গত নভেম্বরের একটি বৃষ্টির শুক্রবার, ছয়জন চিত্রনাট্যকার একত্রিত হয়ে অস্কার প্রার্থী মূল ও অভিযোজিত স্ক্রিপ্টের ওপর আলোকপাত করেন। এই রাউন্ডটেবিলটি থ্রিলার হেডলাইনসের লেখক সম্পাদকীয় বিভাগে আয়োজন করা হয় এবং চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান প্রবণতা তুলে ধরে।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন ক্লিন্ট বেন্টলি, হিকারি, নোয়া ওপেনহাইম এবং উইল ট্রেসি, পাশাপাশি গিলার্মো দেল টোরো, ব্র্যাডলি কুপার এবং উইল ট্রেসি। বেন্টলি ও হিকারি মূল স্ক্রিপ্টের লেখক, আর দেল টোরো, কুপার ও ট্রেসি অভিযোজিত স্ক্রিপ্টের প্রতিনিধিত্ব করেন। প্রত্যেকের কাজই অস্কার নোমিনেশনের তালিকায় রয়েছে।
এই ছয়টি স্ক্রিপ্টের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হল ট্রমা ও শোকের গভীর অনুসন্ধান। ক্লিন্ট বেন্টলি তার নিজের জীবনের দু’জন পিতামাতার মৃত্যুর পর “ট্রেন ড্রিম” চলচ্চিত্রের সহ-লেখক হিসেবে শোকের অবশিষ্ট চিহ্নকে স্ক্রিনে তুলে ধরেছেন। হিকারি তার শৈশবের সাত বছর বয়সের অভিজ্ঞতা থেকে রেন্টাল ফ্যামিলির মিয়া চরিত্র গড়ে তোলেন, যা ব্যক্তিগত স্মৃতিকে গল্পের কেন্দ্রে রাখে।
রাউন্ডটেবিলটি বৃষ্টির ফোঁটা ভেজা সকালবেলায়, নভেম্বরের একটি শুক্রবারে অনুষ্ঠিত হয়। গিলার্মো দেল টোরো “ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন” নিয়ে, ব্র্যাডলি কুপার “ইস দিস থিং অন?” নিয়ে, উইল ট্রেসি “বুগোনিয়া” নিয়ে এবং নোয়া ওপেনহাইম “এ হাউস অফ ডায়নামাইট” নিয়ে তাদের কাজের মূল ধারণা শেয়ার করেন। সবাই একে অপরের সৃষ্টিকর্মের সূচনা, গঠন ও প্রভাব নিয়ে গভীর আলোচনা করেন।
চলচ্চিত্রের সংলাপকে তারা সঙ্গীতের সঙ্গে তুলনা করেন; কথোপকথন যেন নোটের মতো, যা সঠিকভাবে সাজালে পুরো দৃশ্যের মেজাজ নির্ধারিত হয়। সংলাপের ছন্দ, স্বর ও গতি কীভাবে চরিত্রের অভ্যন্তরীণ দুঃখকে প্রকাশ করে, তা নিয়ে তারা উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করেন।
লেখকের ভূমিকা কখনো কখনো পরিচালনা, প্রযোজনা বা ক্যামেরা পরিচালনার সঙ্গে মিশে যায়। ব্র্যাডলি কুপার নিজে পরিচালনা, প্রযোজনা ও ক্যামেরা কাজের দায়িত্ব নেন, পাশাপাশি তিনি উইল আরনেট ও মার্ক চ্যাপেল-এর সঙ্গে স্ক্রিপ্ট লিখেছেন। এই বহুমুখী কাজের ফলে লেখকের সৃষ্টিশীল দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তা নিয়ে তীব্র আলোচনা হয়।
প্রতিটি লেখকের পেশাগত পটভূমি ভিন্ন; কেউ অভিনেতা, কেউ সাংবাদিক, আবার কেউ রাজনীতিবিদ। হিকারি বলেন, চরিত্রই সবসময়ই প্রথম অগ্রাধিকার; চরিত্রের কাজ ও প্রেরণা গভীরভাবে গবেষণা করে গল্প গড়ে তোলেন। ব্র্যাডলি কুপারও একই পদ্ধতি অনুসরণ করেন; তিনি চরিত্রের পেশা ও জীবনের পরিবেশ বিশদভাবে জানার পরই গল্পের কাঠামো তৈরি করেন।
নোয়া ওপেনহাইম তার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে স্ক্রিপ্ট লেখার প্রক্রিয়া বর্ণনা করেন, যেখানে তিনি বলেন যে বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতে কল্পনা গড়ে তোলা সবচেয়ে শক্তিশালী পদ্ধতি। তিনি স্ক্রিপ্টে বাস্তবতার স্পর্শ যোগ করতে গবেষণা ও সাক্ষাৎকারের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
সারসংক্ষেপে, এই রাউন্ডটেবিলটি অস্কার প্রার্থী স্ক্রিপ্টের সৃষ্টিকর্তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রযুক্তিগত কৌশলকে একত্রে উপস্থাপন করেছে। ট্রমা ও শোকের থিমকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা এই গল্পগুলো দর্শকদের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
চলচ্চিত্রপ্রেমীরা যদি এই কাজগুলোকে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করেন, তবে শোকের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার শিল্পকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপলব্ধি করতে পারবেন। ভবিষ্যতে এই স্ক্রিপ্টগুলোকে বড় পর্দায় দেখতে পাবার সম্ভাবনা রয়েছে, যা শিল্পের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।



