি বলেন, “স্ট্রাসবুর্গের হৃদয় আমার মধ্যে সর্বদা থাকবে, তবে চেলসির প্রস্তাব অস্বীকার করা সম্ভব ছিল না।” তার এই মন্তব্য স্ট্রাসবুর্গের ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, তবে অধিকাংশই তার ক্যারিয়ারের অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছে।
ব্লু কো, যা চেলসি ও স্ট্রাসবুর্গ উভয় ক্লাবের মালিক, রোজেনিয়রের নিয়োগকে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখেছে। একই সংস্থা দুটি ক্লাবের মধ্যে সম্পদ ও নীতি ভাগাভাগি করে, যা উভয় দলের জন্য দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে। রোজেনিয়রের পূর্ববর্তী কাজের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে, ব্লু কো চেলসির ভবিষ্যৎ গঠনকে আরও মজবুত করতে চায়।
রোজেনিয়রের চুক্তি ২০৩২ সাল পর্যন্ত চলবে, যা ক্লাবকে দীর্ঘমেয়াদে কোচিং দৃষ্টিভঙ্গি স্থাপন করার সুযোগ দেবে। এই সময়সীমা ক্লাবের তরুণ খেলোয়াড়দের বিকাশ ও নতুন কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রোজেনিয়র ইতিমধ্যে দলের প্রশিক্ষণ সেশন ও ট্যাকটিক্যাল মিটিংয়ে অংশগ্রহণ শুরু করেছেন, যাতে দ্রুতই তার ফুটবল দৃষ্টিভঙ্গি মাঠে প্রকাশ পায়।
চেলসির পরবর্তী ম্যাচটি ইউরোপীয় কাপের গ্রুপ পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে রোজেনিয়রের প্রথম পরীক্ষা হবে। এই ম্যাচে তিনি দলকে কীভাবে সাজাবেন ও কোন পরিবর্তন আনবেন, তা ভক্ত ও বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে থাকবে। রোজেনিয়রের নেতৃত্বে চেলসির পারফরম্যান্স কেমন হবে, তা আগামী সপ্তাহের ফলাফলে স্পষ্ট হবে।



