প্যারিসে আজ ইউক্রেনের স্থায়ী শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে ইউরোপীয় নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে গঠিত “কোয়ালিশন অফ দ্য উইলিং” এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিনিধি দল একত্রিত হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি যুদ্ধ শেষের পরিকল্পনা ৯০ শতাংশ সম্পন্ন বলে জোর দিয়ে, কোনো পক্ষই আমেরিকান সমর্থন হারাতে চায় না। তবে বৈঠকের পটভূমিতে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দাবি নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে ছিল, যা আলোচনার পরিবেশকে তীব্র করে তুলেছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলা হস্তক্ষেপ এবং গ্রিনল্যান্ডকে জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে দাবি করার কথা উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। গ্রিনল্যান্ড পৃথিবীর বৃহত্তম দ্বীপ, জার্মানির ছয় গুণ বড়, আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত এবং ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। প্যারিস বৈঠকে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের সামনে ট্রাম্পের বিশেষ envoy স্টিভ উইটকফ এবং তার দামাদার জ্যারেড কুশনার উপস্থিত ছিলেন।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী ইউরোপীয় সহকর্মীদের চাপের মুখে গ্রিনল্যান্ড বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বিরোধে না ফেলার চেষ্টা করেন, কারণ তা ইউক্রেনের সমর্থনে প্রভাব ফেলতে পারে। ইউরোপীয় বড় দেশগুলো গ্রিনল্যান্ডের বিষয়কে ইউক্রেনের আলোচনার থেকে আলাদা রাখতে চেয়েছিল, তবে ওয়াশিংটন ও কোপেনহেগেনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ন্যাটো-ইউএস সমন্বয় প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে। ফলে প্যারিসে উপস্থিত ইউরোপীয় নেতারা একটি যৌথ বিবৃতি জারি করেন, যেখানে গ্রিনল্যান্ডকে ন্যাটোর অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আর্কটিকের নিরাপত্তা ন্যাটো মিত্রদের সমন্বয়ে নিশ্চিত করা উচিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসনকে স্বীকৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, “ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের বিষয় শুধুমাত্র তাদেরই সিদ্ধান্তের অধীন”। এই অবস্থান গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডেরিক নিলসেনের স্বাগত পায়। তবে সমালোচকরা উল্লেখ করেন যে, বিবৃতি প্রস্তুতিতে সময়সাপেক্ষতা এবং স্বাক্ষরকারী দেশের সীমিত সংখ্যা ইউরোপের ঐক্যকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করে না।
এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের যুদ্ধবিরতি ও শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা, যেখানে জেলেনস্কি ইতিমধ্যে ৯০ শতাংশ অগ্রগতি দাবি করেছেন। তবে গ্রিনল্যান্ডের ন্যাটো-ইউএস সংযোগ নিয়ে আলোচনার ফলে বৈঠকের পরিবেশে একটি অপ্রত্যাশিত উত্তেজনা যুক্ত হয়েছে। ইউরোপীয় দেশগুলো এখন গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা বিষয়কে ন্যাটোর কাঠামোর মধ্যে সমন্বয় করার পাশাপাশি, ইউক্রেনের শান্তি প্রক্রিয়াকে অগ্রসর রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন বজায় রাখার দ্বৈত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
ভবিষ্যতে, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও ন্যাটো সম্পর্কিত বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান হবে, তা ইউরোপের সামগ্রিক কূটনৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করবে। একই সঙ্গে, ইউক্রেনের শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ও ইউরোপীয় সমর্থনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। প্যারিসে গৃহীত এই যৌথ বিবৃতি, যদিও সীমিত স্বাক্ষরকারী দেশসহ, ন্যাটো-ইউএস সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা এবং ডেনমার্ক-গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, যা পরবর্তী কূটনৈতিক আলোচনার ভিত্তি হতে পারে।



